fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘গণতন্ত্রকে অশ্রদ্ধা, স্বৈরাচারী মনোভাব’, ক্ষুব্ধ মমতা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কৃষি বিল নিয়ে প্রতিবাদের জেরে ডেরেক ও ব্রায়েন-সহ ৮ সাংসদের সাসপেন্ড হওয়া নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । টুইট করে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কৃষক স্বার্থ রক্ষায় প্রতিবাদ জানানো ৮ জন সাংসদের সাসপেনশন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিফলন। এই সরকার গণতান্ত্রিক নিয়ম ও আদর্শকে অসম্মান করছে। তবে আমরা মাথা নত করব না এবং এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে ও রাস্তায় প্রতিবাদ জানাব।’এই ভাষাতেই কেন্দ্রীয় শাসকদলের সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল ওই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা’ বলে বর্ণনা করেছে। ওই শাস্তির প্রেক্ষিতে তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘রাজ্যসভা পরিচালনার ১২৫ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, কোনও সদস্য কোনও বিল নিয়ে আপত্তি তুললে সেটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠাতে হবে। যদি না আগেই সংশ্লিষ্ট বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়ে থাকে। রবিবার রাজ্যসভায় যা হয়েছে, তা এই ধারার স্পষ্ট উল্লঙ্ঘন। ভোট না নিয়ে ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ করিয়ে সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের মন্দির সংসদে যা হয়েছে, তা গোটা দেশের নিন্দার যোগ্য। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান শাসকদলের মর্জি মতো কাজ করেছেন। তিনি কোনও আইনেরই তোয়াক্কা করেননি। তাঁর আচরণ নজিরবিহীন এবং বেআইনি। যে ভাবে আট সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তা হল ভবিষ্যতে তাঁদের কণ্ঠরোধ করার প্রয়াস। এই যদি আমাদের দেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি হয়, তা হলে এই দেশ নিশ্চিত ভাবে সংখ্যাধিক্যতার শিকার হতে চলেছে।’’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাঁর ট্যুইটে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে লিখেছেন, ‘কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় যে ৮জন সাংসদ সরব হয়ে সাসপেন্ড হয়েছেন তা দুর্ভাগ্যজনক ও কেন্দ্রের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চূড়ান্ত বিরোধী। আমরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে কোনও ভাবেই মাথা নত করবো না ও সংসদ ভবনের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানাবো।’ মুখ্যমন্ত্রী এই ট্যুইটের শেষে হ্যাজ দিয়ে বিজেপি কিল্ড ডেমোক্রাসি ট্যাগও দিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: PM CARES ফান্ডের টাকা নিয়ে বিরোধীদের জবাব দিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক

রবিবার সংসদের উচ্চকক্ষে নয়া কৃষি বিল পেশের সময় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। বিতর্কের জেরে কংগ্রেস সাংসদ রিপুন বোরা, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং ও ডিএমকে সাংসদ ত্রিরুচি শিবা হরিবংশের পোডিয়ামের মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁরা রুলবুক, কাগজপত্রও ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ। যদিও বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার  ডেপুটি চেয়ারম্যানকে রুল বুক দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন ডেরেক। তাঁকে সরিয়ে দেন রাজ্যসভার মার্শাল। সেসময় ১০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। পরে অধিবেশন শুরু হলে ধ্বনি ভোটে বিল পাশ হয়ে যায়। এরপর কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম ও ডিএমকে সাংসদরা রাজ্যসভার কক্ষে ধরনায় বসেন। ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন সাংসদরা। তৃণমূল সাংস ডেরেক ও’ব্রায়েনের যদিও দাবি, তিনি রুল বুক ছেঁড়ার মতো কাজ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close