fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদা তৃণমূলে প্রকট গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! ক্ষুব্ধ রাজ্য নেতৃত্ব

মিল্টন পাল,মালদা: গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদা জেলায় তৃণমূলের ফল হয়েছিল বারো _শুন্য । লোকসভা নির্বাচনে ‘হালে পানি’ পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস।একক ভাবে দক্ষিণ মালদায় জয় লাভ করে কংগ্রেস। সেখানে তৃণমূলে স্থান হয়েছিল তিন নম্বরে।অপরটি অর্থাৎ উত্তর মালদা দখল করে বিজেপি।
সেই সময় থেকেই রাজ্য নেতৃত্ব জেলা নেতৃত্বের ওপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তার ওপরে গত এক বছর ধরে জেলার শাসক দলের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কোথাও কাটমানি খাওয়া,কোথাও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে  তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য। এই পরিস্থিতিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ময়দানে নেমে দলের এই অবস্থার ভালোই টের পাচ্ছেন জেলার শীর্ষ নেতারা। বিধানসভা ভিত্তিক কর্মী সভায় নেতাদের বক্তব্যে জেলার শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে তাই উঠে আসলো। প্রত্যেকেই গ্রাম স্তরের জনপ্রতিনিধি ও গ্রামীণ নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।

ইংরেজবাজার বিধানসভার কর্মীসভায় মালদা জোহুরা তলা হাই স্কুলে তৃণমূলের মালদা জেলার কো-অর্ডিনেটর দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি দুলাল সরকার বলেন ২৬ বছর ধরে মানুষের আশীর্বাদে জনপ্রতিনিধি হয়েছি। এখন অনেকে গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। গাড়িতে বড় বড় নেম প্লেট লাগানো। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন হয়েছে কি কাজ হয়েছে তার খোঁজ নেন না। মানুষের সাথে সঠিক ব্যবহার করেন না। যার ফলে মানুষ থেকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
সদ্য যুব তৃনমূলের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়া প্রসেনজিৎ দাস বলেন,আমরা যারা কাউন্সিলর রয়েছি তাদের মানুষের একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে।তার জবাব দিতে হচ্ছে। কি জবাব দেবো তা বুঝতে পারছিনা।যারা গ্রামে গঞ্জে কাটমানি খেয়েছেন দলের নাম ব্যবহার করে দুর্নীতি করেছেন তাদের এই দলে স্থান হবে না বলে দাবি করেন প্রসেনজিৎ বাবু।

কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুরি বলেন, অনেকে আছেন যারা দলে থেকে দলের ক্ষতি করছেন।পাড়ার চায়ের দোকানে বসে তৃণমূল দল করে,আবার তৃণমূলের নামে কুৎসা করছেন তারা দলে থাকবেন না। তারা বাড়িতে ঘুমান। তাদের দল করার প্রয়োজন নেই। ভোটের সময় এরাই অন্তর্ঘাত করে। মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন করল মানুষের ভোট আমরা পাইনা। এই প্রশ্নের জবাব একটাই দলের কর্মী ও নেতৃত্বদের একাংশ দলের ক্ষতি করে।জেলার তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের এই বক্তব্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে এই নিয়ে বিজেপির মালদা জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,এখন এসব কথা বলে আর লাভ নাই।এই কথাগুলো বছরখানেক আগে বললে হয়তো কাজ হতো।এই দলটির অবস্থা আলপিন থেকে এলিফ্যান্ট কাটমানি এবং তোলাবাজিতে ভরে গিয়েছে। দলের সমস্ত সংগঠনে ঘুন ধরে গিয়েছে। ২০২১ এর ফলে মালদা থেকে একটি সিট ও জিততে পারবে না তৃণমূল।

Related Articles

Back to top button
Close