fbpx
অন্যান্যআন্তর্জাতিককলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশলাইফস্টাইলহেডলাইন

বাড়ির পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর ও করোনা সেবা উপযোগী গড়ে তুলুন

শিবানী দাস: করোনা-সংক্রমিত রোগিদের অনেককেই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়৷ রোগীর অবস্থা কেবল খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়ার প্ৰয়োজন হয়৷ সংক্রমণের সংখ্যা যেহেতু বেড়ে চলেছে এবং যে কেউ এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারেন৷ তাই নিজের বাড়িটিকে সেভাবে প্ৰস্তুত রাখা প্ৰয়োজন৷ বাড়িতে বসে চিকিৎসার মাধ্যমেই অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব৷

এ-বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্ৰের একটি রিসাৰ্চ প্ৰজেক্টের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি পরামৰ্শ তুলে ধরা হল

সেজন্য বাড়িতে বসে করোনা বা কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে পারার বাড়ির পরিবেশটিকে স্বাস্থ্যকর ও সেবা উপযোগী করে তুলতে হবে৷ বাড়ির আয়তন যা-ই হোক না কেন, তার মাঝেই প্ৰয়োজনীয় আয়োজন ও সতৰ্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে৷ রোগির সেবা ও পরিচৰ্যার জন্য আলাদা স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ৰতিও বাড়তি নজর থাকা সহ যত্ন নিতে হবে৷ কারণ বাকিদের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখাই এক্ষেত্ৰে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷

বাড়ির পরিবেশ কীভাবে স্বাস্থ্যকর রাখতে হবে

পুরো বাড়ি আবৰ্জনামুক্ত রাখা আবশ্যক৷ বাড়ির ভেতরে রোগির থাকার জায়গা বা সংক্রমিত স্থান ও এর বাইরে পরিষ্কার জায়গা চিহ্ণিত করুন। পরিবারের সদস্যদের মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে প্ৰাৰ্থনা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা প্ৰয়োজন৷ রোগির হাঁচাচলার জায়গা আবৰ্জনামুক্ত করা উচিত এবং রোগির ব্যবহারের পরপরই পরিষ্কার করা প্ৰয়োজন৷

* শিশুদের জন্য নিৰ্ধারিত জায়গা ঠিক রাখুন৷ শিশুদের খেলার ব্যবস্থা এবং সৃজনশীল কাজের ব্যবস্থা রাখা দরকার৷ বাড়ির একটা বারান্দা বা অন্য কোনও স্থান সুন্দর করে গুছিয়ে তৈরি করে নিন৷ যেখানে পরিবারের কোনও সদস্য নিজের মতো কিছু সময় কাটাতে পারেন৷

পাঁচটি মূল বিষয়: বাড়িতে বসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্ৰে পাঁচটি প্ৰধান বিষয়ে নজর রাখতে হবে৷ প্ৰথমত আইসোলেশন, দ্বিতীয়ত নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, তৃতীয়ত চিকিৎসা ও থেরাপি, চতুৰ্থত প্ৰকৃতির সঙ্গে সংযোগ এবং পঞ্চমটি হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা৷

কী কী উদ্যোগ নিতে হবে

এ বিষয়ে কিছু দরকারি গাইডলাইন তুলে ধরা হল, যাতে সাধারণ মানুষ কোনও খরচ ছাড়াই সহজে বাড়িতে রোগির সেবা ও পরিবারের সদস্যদের সুস্থ রাখা সম্ভব হতে পারে৷

* বাড়ির একটা রুমকে কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগির জন্য তৈরি করতে হবে একটি আইসোলেশন রুম৷ আলাদা রুমের পাশাপাশি রোগির জন্য সংযুক্ত বাথমের ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো৷ সেইসঙ্গে মটি থেকে বাড়তি আসবাবপত্ৰ সরিয়ে নেওয়া প্ৰয়োজন, এতে মটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সুবিধা হবে৷

* যে মটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যার কিংবা আয়তনের জানালা আছে, সেটা রোগির সেবার জন্য তৈরি করুন। কারণ খোলা জানালা, মুক্ত হাওয়া, সূৰ্যের আলো এবং জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য রোগীর মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখবে৷

ঘরটিতে কাৰ্পেট থাকলে সরিয়ে ফেলুন৷ কেননা পরিষ্কার করা খুব কঠিন৷ তাছাড়া যদি রোগির রুমে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও থাকতে হয়, সেক্ষেত্ৰে রুমটিকে পৰ্দা দিয়ে আলাদা করে ফেলতে পারলে ভালো হয়৷

* রোগির বিছানা যথাসম্ভব জানালার কাছাকাছি রাখুন, যাতে রোগি বিছানাতে শুয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দেখতে পারেন৷ তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে বাতাসের প্ৰবাহ রোগীর রুম থেকেই জানালা দিয়ে বাইরের দিকে যায়৷ বিছানার পাশে একটা টেবিল রাখা উচিত রোগীর জিনিসপত্ৰ রাখার জন্য৷

তাছাড়া এটা খুব সহজেই পরিষ্কার করা যায়৷ রোগির ময়লা বা নোংরা ফেলার জন্য একটি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ঢাকনাসহ পাত্ৰ বিছানার কাছেই রাখুন৷ পরবৰ্তীতে একটা পলিথিনের ব্যাগে করে রোগির ময়লা ফেলুন৷ সবচেয়ে ভালো, এই ময়লা বাড়ির বাইরে কোথাও পুড়িয়ে ফেললে৷ তাতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে না৷

* ঘরের আদ্ৰতা ৫০-৬০ শতাংশ হলে সংক্রমণের আশংকা কম হয়৷ রোগির স্ট্ৰেসের মাত্ৰা কমাতে ঘরের দেওয়ালে প্ৰাকৃতিক দৃশ্য আছে এমন একটা সুন্দর ছবি থাকলে ভালো৷ তাছাড়া মানসিক সুস্থতার জন্য প্ৰাৰ্থনা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা উচিত৷

তদুপরি বিভিন্ন ধরনের থেরাপি আছে, যা এই সময়ে কাজে লাগানো যায়৷ যেমন অ্যারোমা বা সুগন্ধি থেরাপি অথবা সংগীত থেরাপি৷

Related Articles

Back to top button
Close