fbpx
অসমএকনজরে আজকের যুগশঙ্খহেডলাইন

ডিসেম্বরেই ত্রিপুরা সফর  মমতার, আগরতলার সভা থেকে ঘোষণা করলেন অভিষেক 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রিপুরায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অবশেষে শনিবার রাতে ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশে রবিবার পূর্ব নির্ধারিত জায়গাতেই সভা করেন তিনি। আর সেই সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন অভিষেক। সাফ জানালেন, ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করলেন ডিসেম্বরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে আসছেন ত্রিপুরায়।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সেই রাজ্যে গুন্ডারাজ চালাচ্ছে বলেও বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তিনি। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে বিঁধে অভিষেক বলেন,” আপনি রবিবার বলেছিলেন বিবেকানন্দ ময়দানে জনসভা করে দেখাতে হবে। বিপ্লববাবু আপনার সেই মনস্কামনা আমি পূরণ করে দেব। ডিসেম্বর মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন, বিবেকানন্দ ময়দানে সভা হবে।” সেই সঙ্গে বলেন,” আপনার যা জেদ, আমার তার চেয়ে দু-তিন গুণ বেশি জেদ। নভেম্বরে আরও দুই থেকে তিনবার আসব। এখানে সভা করা যাবে না বলেছিল বিপ্লব দেবের সরকার। আমরা বিচার ব্যবস্থায় চূড়ান্ত আস্থাশীল। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছি। হাইকোর্ট ডান গাল আর বাঁ গালে দুটো কষিয়ে থাপ্পড় মেরে বলেছে, সভা এখানেই হবে। বিজেপির বাড়া ভাতে ছাই”। উল্লেখ্য সভাস্থলের অনুমতি প্রদান নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে টানাপোড়েন চলে ত্রিপুরা প্রশাসনের। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিপ্লব দেবকে এক হাত নিয়েছেন অভিষেক।

 

রবিবার রবীন্দ্র ভবনের সামনে তৃণমূলের জনসভায় বক্তব্য রাখেন অভিষেক। এদিন বেলা ১২টা নাগাদ আগরতলায় পৌঁছন অভিষেক। তারপর সোজা চলে যান হোটেলে। সেখানে দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখান থেকে চলে যান সভায়। অভিষেক বলেন, ‘‘বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রী তো দূর, আপনার একটা ক্লাবের সম্পাদক হওয়ারও যোগ্যতা নেই। আপনি আইন-আদালত মানেন না। আপনি বিন তুঘলকের মতো আচরণ করছেন। কোটি কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটাও চাকরি দিতে পারেননি। বিপ্লব দেব এখন ‘বিগ-ফ্লপ-দেব’।’’ উল্লেখ্য ক্ষমতায় আসার আগে

বিপ্লব দেবের সরকার প্রচুর চাকরি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ত্রিপুরায় পর্যুদস্ত হয়। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “কেউ চাকরি পেয়েছেন কি? বরং চাকরি হারিয়েছেন দশ হাজারের বেশি তরুণ। আমি আপনাদের সামনে কথা দিচ্ছি, আমরা ক্ষমতায় এলে এক জনেরও চাকরি যাবে না। বরং যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁরা কাজ ফিরে পাবেন। সে জন্য আইনি পথে যা যা করার, সব করবে তৃণমূল।”

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার ডবল ইঞ্জিন তত্ত্বের কথা প্রচারে তুলে ধরেছিলেন। সেই সূত্রে অভিষেক বলেন,” ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকার, কিন্তু কিছুই উন্নয়ন হয়নি। বিপ্লব দেব কত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কি কিছু হয়েছে?” এরপরই অভিষেকের হুঙ্কার, “আজ খুঁটিপুজো করলাম, ২০২৩ সালে বিসর্জন দেব বিজেপি-কে। কারণ বিজেপি-কে না হারালে ত্রিপুরা আফগানিস্তান হয়ে যাবে। গোয়ায় তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল সরকার তৈরি হবে। আর ত্রিপুরায় মানুষের সমর্থন আমাদের দিকে। মানুষের ভালবাসাকে পাথেয় করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি মাথায় নিয়ে ত্রিপুরায় ২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার প্রতিষ্ঠা করবে তৃণমূল। গতকাল (শনিবার) কোর্টে জিতেছি, এরপর ভোটে জিতব। একমাত্র মমতাই পারেন এদের শিক্ষা দিতে। করোনার থেকেও বিপজ্জনক বিজেপি। বিজেপি-র টিকা একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডবল ডোজ দিতে হবে। পুরভোটে প্রথম ডোজ, তার ১৩ মাস পরে বিধানসভা ভোটের সময় দ্বিতীয় ডোজ।” পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভাঙছে।

রবিবার অভিষেকের সভায় তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাসও এদিন তৃণমূলে যোগদান করেছেন। সেই প্রসঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন,” আমার সঙ্গে সবার যোগাযোগ আছে। একটা সুইচ টিপলেই বিজেপি ভেঙে ১৫ জন বিধায়ক চলে আসবেন আমাদের দিকে। কিন্তু আমরা সেটা চাই না। ২০২৩ সালে বিজেপিকে উপড়ে ফেলাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল হবই। মনে রাখবেন, ত্রিপুরার মানুষ যে দিন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সে দিনই বিজেপি খতম।” সেই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ত্রিপুরাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, “বাংলায় যে সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প আছে, ত্রিপুরায় তার সবক’টি চালু করবে তৃণমূল। ডিসেম্বরে বিবেকানন্দ মাঠে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩ সালে আমরা বিজেপি-কে উপড়ে ফেলব। বিপ্লব দেবের ‘দুয়ারে গুন্ডা’ প্রকল্প চিরকালের জন্য বন্ধ করবে তৃণমূল। এখানে চালু হবে দুয়ারে সরকার।

এরপরই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমাকে এত ভয় কেন বিপ্লববাবু? আমি তো আপনার চেয়ে বয়সে অনেকটাই ছোট। আমাকে শাস্তি দিতে গোটা রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করছেন। কেন মানুষকে সমস্যার মধ্যে ফেলছেন? ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এখানেই সভা করে গিয়েছিলাম, আমার মনে আছে। কিন্তু দুই সভার মধ্যে পার্থক্য কী বলুন তো? গত বার বহু মানুষ এসেছিলেন, কিন্তু এবার মাত্র ৫০০ লোক। ৫০০ মানুষ হয়ত সশরীরে, কিন্তু আমি জানি, ২০ লক্ষ মানুষ বাড়িতে বসে সভা শুনছেন। ছুটির দিনেই বিপ্লববাবুর ছুটি হয়ে গেল”।

এদিন অভিষেকের সভায় ছিলেন ত্রিপুরা তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ সুস্মিতা দের। তিনি বলেন, “আগামী দিনে ৫০ হাজার মানুষ নিয়ে জনসভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি দেখতে চাই বিপ্লব দেব কীভাবে আমাদের আটকান। আজ আদালতের নির্দেশ মেনে মাত্র ৪৫০টি চেয়ার রাখা হয়েছে। কিন্তু বহু দূর পর্যন্ত মানুষ অধীর অপেক্ষায় আছেন, অভিষেক কী বার্তা দেন শোনার জন্য। তাঁদের আটকানোর ক্ষমতা বিপ্লব দেবের সরকারের নেই। লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।

ত্রিপুরার মানুষ অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। প্রথমে সিপিএম, তার পর বিজেপি। এবার সময় এসেছে বদলে ফেলার। তৃণমূল বিজেপি-র চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে, এবং আমরা নিশ্চিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ত্রিপুরাতেও তৃণমূল সরকার গঠন করব। ২৫ নভেম্বর পুর ভোট থেকে সেই লড়াই শুরু হবে”।

Related Articles

Back to top button
Close