fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদার কালিয়াচকে বাড়িতেই অস্ত্র কারখানা, গ্রেফতার এক

মিল্টন পাল, মালদা: করোনা সংক্রমনের জেরে লকডাউন। ব্যস্ত পুলিশ প্রশাসন। আর সেই সুযোগে বাড়িতে মাটির নিচে অস্ত্র তৈরির কারবার চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানার হদিশ পেল কালিয়াচক থানার পুলিশ। এই ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের মূল কারবারী এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার করারিচাঁদপুর পাটুয়াটুলী গ্রামে। মাটির তলার গোপন এই কারখানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এইভাবে মাটির নিচে বেআইনিভাবে এত বড় মাপের কারখানা যে ওই দুষ্কৃতী তৈরি করে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার চালাবে তা পরিকল্পনায় করতে পারিনি জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা।

বে-আইনি আগ্নেয়াস্ত্র সেই গোপনে কারখানা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে পুলিশকর্তাদের। তবে এই ঘটনার পিছনে ওই ব্যক্তি একা জড়িত নয়, এর পিছনে অনেক বড় মাপের মাথা কাজ করছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছে জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। ধৃতকে গ্রেফতার করার পর সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মালদা আদালতের কাছে জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম,হুমায়ুন শেখ(৩৭)। তার বাড়ি কালিয়াচক থানার অন্তর্গত করারিচাঁদপুর পাটুয়াটুলী গ্রামে। ধৃতের ওই গোপন কারখানা থেকে উদ্ধার হয়েছে পিস্তল তৈরির আধুনিক একটি পাইপ, বন্দুক তৈরির আরও বেশ কিছু সরঞ্জাম। পাশাপাশি বন্দুক তৈরির ৯টি হ্যান্ডেল উদ্ধার হয়েছে। আটটি লোহার হ্যামলেট, ছটি বিভিন্ন সাইজে স্প্রিন্টার, দুটি লোহা কাটার যন্ত্র, তিনটি দেশি ম্যাগজিন, ১৫ টি লোহার ড্রিল মেশিন , দুটি পিস্তল তৈরির হেমার সহ আরও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছে।

আরও জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর করারিচাঁদপুর পাঠানটুলি এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন শেখের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে কিছুই পাওয়া যায় নি। এরপরই পুলিশের নজরে আসে মাটির তলায় যাওয়ার একটি রাস্তার গেট। সেই দরজা ভাঙতেই আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানাটি পুলিশের টনক নাড়িয়ে দেয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই ওই দুষ্কৃতী গোপনে বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে কারবার চালাচ্ছিল। এই কাজে বিহারের মুঙ্গের থেকেও বেশ কিছু দুষ্কৃতী কারিগর হিসাবে এসে কাজ করেছে। লকডাউনের জন্য এখন ওই দুষ্কৃতী নিজেই এই গোপন কারখানায় অস্ত্র তৈরির কাজ চালাচ্ছিল।

এর আগেও ধৃত ব্যক্তি তার ওই গোপন ডেরা থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বাইরে সরবরাহ করেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। আর এই ঘটনার পিছনে কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন , কালিয়াচকের একটি এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রের বিপুল সরঞ্জামসহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close