fbpx
দেশহেডলাইন

কংগ্রেস বিধায়কদের বিদ্রোহ, এবার সংকটে হেমন্ত সোরেন সরকার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানের পর এবার ঝাড়খণ্ড। বড়সড় অসন্তোষ কংগ্রেস শিবিরে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রামেশ্বর ওরাংয়ের ভুমিকায় অসন্তুষ্ট বিধায়করা দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ঘোষণা করে দিয়েছে। মধ্যে তারা দিল্লি গিয়ে আহমেদ প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নয়, ঝাড়খন্ড সরকারের শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাজকর্মেও যে তারা খুশি নয় তাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এআইসিসিকে।

গতবছরই ঝাড়খণ্ডে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করে কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোট। মোট ৮১ আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় শাসক শিবির পায় ৪৭টি আসন। এর মধ্যে জেএমএম  একাই পায় ৩০ আসন। কংগ্রেস  পায় ১৬টি আসন এবং আরজেডি পায় ১টি আসন। বিজেপির দখলে যায় ২৫টি আসন। পরে অন্য দল থেকে ২ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন কংগ্রেস শিবিরে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই জোট শিবিরে অসন্তোষ শুরু হয়ে গেল। সুত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাজে সন্তুষ্ট নন অন্তত ৮-৯ জন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁদের দাবি, হেমন্তের এই সরকার পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের প্রতিচ্ছবি মাত্র। মানুষের সমস্যার কথা না শুনে সরকার চটকদারিতে বিশ্বাস রাখছে। এদের মধ্যে অসন্তোষ আছে দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও। অনেকেরই দাবি, দলে উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছেন না তাঁরা।

সূত্রের খবর, কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের পর কংগ্রেস নেতৃত্বে কোনওরকম টালমাটাল পরিস্থিতি দেখা দিলে, সেখানেও ‘অপারেশন লোটাস’ মঞ্চস্থ হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে আছেন জামতাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি । এছাড়াও উমাশঙ্কর আকেকা, রাজেশ কাশ্যপের মতো বর্ষীয়ান নেতারাও অসন্তুষ্ট। আরও ছ’জন রয়েছেন এদের দলে। ইতিমধ্যেই আনসারির নেতৃত্বে এদের মধ্যে কয়েকজন দিল্লি উড়ে গিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অভিযোগ জানানো। কিন্তু রাহুলের সাক্ষাৎ তাঁরা পাননি। তবে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত সচিব আহমেদ প্যাটেল। শোনা যাচ্ছে, এদের অসন্তোষের মূল কারণ, মন্ত্রিত্ব। রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্বেও ইরফান আনসারি মন্ত্রিত্ব পাননি। আবার রামেশ্বর ওরাং প্রদেশ সভাপতি হওয়া সত্বেও মন্ত্রীপদে বসে আছেন। এই নিয়েই জোট সংকট। সুযোগ বুঝে আসরে নেমেছে বিজেপিও। সূত্রের খবর, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। দ্রুত সমস্যা না মেটালে ঝাড়খণ্ডেও অদূর ভবিষ্যতে রাজস্থানের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন: একুশে সফল হয়ে মায়ের হাতে পায়েস খেতে চান দিলীপ ঘোষ

রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতা একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতায় থেকেও বিদ্রোহের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিদ্রোহের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথকে। শচীন পাইলটের রাজস্থানের টালমাটাল অবস্থা। এই সংকটের মাঝে নতুন করে ঝাড়খন্ড কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দুশ্চিন্তায় ফেলেছে এআইসিসি-কে (AICC)। এখন দেখার এই যে সেখানে সোনিয়া গাঁধী ও রাহুল গাঁধী কি পদক্ষেপ নেন?

 

Related Articles

Back to top button
Close