fbpx
কলকাতাহেডলাইন

এবার একটু অন্যরকম, ভার্চুয়াল লাইভে ২১ জুলাই ‘শহিদ স্মরণ’

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাত পোহালেই ২১শে জুলাই। ২১ জুলাই মানে লাখ লাখ মানুষের ভিড়। মিছিলে মিছিলে ছয়লাপ কলকাতা শহর। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। করোনা সংক্রমণের কারণে জমায়েত করা মানা। তাই ভার্চুয়ালি এবারে আয়োজন করা হয়েছে একুশে জুলাইয়ের সভা। করোনার আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই এবছর শহিদ দিবস পালন করবে তৃণমূল।এবছর ২১ জুলাই আর দেখা যাবে না ধর্মতলামুখী তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের স্রোত। কীভাবে পালিত হবে এবছরের একুশে জুলাই, তার রূপরেখা আগেই স্থির করে দিয়েছিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথে বুথে শহিদ দিবস উদযাপন করা হবে।

তৃণমূলের দলীয় সূত্রে খবর, আলাদা করে কোনও বিশেষ স্ট্রিমিং অ্যাপ নয়, যেভাবে এতদিন ধরে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে তৃণমূলের বিভিন্ন সভা স্ট্রিম করা হয়েছে, সেভাবেই হবে এবারের ২১ জুলাইয়ের সভাও। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে এক ঘণ্টা সেই কর্মসূচি হবে। এরপর দুপুর ২টোয় কালীঘাটে নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে অডিও বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ধর্মতলায় শহিদ তর্পণ হবে প্রতি বছরের মতোই। সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে সেখানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুধু দলের রাজ্য সভাপতি ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মেয়ো রোডের পুলিশের গুলিতে মৃত ১৩ শহিদের বেদি তৈরি করে সেখানে তাঁদের শ্রদ্ধা জানাবেন শীর্ষ দুই নেতা। দলের তরফে এই দু’জনের বাইরে কেউ শহিদ তর্পণে থাকবেন না। তৃণমূল ভবনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রমিক নেত্রী দোলা সেনকে।

আরও পড়ুন: স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত, হাইকোর্টে সওয়াল সিংভির

দলীয় স্তরে অন্তত খবর তেমনই। সাধারণ মানুষ যাতে খুব সহজে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে এই সভায় অংশ নিতে পারেন, তাই সাধারণ নিয়মেই চলবে স্ট্রিমিং। সেখানে অন্য কোনও অ্যাপের সাহায্য দরকার পড়বে না। অনেক দলের ক্ষেত্রেই ভার্চুয়াল সভায় দেখা যায়, তাঁরা জেলায়, গ্রামে গ্রামান্তরে দলের কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একেবারে স্থানীয়ভাবে দলের নির্দেশেই এলইডি টিভি বা জায়ান্ট স্ক্রিনের বন্দোবস্ত করেন। তবে, করোনার কারণেই সেই নির্দেশিকাও এড়িয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। দলের থেকে স্থানীয়ভাবে স্ক্রিন, প্রোজেক্টর লাগিয়ে সভার দেখানোর জন্য লোক জড় করার কোনও নির্দেশিকা দল জারি করেনি। তবে সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, কেউ যদি মনে করেন, একসঙ্গে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাঁরা সভার বক্তব্য শুনবেন, তাহলে সেটা তারা করতেই পারেন। কিন্তু দল এই স্থানীয় জমায়েত করার নির্দেশ দিয়েছে, এমনটা নয়।

সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে ভিড় এড়াতে যেহেতু মূল কর্মসূচি হবে না, সেই কারণে নেত্রীর বার্তা শোনার জন্য পাড়ায় পাড়ায় জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। দিনটিকে উৎসর্গ করে ‘সকল বাধা ছিন্ন করে জাগে যৌবন নতুন সুরে’ শীর্ষক একটি গানও লিখেছেন নেত্রী। সুর দিয়ে সেটি তৈরি করে ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহিদ দিবসে সারাদিনই এই গান বাজানো হবে। ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাস্ক পরে, স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে তবেই কর্মসূচি পালনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় অনেক এগিয়ে ভারত, ক্রমশ বাড়ছে সুস্থতার হার

অনান্য বছর এতক্ষনে কলকাতায় চলে আসতেন হাজার হাজার দলীয় কর্মী। কেউ শিয়ালদা স্টেশনে, কেউ ইন্ডোর স্টেডিয়ামে, কেউ যুবভারতীতে কেউ বা দলেরই কোনও কার্যালয়ে মাথা গুঁজে নিতেন। প্রহর গোনা শুরু হয়ে যেত কখন ২১শের মঞ্চে আসবেন বাংলার তৃণমূলনেত্রী! আট থেকে আশি সকলেই মুখিয়ে থাকতেন সেই মুহুর্তের জন্য। প্রতিবছর ২১শের দিনে প্রতিটি মুহুর্তকেই তাই মনে হত ঐতিহাসীক। ২১শে জুলাই শুধু একটি দিন নয়, ২১শে জুলাই আবেগ। ২১শে জুলাই বিজয় কেতন ওড়াবার দিন, পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণ করবার দিন। স্মরণের দিন সেই সব মানুষদেরও যারা বাম জমানায় হার্মাদি হামলায় প্রাণ হারিয়েছন। এবার করোনার আবহে এসব কিছুই কিন্তু বদলে যাচ্ছে না। খালি হচ্ছে না কোনও সমাবেশ। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক-সাংসদ-সমর্থকেরা সামিল হবেন এবার ভার্চুয়াল সভায় যেখানে কাল বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে সব থেকে বেশি নজর থাকবে আগামীকাল তৃণমূলনেত্রী দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-জনপ্রতিনিধি ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দেন সেদিকেই। বিশেষত আগামী রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ ২১শে জুলাই। তাই দলনেত্রী তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কী ভোটবার্তা দেন তা দেখতে ও শুনতে কার্যত প্রহর গুণছে বাংলা। এর পাশাপাশি দলের অন্দরে বাহিরে অনেক প্রশ্ন অনেক উদ্বেগ অনেক ক্ষোভ হয়তো রয়েছে। সেসব নিয়েও নেত্রী কী বার্তা দেন সেদিকেও নজর থাকবে সকলের। নজর থাকবে আগামী দিনের জন্য কী কী কর্মসূচী নেত্রী ঘোষণা করেন, সেদিকেও।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close