fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘কাজ আটকানো কিংবা ঢিলেমি কেউ করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে, উত্তরকন্যার বৈঠকে অফিসারকে ধমক মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিজেরদের পায়ের তলার মাটিকে শক্ত করতে জনসংযোগের কাজে মন দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।কাজই একমাত্র লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের । কাজে গাফিলতি তাঁর না-পসন্দ। ৮ মাস পর উত্তরবঙ্গে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ফের সেই বার্তাই আরও তীব্রভাবে দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ১০০ শতাংশ কাজ চাই। জোর করে কোনও কাজ আটকানো নয়, ঢিলেমি নয়, কড়া বার্তা তাঁর। এক প্রশাসনিক কর্তাকে রীতিমতো ধমকের সুরে বললেন, ”ইন্সপেক্টর-রাজ বেশি চলছে, জনস্বার্থে কাজ কম হচ্ছে। আমি সব খোলনলচে পালটে দেব।”

প্রতিটি দফতর ধরে ধরে, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজখবর নিলেন। অধিকাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে দেখে মোটের উপর সন্তুষ্ট হলেও রাশ আলগা করতে নারাজ তিনি। জোরের সঙ্গেই বললেন, ”১০০ শতাংশ কাজ যেন হয়।” বললেন, পেনশন আটকানো যাবে না। টাকা পাওয়া সত্ত্বেও যাঁরাও কাজ করছে না বলে রিপোর্ট পেলেন তিনি, তাঁদের কড়াভাবে জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতেই হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কর্তারাই যেন মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। উদ্বাস্তুদের জমি সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে শ্রম দপ্তরের যেসব কাজ অল্প বাকি আছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিলেন। জোর করে কাজ আটকানো কিংবা ঢিলেমি কেউ করলে যে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে, তাও ফের মনে করালেন।

এদিন তিনি উত্তরকন্যাতেই জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে ওই দুই জেলার জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিওরা ছাড়াও হাজির ছিলেন সব বিধায়কেরাও। ছিলেন দুই জেলার জেলা সভাধিপতিরাও। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী কামতাপুর ও রাজবংশীদের উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করেন। তারপরেই মূল বৈঠকে চলে যান তিনি। সেখানে নানান দফতরের কাজকর্ম ধরে ধরে পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জোর দেন সাধারণ মানুষের যাতে কোনও আবেদন আটকে না পড়ে থাকে তা দেখার ক্ষেত্রে। তা সে কাস্ট সার্টিফিকেট হোক কী পাট্টার বিষয়। এমনকি সবুজসাথী সাইকেল, কন্যাশ্রী ও শিক্ষাশ্রীর সার্টিফিকেট দিতে বা ওই দুই প্রকল্পে নতুন কারোর নাম ঢোকানোর ক্ষেত্রে যাতে কোনও গড়িমাসি না হয় সেই বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রতিটি দফতর ধরে ধরে, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজখবর নিলেন। অধিকাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে দেখে মোটের উপর সন্তুষ্ট হলেও রাশ আলগা করতে নারাজ তিনি। জোরের সঙ্গেই বললেন, ”১০০ শতাংশ কাজ যেন হয়।” বললেন, পেনশন আটকানো যাবে না। টাকা পাওয়া সত্ত্বেও যাঁরাও কাজ করছে না বলে রিপোর্ট পেলেন তিনি, তাঁদের কড়াভাবে জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতেই হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কর্তারাই যেন মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। উদ্বাস্তুদের জমি সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে শ্রম দফতরের যেসব কাজ অল্প বাকি আছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিলেন। জোর করে কাজ আটকানো কিংবা ঢিলেমি কেউ করলে যে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে, তাও ফের মনে করালেন।

আরও পড়ুন:  ‘পুজো আসছে বলে করোনাকে অবহেলা করা যাবে না’, প্রশাসনিক সভা থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরবঙ্গের ৩৭০টি চা বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘চা সুন্দরী’। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চা বাগানের যেসব শ্রমিকদের নিজ বাড়ি নেই তাঁদের বাড়ি বানিয়েে দেবে সরকার। ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে।’

তাছাড়া এদিন মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশ মন্দিরের পুরোহিত বিজয় চক্রবর্তীর হাতে ভাতা তুলে দিয়ে রাজ্য পুরোহিত কল্যান প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রাজ্য আগেই জানিয়েছিল, এই প্রকল্পে ১০০০ টাকা ভাতা ছাড়া বাড়ির জন্য ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে পুরোহিতদের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২৩টি জেলায় ১৮,৩১১টি মন্দির চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার সমীক্ষা করে এই তথ্য জানতে পেরেছে। এছাড়া ১৮,২২৩ জন পুরোহিত ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলেও জেনেছে সরকার। মমতা জানিয়ে দেন, ‘পুরোহিত ভাতা পাওয়ার জন্য বয়সের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।’ এদিন কামতাপুরি ভাষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কল্পে কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির পক্ষে অতুল রায়ের হাতে ৫ কোটি অনুদান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্সাদুয়ারফোর্ট সংস্কারের জন্য ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। রাজবংশী ভাষা প্রসারের জন্যও অনুদান দেওয়ার কথা বুধবার।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close