fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় নাবালকে খুন

মিল্টন পাল,মালদা:  মুক্তিপণ না দেওয়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলেকে খুন। অভিযোগ খুড়তুতো ভাইদের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিনদিন পর সেই বালকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হল। মালদার মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গিটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের আমলিতলা গ্রামের ঘটনা। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে প্রতাপপুর এলাকার একটি জমি থেকে ওই বালকের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ওই বালকের দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তৃণমূল দলের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলেকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে রাশিদুল শেখ (১৮) এবং রমজান শেখ (১৯) নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবশ্য অপহরণ এবং খুনের কথা স্বীকার করেছে পুলিশের সামনে।  মৃত বালকের নাম ওমর ফারুক (১০)। তার বাবা হাফিজুল ইসলাম মোথাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত।

[আরও পড়ুন- তিনটি পৃথক পরিকল্পনায় করোনা পরীক্ষা চালু করছে কলকাতা পুরসভা]

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত রবিবার ওই পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল ইসলাম সপরিবারে পাশের গ্রাম চাঁদপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। রাতে বিয়ে বাড়ি থেকে ফিরে আসেন। এরপর ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলে ওমর ফারুক রাতেই কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী চার চাকার গাড়ি নিয়ে এসে ওই বালককে এলাকা থেকে মুখ চেপে উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষন খোঁজাখুঁজির পর ওমর ফারুকের সন্ধান না পেয়ে রাতেই মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকেরা। এদিকে এই ঘটনার পর ওই পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল ইসলামের মোবাইলে উড়ো ফোন থেকে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবিতে করা হয়। উড়ো ফোনে বলা হয় যে, ৫০ লক্ষ টাকা না দিলে ওমর ফারুককে খুন করা হবে। সেই মোবাইলের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশও। এরপরই বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ওই বালকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।

তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন,  আমার সঙ্গে কারোর কোনও রাজনৈতিক বিবাদ ছিল না। আমি রাজনীতি করার পাশাপাশি শ্রমিক সরবরাহের কাজ করি। আমার কারোর কাছে কোন টাকা পয়সার ধার বাকি নেই। তাই এব্যাপারে কিছুই বুঝতে পারছি না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পর নির্দিষ্ট একটি মোবাইল নম্বর থেকে বেশ কয়েকবার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ফোনে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে পারেনি তৃণমূল দলের ওই পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল ইসলাম। বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত করে রাশিদুল শেখ এবং রমজান শেখ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা মৃত ওই ছাত্রের সম্পর্কে খুরতুতো ভাই। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন,  পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলেকে অপহরণ এবং খুনের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close