fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জলের তোড়ে ফুলহারের ভাঙল বাঁধ, ফুঁসছে ময়ূরাক্ষী-মহানন্দা-কালিন্দী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে সে সতর্কবার্তা আগেই দিয়ে দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এবার সেটাই সত্যি হল সোমবার সকালেই ফুলহার নদীর জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে গিয়েছে মালদা জেলার চাঁচোল মহকুমার রতুয়া-১ ব্লকের সূর্যাপুর এলাকায়। তার জেরে সকাল থেকেই ওই এলাকায় হু হু করে ঢুকতে শুরু করেছে নদীর জল। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি চলে গিয়েছে জলের তলায়। যদিও জেলা সেচকর্তাদের অভিমত এখনই বড়সড় বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।মালদা জেলায় রতুয়া ব্লকের সূর্যাপুরে জেলা সেচ দফতর বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করে। শুরুও হয়ে গিয়েছিল বাঁধ তৈরির কাজ। প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে এই বাঁধ তৈরি করা হচ্ছিল।

পাশাপাশি  রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের পীরপুর গ্রামে কালিন্দী নদীর উপর নির্মীয়মাণ শাল কাঠের সেতুও জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে।  মালদা জেলা সেচ দফতর আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ফুলহারে পাশাপাশি মহানন্দা ও কালিন্দী নদীর জলও বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে গঙ্গার জল তেমন বাড়েনি। উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির ফলে নদীগুলিতে জলস্ফীতি ঘটেছে। সেই জলই ফুলহার ও মহানন্দা দিয়ে বইছে। তবে এখনই বড়সড় বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে, বর্ষার শুরুতেই ফুলেফেঁপে উঠেছে ময়ূরাক্ষী নদীতে৷ জল বাড়ার কারণে আটকে পড়েছেন প্রায় ১২ টি গ্রামের মানুষ। বীরভূমের মহম্মদবাজার মামোদপুর এলাকায় ময়ুরাক্ষী নদীর তীরে রয়েছে প্রায় ১২টি গ্রাম৷ ময়ূরাক্ষীতে জল বাড়ার কারণে নরসিংহপুর,  বেহিরা,  ভেজিনা,  দুমনি,  গোবিন্দপুর,  বরাম,  কাটুনিয়া,  কুলতোর সহ বেশ কিছু গ্রামে এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশাসন নিরুত্তর বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, ফি বছর বর্ষা নামলেই ময়ূরাক্ষীতে জল বাড়ার কারণে এভাবেই সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের৷

আরও পড়ুন: জুলাই-এর মাঝামাঝিই প্রকাশিত হবে মাধ্যমিকের ফলাফল!

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, ফুলহার নদী শুধু নয়, গঙ্গা , মহানন্দা নদীর যেখানে ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানেও সেচ দফতরের মাধ্যমে মেরামতির কাজ চলছে। তবে মালদায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। রতুয়া সূর্যাপুর , বিলাইমাড়ি এলাকার ফুলহার নদীতে সামান্য ভাঙন হয়েছে । সেখানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেচ দপ্তর মেরামতির কাজ করছে।

সেচ দপ্তরের মালদার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সামন্ত বলেন, তিন নদীর জল বাড়ছে ঠিকই ।তবে এখনো আতঙ্কের কিছু নেই। জেলার বিভিন্ন নদীগুলির পরিস্থিতির ওপর নজর রয়েছে। যেখানে ভাঙন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অস্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতির কাজে শুরু করেছে সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারের।
উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, অস্থায়ীভাবে যে বাঁধ তৈরি হয়েছে তা ভেঙে গিয়েছে। দ্রুত শেষ দপ্তরের বাঁধ মেরামতের কাজ করা উচিত। মরশুম শেষ হলে স্থায়ী কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ফি বছর যাতে কাজ করতে না হয়।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close