fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘ওরা বাংলায় এক নতুন ধর্ম এনেছে, ঘৃণ্য ধর্ম, বাংলাকে ধ্বংস করতে চায়’, জলপাইগুড়ির সভা থেকে তোপ মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: জলপাইগুড়ির জনসভা থেকে বিজেপিকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করলেন, বাংলায় ঘৃণ্য রাজনীতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।একুশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে চলতি মাসের শুরু থেকেই জনসভা শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় । ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে বেশ কয়েকটি সভা করেছেন তিনি। সোমবার গিয়েছেন উত্তরবঙ্গ সফরে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির অরবিন্দ ব্যায়ামাগার পাঠাগার ও ক্লাব ময়দানে একটি জনসভা করেন তিনি। সেখান থেকে বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “ওরা বাংলায় এক নতুন ধর্ম এনেছে, ঘৃণ্য ধর্ম। কুৎসার ধর্ম। এভাবে ওরা বাংলাকে ধ্বংস করতে চায়। বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলতে চায়।”

উনিশের ভোটে বিজেপি যখন বাংলায় ১৮ টি আসন পেল, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘টোটালটাই হিন্দু মুসলমান করা হয়েছে…।’ সেই সাংবাদিক বৈঠকে দিদি এও বলেছিলেন, ‘যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও খাব…।’ যা শুনে অনেকে মনে করেছিলেন, সংখ্যালঘুদের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। একে তো একুশের ভোটেও উনিশের মতই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাত্‍ ধর্মীয় মেরুকরণের সিঁদুরে মেঘ দেখা যাচ্ছে। তার উপর শোনা যাচ্ছে, কট্টরপন্থী মুসলিম পার্টি মজলিস-ই-ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন তথা মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও এ বার রাজ্যে প্রার্থী দেবেন। এবং তাতে কেউ কেউ প্রমাদ গুণছেন সংখ্যালঘু ভোটেই ভাগ বসাতে চাইবেন তাঁরা। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বোঝাতে চান— বিজেপি-মিম গট-আপ রয়েছে। হিন্দু-মুসলমান বিভাজন করে ওরা ভোট ভাগাভাগি করে নিতে চায়।

জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কর্মীদের নিয়ে সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: ‘সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ করার জন্য একটা হায়দরাবাদের পার্টি ডেকে এনেছে। সেই পার্টিটা এখানে কয়েকটাকে জোগাড় করেছে…। বাংলার ভাল সংখ্যালঘু ভাইবোনরা ওদের সঙ্গে নেই। বিজেপি ওদের টাকা দেয়, আর বিজেপির টাকায়…বিহারে তো দেখেছেন, ওরা কী করেছে।’ ‘হিন্দুদের এলাকায় গিয়ে খুব গালাগালি দেবে (পড়ুন মিম) হিন্দুদের। তা হলে কী হবে হিন্দুদের ভোটটা বিজেপি পাবে। আর মুসলিমদের এলাকায় গিয়ে এতো ভাল ভাল কথা বলবে যাতে মুসলিমদের ভোট ওরা (পড়ুন মিম) পায়। অর্থাত্‍ বিজেপি হিন্দুদের ভোট নেবে, আর ও মুসলিমদের ভোট নেবে। আর আমি কি কাঁচাকলা খাব?’এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, তিনি কোনওভাবেই বিজেপির এহেন আচরণ বরদাস্ত করবেন না। তবে এর জন্য রাজ্যবাসীরকে পাশে চেয়েছেন তিনি। সকলে মিলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে, ইঙ্গিতে এদিন তা-ও বোঝান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ১৩ দিনে দ্বিতীয়বার বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম

এদিন চাকরির প্রতিশ্রুতি কার্ড ইস্যুতেও পদ্মশিবিরকে একহাত নেন তিনি। বলেন, ”চাকরির প্রতিশ্রুতি বলে কিছু হয় না। ওটা পুরোটাই প্রতারণা, মিথ্যে।” এরপরই কেন্দ্রের একাধিক ‘প্রতিশ্রুতি’ সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেন তিনি। প্রশ্ন করেন, আদৌ কারও অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রের ১৫ লক্ষ টাকা গিয়েছে কি না। দাবি করেন, মোদি সরকারের আমলে ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে। এদিন দিলীপ ঘোষের ‘ডিসেম্বরের পর মারব’ মন্তব্যের পালটা দেন মমতা। বলেন, “মেরে দেখাক, আমার গায়ে আঘাত করতে আমিও প্রত্যাঘাত করব।”

 

Related Articles

Back to top button
Close