fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় দশম শ্রেনীর ছাত্রীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার

মিল্টন পাল, মালদা: দশ দিন নিখোঁজ থাকার পর এক দশম শ্রেনীর ছাত্রীর অর্ধনগ্ন পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হল।
মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হল সেই মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আলঙ্গী গ্রামে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।

মৃত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় মেয়ের এক প্রেমিক জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মৃত ছাত্রীর পরিবার। ঘটনাটি নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত ছাত্রীর মা জেনেভা বেওয়া। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মেহেরুন খাতুন (১৭)। বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের রঙাইপুর গ্রামে। সে চিতলীয়া হাইস্কুলে দশম শ্রেণীতে পাঠরত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন সকালে রঙাইপুর গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আলঙ্গী গ্রামের ফাঁকা মাঠে ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। এদিন সকালে কিছু কৃষক ওই মাঠ দিয়ে জমিতে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তারাই ওই ছাত্রীর মৃতদেহ দেখতে পায়। এরপরই শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে ওই ছাত্রীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।

মৃত ছাত্রীর মা জেনেভা বেওয়া জানান, তার মেয়ে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। গত ১৮ মে বাড়ি থেকে প্রাইভেট টিউশন পড়ার নাম করে বেরিয়েছিল মেহেরুন। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২০ মে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ তুলেছে পরিবারের সদস্যরা।

মৃত ছাত্রীর এক দাদা আহমেদ হোসেন বলেন, বোন একটি ছেলেকে ভালোবাসতো। সেটা নিয়ে ওকে বকাবকি করা হয়েছিল। যদিও সেই ছেলেটির পরিচয় আমরা সঠিক জানি না। পড়াশুনা ছেড়ে এসব না করার জন্যই শাসন করা হয়েছিল । তারপর দশ দিন ধরেই হঠাৎ করে বোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। মাটি খুঁড়ে বোনের অর্ধনগ্ন, পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে। আমাদের ধারণা ওই যুবক আমার বোনকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।

চাঁচোলের এসডিপিও সজল কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, দশম শ্রেণীর ছাত্রীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরিষ্কারভাবে বলা যাবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close