fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতিতে চ্যাম্পিয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তোপ দিলীপের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: হুগলির গোঘাটে বিজেপি কর্মী গণেশ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে ওঠায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিজেপির বিরুদ্ধে মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার পাল্টা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের টিপ্পনী, ”মৃতদেহের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যাম্পিয়ন।’

 

ঘটনা হল শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী গণেশ রায়। রবিবার সকালে গোঘাট স্টেশন সংলগ্ন একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গণেশ বাবুর ছেলের অভিযোগ তৃণমূলের হাত রয়েছে এই ঘটনার পিছনে।
গোঘাটের ঘটনা সম্পর্কে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিজেপি কর্মীরা অবসাদে ভোগেন। তাঁদের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে। বিজেপি মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করে। মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা খুব খারাপ।’ ফিরহাদের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যাম্পিয়ন।বাম আমলে কেউ কোথাও মারা গেলে দিদি তাঁর মৃতদেহ নিয়ে এসে শহরে মিছিল করতেন। বিজেপি এতো নিকৃষ্ট রাজনীতি করেনা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের কর্মীরা জীবন দিচ্ছেন। আর ববির মতো কিছু মানুষ তা নিয়ে কটাক্ষ করছেন। এঁদের মনুষ্যত্ববোধটুকুও নেই।’

 

এদিন নিউটাউনের বাসভবনে সকালে সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি বলেন, ‘ আরামবাগের গোঘাটে আমাদের মণ্ডল সম্পাদক গণেশ রায়কে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই চিত্র, জেলায় জেলায়, ব্লকে ব্লকে বিজেপি কর্মীদের উপর হিংসা, অত্যাচার করা হচ্ছে, ঠিক সেইভাবেই আরামবাগেও আমাদের কর্মীকে মেরে গাছের ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে একটা সিরিজ চলছে। বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য বিজেপি এটা পলিসি হিসেবে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ প্রত্যেক দিন কোথাও না কোথাও বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, খুন হচ্ছেন। আমাদের হেমতাবাদের বিধায়ক খুন হন, আমরা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। রায়গঞ্জে আমাদের এক কর্মীকে পুলিশ পিটিয়ে মারলো। আমরা কোর্টে গিয়েছি। কোর্টের রায়ে দ্বিতীয় বার ময়না তদন্ত হয়েছে, ৫ জন পুলিশ সাসপেন্ড হয়েছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো প্রত্যেক বার কেন বিচার পেতে কোর্টে যেতে হবে? পুলিশ প্রশাসন তাহলে কিসের জন্য আছে? আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, পুলিশ দুর্বৃত্ত হয়ে উঠেছে, পুলিশই খুন করছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।’

 

এদিনই সংসদের বাদল অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি গেলেন দিলীপ ঘোষ। দিল্লি যাওয়ার আগে তিনি জানালেন, আগামী দিন কয়েকের মধ্যেই তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাওড়া ও কলকাতা পুরসভায় জোরদার আন্দোলন করবে বিজেপি। এদিন তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা অভিযান চলছে ‘ বেঙ্গল এগেন্স্ট করাপশান’। ঘটনা হলো কাটমানি না দিয়ে কোন কাজ হয় না। আর সবচেয়ে বড়ো দুর্নীতির কেন্দ্রে রয়েছে পুলিশ। আমরা দেখলাম আম্ফানের ত্রাণ নিয়ে, করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। আড়াই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সরকার তা স্বীকার করেও লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গড়েছে। আমরা বলছি বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। আম্ফান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের লোক দেখানো সাসপেন্ড করা হয়েছে। আসলে দুর্নীতি মুক্ত সরকার হোক মুখ্যমন্ত্রী নিজেই চান না। সাধারণ মানুষকে বলছি দুর্নীতি মূলক কোন তথ্য থাকলে বা আপনি তারজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের জানান ৭০৪৪০৭০৪৪০ এই নম্বরে। এদিন সকালে কলেজ স্কোয়ারে চা চক্রেও তৃণমূলের দুর্নীতি আর হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হন দিলীপ ঘোষ।

Related Articles

Back to top button
Close