fbpx
অন্যান্য খেলাঅসমখেলাহেডলাইন

শিলচরের হকিতে নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব করে মালুগ্রাম ক্লাব

তাজ উদ্দিন, শিলচর: শিলচরের পুরনো এবং সক্রিয় ক্লাবগুলির তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে মালুগ্রাম ক্লাব। ১৯৩৩ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত আর্যপট্টি দুর্গাবাড়ি কেন্দ্রিক এই ক্লাব খেলা ও সামাজিক কার্যকলাপে দীর্ঘদিন থেকে জড়িয়ে রয়েছে। তবে এর মধ্যেও কয়েকটি বছর এই ক্লাব প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন অবশ্য পুরো সক্রিয় রয়েছে মালুগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। ক্লাবের সভাপতি পদে রয়েছেন আশুতোষ রায়। সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন উত্তম চৌধুরী। উভয়ই ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত মুখ। এছাড়া আরেকজন সক্রিয় ক্রীড়া সংগঠক অরিজিৎ গুপ্ত‌ও ক্লাবের পদাধিকারী হিসেবে রয়েছেন। রয়েছেন পার্থসারথি চন্দের মতো ব্যক্তিত্ব‌ও।

মালুগ্রাম ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নে ডাঃ মাখনলাল দাস কানুনগো, ডাঃ নলিনাক্ষ চৌধুরী, বিষ্ণুপদ গুপ্ত প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। পরের দিকে অরবিন্দ মোহন গুপ্ত, বাটু দাশগুপ্ত, চিন্টু সেন, তপেন্দ্র দেশমুখ্য, জহর গুপ্ত, দিলীপ কুমার দেব, রামেন্দ্র দেশমুখ্য, সুব্রত ভট্টাচার্য প্রমুখ ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে পরিশ্রম করে গেছেন। প্রয়াত পরিতোষ চন্দ দীর্ঘদিন মালুগ্রাম ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

ক্লাবের বর্তমান সচিব উত্তম চৌধুরী এই প্রতিবেদককে ( Taz Uddin ) বলেন, শুরুর সময় থেকে আর্যপট্টি দুর্গাবাড়িতেই ক্লাবের বৈঠক বসতো। এমনকি দুর্গাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল‌ও ছিল মালুগ্রাম ক্লাবের নামে। এলাকায় বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর আয়োজন করত ক্লাব। ১৯৬০-৭০ দশকে নিয়মিত সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজিত হতো ইটখলার বড় পুকুরে। এতে সজল দত্ত প্রতিবারই প্রথম হতেন। ১৯৫৭ সালে শিলচর ডি এস এ-র প্রতিষ্ঠালগ্নে মালুগ্রাম ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তপেন্দ্র দেশমুখ্য ও পরিতোষ চন্দ। ডিএস এ-তে খেলাধুলোয় নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও ১৯৭৭ সালে তারা বি ডিভিশন ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বেশ কয়েকবছর মালুগ্রাম ক্লাব এ ডিভিশন ক্রিকেটে খেলেছে। দীপু দত্ত, আশুতোষ রায়, শুভঙ্কর রাহা, যাদব পাল প্রমুখ ক্রিকেটে মালুগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ডিভিশনে তাদের সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলার রেকর্ড রয়েছে। সেমিফাইনাল ম্যাচে যোগাযোগ সংঘের অমল দাসের একটা ডেলিভারি আশুতোষ রায়ের গ্লাভসে আছড়ে পড়ে আঙুল ভেঙে দিয়েছিল। গত বেশ কয়েক বছর ধরে মালুগ্রাম ক্লাব বি ডিভিশন ক্রিকেটে খেলে থাকে।

আরও পড়ুন: করোনার জেরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালো হাইকোর্ট

ফুটবলে এক সময় বি ডিভিশনে খেললেও ইদানিং আর দল নামায় না মালুগ্রাম ক্লাব। একসময় কিন্তু এই ক্লাব‌ই শিলচরের মহিলা ফুটবলের পথিকৃত ছিল। ১৯৮০-র দশকের প্রথম দিকে তারা মহিলা ফুটবলের দুটি দল গঠন করে একাধিক ম্যাচ করায়। স্বপ্না দাস, সেলি নাগ, অনুরাধা সাধ্য প্রমুখ মহিলা ফুটবলে বেশ নজর কেড়েছিলেন। এই ম্যাচগুলি আয়োজনের আগে জহর গুপ্তর অধীনে একটি মহিলা ফুটবল কোচিং ক্যাম্পও করিয়েছিল মালুগ্রাম ক্লাব। সেটি হয়েছিল কাছাড় স্কুলের মাঠে যেখানে বর্তমানে আকাশবাণীর স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে।

হকিতে এখনও নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকে মালুগ্রাম ক্লাব। একসময় পুলিশ এ সি-র দাপটের কাছে হেরে রানার্স হিসেবেই শেষ করত তারা। ২০১৮ সালে ডি এস এ আয়োজিত পুরুষদের হকি এবং কম্বো হকিতে রানার্স হয় তারা।

অ্যাথলেটিক্স এবং কবাডিতেও মালুগ্রামের সাফল্যের রেকর্ড রয়েছে। জয়মালা সিংহ, অঞ্জলি দাস, মীরা সিনহা, মীরা সিংহ, অনিমা সিংহ, স্বপ্না দাস প্রমুখ স্থানীয় খেলোয়াড় কবাডিতে রাজ্য দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে ঝুমা দাস কোকরাঝাড় সাইয়ে রয়েছেন। তিনিও এই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজ্যের সফল দুই মহিলা অ্যাথলিট সুফিয়া ইয়াসমিন লস্কর ও আনোয়ারা বেগম লস্কর ডি এস এ-র বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এই ক্লাব থেকে অংশগ্রহণ করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close