fbpx
হেডলাইন

‘সরকারি প্রকল্পের জন্য টাকা চাইলে থানায় যান’: ঝাড়গ্রাম প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝাড়গ্রাম: করোনার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সরকারি আর কোনও প্রকল্পের কাজ যাতে লাল ফিতের বাঁধনে না আটকায়, তার জন্য সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ সফরের পর এবার জঙ্গলমহল সফরে ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক বৈঠকেও সেই একই বার্তা দিলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, সরকারি প্রকল্পের জন্য কেউ যদি টাকা চায়, তাহলে যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি থানায় যোগাযোগ করেন। কোনও নাগরিক যেন সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত বা হন।

বুধবার ঝাড়গ্রাম শহরের ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের ডিজি বীরেন্দ্র, রাজীব সিনহা, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানী,পুলিশ সুপার অমিত কুমার ভরত রাঠোর, বিধায়ক দুলাল মুর্মু ,চূড়ামণি মাহাতো, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস, কোঅর্ডিনেটর উজ্জ্বল দত্ত সহ আরো অনেকে। প্রশাসনিক বৈঠকে পথশ্রী প্রকল্পের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “সব পঞ্চায়েত, সব রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বলছি, পথশ্রী প্রকল্পের কাজে বাধা দেবেন না। টেন্ডার নিয়ে কোনও গন্ডগোল যেন না হয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ টাকা চাইলে সোজা থানায় যান।”

সম্প্রতি বহুদিন পর জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে যাতে নতুন করে ঝাড়গ্রামে কোনও অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের বৈঠকে তিনি বলেন, অনেক কষ্টে রক্তের জায়গায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছি, আর যেন রক্তাক্ত না হয়। ভোটের আগে বহিরাগতরা বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে এসে এখানে অশান্তি করার চেষ্টা করবে, সে বিষয়টাও দেখতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। মুম্বাই থেকে এখানে লোক টাকার বান্ডিল নিয়ে বাইরে থেকে আসছে। গেস্ট হাউজ ভাড়া করে থাকছে। বেলপাহাড়িতে একটা ট্রুপ এসে ঘুরে গেছে। ঝাড়গ্রামে নতুন করে অশান্তি করবে বলে পরিকল্পনা করছে। পুরনো মাওবাদীদের নিয়ে এসে অশান্ত করার চেষ্টা করছে একটা রাজনৈতিক দল। শান্তি বজায় রাখতে দায় নিতে হবে প্রশাসনকেই।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঝাড়গ্রাম সুন্দর মিষ্টি জায়গা, অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রামে বহু মানুষ বেড়াতে আসেন। তাই এই ঝাড়গ্রাম কে সুন্দর করে রাখার জন্য সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। মাওবাদী ছেলেমেয়েদের মূলস্রোতে ফেরানো হয়েছে। কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে মানুষ তাদের তাড়িয়ে দেবে। মাওবাদীরা যেন আর ফিরে না আসে।

এর পরেই তিনি কার শাসনকালে জঙ্গলমহলের জন্য কি কি উন্নয়ন করেছেন তা বিস্তারিত ভাবে বলেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর বেলপাহাড়ির আমলাশোল থেকে রাস্তার কাজ শুরু করেছিলাম। তখন রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভর্তি ছিল। এখন রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। কয়েকদিন আগে পথশ্রী অভিযান প্রকল্পে ১২ হাজার কিলোমিটার রাস্তার সূচনা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের রাস্তাঘাট আগের থেকে ভালো হয়েছে। স্কুল হয়েছে, কলেজ হয়েছে হাসপাতাল হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে, সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের হাতে অর্থ কম থাকা সত্বেও আমরা জঙ্গলমহলের উন্নয়নে কোন ত্রুটি রাখিনি। তিনি আরও বলেন, “ঝাড়গ্রামে অনেক কাজ হয়েছে। তা সত্ত্বেও যারা বড় বড় কথা বলছেন, তারা আগে নিজেরা একটু কাজ করে দেখান।”ঝাড়গ্রামে সাঁওতালদের জন্য একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও এদিন ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পতিত জমিকে উর্বর করে কাজে লাগানোর কথা আগে কেউ ভাবেনি। নতুন মাটি থেকে যে কী সৃষ্টি হতে পারে তা মাটিকে যে না ভালবাসে সে বুঝতে পারবেন না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। কমপক্ষে ৫ লক্ষ মানুষ কাজ পাবেন। এর আগে চেকড্যামও আমরা করেছিলাম। বালি তুলতে গিয়ে দেখবেন সেতুর তলার বালি তুলবেন না। না হলে সেতু ভেঙ্গে গেলে আমি বরদাস্ত করব না। তাই সেতু যেন না ভেঙ্গে যায়।’

গ্রামীণ রাস্তায় যেন কোনো ট্রাক না ঢোকে, সে ব্যাপারেও পুলিশকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কোভিডের কেস বাড়ছে। এখানে মাস্ক কেউ পড়ছে না। কিন্তু পুলিশ, কৃষি, পঞ্চায়েত দফতর তারা মাস্ক দিন। যাদের মাস্ক আছে তাদের সেটা পড়তে হবে বলে বোঝাতে হবে। গাড়ির টায়ারের ফরেন্সিক করুন। বাজারের থলে, জামা কাপড় থেকেও আসছে। কেউ জানি না এই কোভিড কতদূর বিস্তৃত হচ্ছে। ঝাড়গ্রামে কেস বাড়ছে। সেদিকে নজর রাখুন। ‘ এদিন প্রশাসনিক বৈঠক শেষে জামবনির চিল্কিগড়ে কনকদুর্গা মন্দির পরির্দশনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে পূজো দেন। এদিন কনকদুর্গা, গুপ্তমণি মন্দিরের উন্নয়নের জন্য এক কোটি করে ও রামেশ্বর মন্দিরের জন্য ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close