fbpx
কলকাতাহেডলাইন

১০০দিনের কাজ-সহ একাধিক প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগানো নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  করোনার এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে যৌথভাবে মোকাবিলা করছেন সকলেই।  বিপদের সময়েও দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের তেমন সহযোগিতা মিলছে না। পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে অন্যতম।  কোভিড পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তেও বাংলার দিকে কেন্দ্র সেভাবে হাত বাড়াচ্ছে না বলে অভিযোগে আবারও সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তেমনই লকডাউনে কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বাংলায় অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে বলে বৃহস্পতিবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে দাবি করলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে সেই সাফল্যের কথা তুলে ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই কাজে আরও জোর দেওয়া হোক। তাঁর দাবি, ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে কাজ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৩ লক্ষের বেশি শ্রমিক নতুন করে জব কার্ড পেয়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যেই কর্মসংস্থানের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বাংলা তার মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে।

প্রাথমিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল, কাজ হারিয়ে ভিনরাজ্য থেকে যাঁরা ফিরছেন, তাঁদের এখানেই এমনভাবে কর্মসংস্থান করে দিতে হয় যাতে আর তাঁরা বাইরের রাজ্যে কাজ করতে চলে না যান। সেইমতোই বিভিন্ন প্রকল্পের পরিযায়ীদের কাজে লাগানোর কাজ চলেছে। কিন্তু সর্বত্র পরিস্থিতি এতটা আশাপ্রদ নয়। বেশ কিছু জেলায় শ্রমিকরা যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে কাজ না পেয়ে ফের নিজেদের কাজের জায়গায় ফিরছেন। মাস দুয়েক ধরেই ফের ভিনরাজ্যমুখী হচ্ছেন তাঁরা। তাই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি যা-ই হোক, কাজের সংস্থান আরও পরিকল্পিতভাবে না করা হলে, পরিযায়ীদের এ রাজ্যে ধরে রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জের বইকি।

এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের লড়াইয়ে সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। করোনা সংকটের গোড়া থেকেই এ রাজ্যে রোগীদের চিকিৎসা বিনামূল্যে হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন হয়েছে। এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের কোনও সাহায্য ছাড়াই বাংলা করোনাযুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে। এখানে সুস্থতার হার ৮৮.৮ শতাংশ।

নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী ও নানা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ডেকে তাদের উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠকের মধ্যেই একথা জানিয়ে দেন। শিল্পীদের বিক্রিবাটা অনেকদিন বন্ধ। বৈঠকে সে কথা উঠতেই শিল্পীদের স্বার্থে মেলার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘মেলাগুলো আপনারা নিজেদের মতো স্টল করে শুরু করুন। সরকারও প্রোমোট করবে। মেলাগুলো শুরু হয়ে যাবে দেখুন ডিসেম্বরের মধ্যেই। এটা আমার ধারণা।’ সরকার সবরকমভাবে এই গ্রামীণ শিল্পীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে জানিয়ে দেন।

করোনার  কারণে নানা বিধিনিষেধের জেরে টানা আট মাস সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ। অল্প পরিসরে কিছু ছাড়পত্রের বিনিময়ে সামান্য কিছু শ্রোতা-দর্শক নিয়ে আপাতত চলছে নানা অনুষ্ঠান। দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপ থেকে দূরে এভাবেই নিয়মের বেড়াজালেই জলসাকে ছাড় দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু গ্রামীণ শিল্প ও স্থানীয় লোকপ্রসার শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গ্রামীণ অর্থনীতির একটা বড় দিক। শীতকালে এই ধরনের মেলার মাধ্যমে শিল্পীদের শিল্পকর্ম মানুষের সামনে আসে। প্রচুর কেনাবেচা হয়। লোকশিল্পীদের নানা জায়গায় ডাক পড়ে। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে সবই এখন বন্ধ। ফলে অর্থনীতির হালও নিম্নমুখী।

সমস্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও নানা ধাঁচের শিল্পীরা মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে সমস্যার কথা শোনান। তাঁদের সম্প্রদায়কে নানাভাবে সহযোগিতার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তার মাঝেই শিল্পীদের কথা শুনে নিজেই মেলার প্রসঙ্গ তোলেন। বুঝিয়ে দেন ধীরে ধীরে ফিরবে গ্রামীণ অর্থনীতি। সরকার তার জন্য সবরকম চেষ্টা করবে।

Related Articles

Back to top button
Close