fbpx
অফবিটহেডলাইন

পুজোতে ঘরেই ফিউশন মিষ্টি বানিয়ে তাক লাগান…

দোয়েল দত্ত: সারা বছর যতই ডায়েটিং চলুক, পুজোর কয়েকটা দিন আর বিজয়ার সময়ে মিষ্টি ছাড়া ঠিক জমে না৷ আর এখন তো সবেতেই ফিউশনের টাচ৷ মিষ্টিই বা বাদ থাকে কেন৷ কী ভাবছেন ফিউশন মিষ্টি কোন দোকান থেকে কিনবেন, দোকান ছাড়ুন, বাড়িতেই অনায়াসে বানিয়ে মন জয় করতে পারেন বাড়ির লোকের৷ সেরকমই কয়েকটি ফিউশন মিষ্টির রেসিপি দেওয়া হল–

 ) ক্ষোয়া আমসত্ত্বের রোল

উপকরণ: আমসত্ত্ব চৌকো ২ ইঞ্চির চারটে, কাজু ও পেস্তা অৰ্ধেক গুঁড়ো করা ১ চা- চামচ করে, কিশমিশ ১ চা-চামচ, ঘি ২ চা-চামচ, ক্ষোয়াক্ষীর ৭৫ গ্রাম, চিনি পরিমাণমতো, গুঁড়ো দুধ ২ চা-চামচ, অল্প ভাজা সুজি,  মিল্কমেড ২ টেবিলচামচ, লবঙ্গ সাত-আটটা, দুধ অর্ধেক কাপ, দুধে ভিজিয়ে রাখা একচিমটে জাফরান, ছোটএলাচ গুঁড়ো৷

প্রণালী: প্রথমে কিছুটা মিল্কমেড, সামান্য গুঁড়ো দুধ, সামান্য ক্ষোয়াক্ষীর একপাশে সরিয়ে রাখুন৷ তারপর প্যানটা খানিকক্ষণ আঁচে বসিয়ে তাতিয়ে তাতে ঘি দিয়ে গরম কন, এবার এর মধ্যে সামান্য ভাজা সুজি, উপর দিযে খানিকটা মিল্কমেড, গুঁড়ো দুধ, ক্ষোয়াক্ষীর, অৰ্ধেক গুঁড়ো করা কাজু, পেস্তা ও গোটা কিশমিশ দিয়ে ভালো করে নেড়ে শুকনো মণ্ড তৈরি করুন৷ ব্যস পুর তৈরি৷  নামিয়ে ঠান্ডা হলে আমসত্ত্বের পাতলা পিসে পুর ভরে রোল করে লবঙ্গ দিয়ে আটকে দিন মুখটা যাতে বেরিয়ে না আসে৷

এবারে প্যানে দুধ ঢেলে তা ঘন করে তাতে আরও একটু মিল্কমেড, গুঁড়ো দুধ, ক্ষোয়াক্ষীর ও আগে থেকে দুধে ভিজিয়ে রাখা জাফরান, ছোটএলাচ গুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করে গ্যাস অফ করে চিনি মেশান৷ এতে জল কাটার ভয়টা থাকে না৷ আমসত্ত্বের রোলগুলি একটি প্লেটে সাজিয়ে তার উপর এই রসটা ঢেলে ফ্রিজে রেখে একটু ঠান্ডা হলে পরিবেশন কন৷

২) চকোলেট পনির ভাপা লেয়ারড সন্দেশ

উপকরণ: পনির ২০০ গ্রাম, চিনি ৪ বড় টেবিল চামচ, বোর্নভিটা গুঁড়ো ২ বড় টেবিলচামচ, কাজুগুঁড়ো ৫০ গ্রাম, ঘি প্রয়োজন মতো, গোলাপজল কয়েকফোঁটা (গন্ধ তীব্র মনে হলে ব্যবহার না-ও করতে পারেন), সামান্য সাদাতেল ব্রাশিংয়ের জন্য৷

প্রণালী: প্রথমে পনিরটা অল্প একটু জল দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে৷ এরপর ওটাকে খুব সাবধানে দুভাগ করুন যাতে ভেঙে না যায়৷ একভাগ সাদা রাখুন আর একভাগে বোর্নভিটা যোগ করে ব্রাউন রং দিন৷ ওই পনির ব্লেন্ড থেকে অর্ধেক তুলে নিয়ে তাতে কিছুটা চিনি ও  দু ফোঁটা গোলাপজল দিয়ে মিক্সিতে আরও একবার ব্লেন্ড করতে হবে৷ খেয়াল রাখবেন খুব বেশি পাতলা যাতে হয়ে না যায়৷  বাকি পনিরের পেস্টে চিনি ও আবারও বোর্নভিটা মেশাতে হবে৷ বোর্নভিটায় যেহেতু মিষ্টি থাকে, তাই দ্বিতীয় মণ্ডটায় প্রথম মণ্ডটার তুলনায় কম চিনি দিন৷ এবারে একটা মুখবন্ধ কৌটোয় চারিদিকে সাদাতেল ব্রাশিং করে সাদার উপরে চকোলেট লেয়ার দিন, তার উপরে কাজুগুঁড়ো সামান্য সামান্য করে দিন৷ এভাবে যতগুলো ইচ্ছে লেয়ার করে কৌটোর মুখ ভালো করে বন্ধ করে (যাতে জল ঢুকে না যায়) কড়াইতে কুড়ি মিনিট স্টিমে রাখুন৷ খোলার পরে খুব সাবধানে বের করবেন৷

৩) ছানাখোয়াক্ষীরের যুগলবন্দিতে মোমো

উপকরণ: ময়দা ৩০০ গ্রাম, এলাচগুঁড়ো হাফ চা-চামচ, চিনি পরিমাণমতো, কাজু-কিশমিশ ২০০ গ্রাম, ময়ানের জন্য সাদাতেল ২ টেবিলচামচ, সাদাতেল পাক দেওয়ার জন্য ৩ টেবিলচামচ৷

প্রণালি: কড়াইতে সাদাতেল দিয়ে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে পাক দিন৷ এবারে ময়দা ময়ান দিয়ে মেখে লুচির মতো লেচি কেটে বেলে পুরটা ভিতরে দিয়ে মোমোর আকারে গড়ে ধারগুলো জল দিয়ে বন্ধ করে দিন৷ এবারে একটা বন্ধ কৌটোয় তেল গ্ৰিজ করে মোমোগুলো দিয়ে ১৫ মিনিট স্টিমে বসিয়ে রাখলেই তৈরি আপনার ছানা-খোয়াক্ষীরের মোমো৷

৪) চিঁড়ের ক্রিমি মিষ্টিপুলি

উপকরণ: জলে ভিজিয়ে তুলে ফেলা পাতলা চিঁড়ে ২০০ গ্রাম, ময়দা ২ টেবিলচামচ, চিনির গুঁড়ো আন্দাজমতো, সামান্য জল, কাজু, কিশমিশ গুঁড়ো করা ১ বড়টেবিলচামচ, সাদাতেল ৪ বড় টেবিলচামচ, ফ্ৰেশ ক্রিম ২ টেবিলচামচ, মিষ্টি দই ১০০ গ্রাম৷

প্রণালি:  প্রথাম জলে ভেজানো চিঁড়ে, ময়দা, গুঁড়ো চিনি সামান্য জল দিয়ে মেখে মণ্ড তৈরি করে তাকে বাটির আকারে গড়ুন৷ এর মাঝখানে কাজু-কিশমিশ দিয়ে মুড়ে চ্যাপ্টা করে পুর ভরা পরোটার লেচির মতো গড়ুন৷ এরপরে সাদাতেলে ডিপফ্রাই করুন৷ তুলে পেপার ন্যাপকিনের উপর রাখুন৷ তার আগে মিষ্টিদই ও ফ্রেশ ক্রিম খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন, যাতে ডেলা না পাকে৷ যে-পাত্রে পরিবেশন করবেন সেই পাত্ৰে আগে থেকে ওই ফেটানো দই-ক্রিমের মিশ্রণটা দিয়ে উপরে চিঁড়র মিষ্টিগুলি সাজান এবং মিষ্টিগুলির উপরেও দই-ক্রিমের মিশ্রণটি দিন, যাতে মিষ্টিগুলি কাটলে দই ও ক্রিমের মিশ্রণও একসঙ্গে আসে৷ লোকে তারিফ না করে পারবে না৷

 

 

Related Articles

Back to top button
Close