fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

লকডাউন চলবে, কঠোরভাবেই চলবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ১৭ মে লকডাউন পরবর্তী সময়ে কোন পথে এগোবে বাংলা, তা স্থির করতে বিকেলে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কডাউনের মাঝেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র সচল রাখার চেষ্টা। কোন ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে, ঠিক করবে পুলিশ। নবান্নের বৈঠকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, দু’মাস ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ। পরিকল্পনা না করে লকডাউন করায় সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে পাওনা বকেয়া টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় ১৭ মার্চ করোনা প্রথম আসে, সেটাও বাইরে থেকে এসেছে। বাস ও ট্যাক্সি পরিষেবা কীভাবে চালু করা যায়, তাই নিয়ে ২১ মে সিদ্ধান্ত নেব। পুলিশ ও প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে। তিনটে পর্যায়ে পরিকল্পনা করেছি। কাল থেকে কী চলবে, ২১ তারিখ থেকে কেমনভাবে চলবে আর শেষে কী করে হবে। এই তিনটি পরিকল্পনা করা হবে।

এদিন বৈঠকে তিনি বলেন, লকডাউন চলবে, কঠোরভাবেই চলবে বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। করোনা ছিল-আছে-থাকবে। করোনাকে সঙ্গে করে নিয়ে কাজ করতে হবে। রেড জোন এ- কিছুই অ্যালাউ করা হবে না। রেড জোন বি- নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে কিছু পরিষেবা চালু হবে। রেড জোন সি- কনটেন্টমেন্ট জোনের বাইরের এলাকা। তিন দিনের মধ্যে সবটা জোন ভাগ করে পুলিশ জানাবে।

সোনার দোকান, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিক্স দোকান খুলতে পারে। ১২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খাবার দোকান খুলবে, তবে ভিড় হবে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে টলিপাড়ায় কাজ শুরুর পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী। শুটিং ছাড়া ডাবিং, এডিটিং, মিক্সিংয়ের কাজ চালু করা যাবে। বিড়়ি শিল্পে ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ করাতে ছাড় দেওয়া হল। চা শিল্পেও দেওয়া হল ছাড়। বেসরকারি বাস নিজের মতো ভাড়া ঠিক করবে। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। বাস ও ট্যাক্সি জেলার মধ্যে চলবে, দুই জেলার মধ্যে চলবে কি না, তা দেখা হবে। ১০০ ট্রেন করে লোকেরা বাইরে থেকে আসবেন। সেটা ধীরে ধীরে আসবে। বাইরে থেকে এলে জানিয়ে আসুন। কয়েক লক্ষ লোক বাইরে থেকে আসছে।

সব সামাজিক প্রকল্পের পেনশন ও সরকারি প্রকল্পের টাকা দু’মাস একসঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে। ১০০ দিনের কাজ, সোনার কাজ, ক্ষুদ্রশিল্পে নতুন লোক আসুক, যাঁরা বাইরে থেকে আসছে, তাঁদের কাজ দেওয়া হোক, সেই নির্দেশ জেলাশাসকদের দেওয়া হয়েছে।বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের রাজ্যেই কাজ দেওয়া হবে। তাতসাথী, তাঁত বাজার সব খুলে দিলাম। তারা কাজ করতে পারবে এবার থেকে। নির্মাণ কাজ, ১০০ দিনের কাজ, সেচের কাজ এসব কাজ সব চলবে। এই সব কাজ করতে গেলে যে কাঁচামাল লাগে। তাতে কোনও সমস্যা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান যতদিন পারবেন শিক্ষকদের বেতন দিয়ে যাবে রাজ্য। জয় বাংলা স্কিমের আওতায় জুন ও জুলাই মাসের পেনশনও দিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়়া ১১ লক্ষ কিষাণ ক্রেডিট কার্ডও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এককথায়, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্যেও বাংলাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর পরিকল্পনাই করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

আরও পড়ুন: কলকাতা পুরসভায় প্রশাসকদের কাজের মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট

এই সময় বিজেপি সাম্প্রদায়িক লড়াই করছে। করোনা নিয়ে আসব, করলার রস খাওয়াব তা কেউ কেউ ভাবছে, সেটা করবেন না। আগামী মে মাসে নির্বাচন, আমার সঙ্গে তখন লড়াই করবেন। এক বছর বাকি, তখন করবেন। বাংলার বদনাম করছেন কেন। এখন কোভিড নিয়ে লড়াই করুন, পরে আমার সঙ্গে লড়াই করবেন। দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকুন। এখন মানুষের সঙ্গে লড়াই না করে পাশে দাঁড়ান। মানুষকে বাজারের পণ্য হিসেবে ভাববেন না। আমিও ছিলাম বিরোধী, তখন এরকম রাজনীতি করিনি। দাঙ্গাতেও সেই সময় রাস্তায় নেমেছিলাম।

ভুল হতেই পারে, সেটা অভিযোগ জানান। দাঙ্গা যাঁরা করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। লকডাউন ভেঙে যে দাঙ্গা করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যার যার ধর্ম সে পালন করে, সবার ধর্মকে সম্মান করাই বাংলার ঐতিহ্য, এই সময় হিন্দু-মুসলমান করছেন? করোনায় কি হিন্দু-মুসলমান আছে? হার্ট অ্যাটাকে হিন্দু-মুসলিম আছে।

আমাদের অবস্থা ভাল, আমরা বড় রাজ্যের মধ্যে দশম স্থানে রয়েছি অনেকদিন ধরেই। বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সারা দেশের মধ্যে সেরা। কোথাও এরকম পরিকাঠামো নেই।উৎসবভাতা দেওয়া খুব মুশকিল, কাল সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে। দেখা যাক কী করা যায়।  নতুন কেস ১১০, মোট কেস ২,১৭৩। অ্যাক্টিভ কেস ১,৩৬৩ হয়েছে।  নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫,০০৭টি। ৫২,৬২২ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৮ জনের। এই নিয়ে করোনায় মৃত্যু হল মোট ১২৬ জনের। পাশাপাশি, ৭২ জন ইতিমধ্যেই অন্য কারণে মারা গিয়েছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close