fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘মমতার অপর নাম অসহিষ্ণুতা, উপড়ে ফেলেই ছাড়ব’ মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি নড্ডার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার দু’দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত্‍প্রকাশ নাড্ডা। কলকাতা বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। কলকাতায় পৌঁছেই অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে নিশানা করলেন নাড্ডা।হেস্টিংয়ে বিজেপি দফতরে এদিন নির্বাচন প্রকোষ্ঠের উদ্বোধন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ৯টি দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনে তৃণমূল সরকারকে উৎখার করার ডাক দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত্‍প্রকাশ নাড্ডা।

কলকাতায় রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন করেন সর্বভারতীয় সভাপতি। এছাড়াও তিনি কলকাতা থেকে ভাঁচুয়ালে আরও ৯ বিজেপি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। নতুন অফিস থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, ২০২১ নির্বাচনে রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে উত্‍খাত করতেই হবে। বাংলায় তৃণমূলের আমলে অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে।তাঁর দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে চলেছে তৃণমূল। মমতার আর এক নাম অসহিষ্ণুতা। রাজনৈতিক দৃষ্টিতে মতের আদানপ্রদানই স্বাস্থ্যকর। পশ্চিমবঙ্গ তো মতের আদানপ্রদানের জন্যই পরিচিত। বিশ্বভারতী এখানে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে জন্মেছেন। কিন্তু আজ এখানে দেখি অসহিষ্ণুতা কীভাবে বাড়ছে। আমি এখানে দলীয় দফতরের উদ্বোধন করতে এসেছি। আগামী দিনে ৩৮টি দফতর। বিজেপির দুরকম বৃদ্ধি হচ্ছে। সফ্টওয়ার এবং হার্ডওয়ারের।

নড্ডার কথায়, ”রাজ্যে ১৩০ জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আমি নিজে ১০০ জনের তর্পণ করেছি। এটা কোন বাংলা?”  বাংলা এজন্য পরিচিত? কী হচ্ছে কী? এটা মানবতার বিরুদ্ধে। এটা চরম অসহিষ্ণুতা। যে রাজ্যে মতাদর্শের লড়াই বন্ধ হয়ে যায়, হিংসা শুরু হয়ে যায়, ধরে নেওয়া যায় সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে। আধুনিক অস্ত্র দিয়ে বিজেপি কর্মী মারা হচ্ছে। সরকারের মদতপুষ্ট সন্ত্রাস চলছে। কিন্তু প্রশাসনও হুঁশিয়ার থাকুন। এই সরকার চিরকাল থাকবে না।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে ছিলেন? পাকিস্থান যদি ভারতকে ভাগ করে থাকে, তা হলে শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি পাকিস্তানকে ভেঙে দিয়েছিলেন। যে মাটিতে আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি, যাকে আমরা পশ্চিমবঙ্গ বলছি, একে বাঁচানো এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে রাখার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অসামান্য। আমি আনন্দিত, যে মিশনের জন্য তিনি জীবন দিয়েছিলেন, ‘এক দেশে এক নিশান এক বিধান’—সেই ৩৭০ ধারা বিলোপ করে মোদী সরকার তাঁর স্বপ্নপূরণ করেছে।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে উডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে, দেখতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী

আমাদের পার্টি অফিস থেকেই দল চলে। আর অন্য দলে বাড়ি থেকে পার্টি চলে। তাদের পরিবারই পার্টি। পরিবারেই তা সীমিত। তৃণমূল তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তৃণমূলও পরিবারের পার্টি। কিন্তু বিজেপির পার্টিই হল পরিবার। কারণ আমাদের পার্টি কারও বাড়ি থেকে চলে না। আমরা শুধু বিহারে জিতিনি, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, হায়দরাবাদে জিতেছি। বিহারে আমাদের স্ট্রাইক রেট ৬৭ শতাংশ।রাজস্থানে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে। সেখানে এক তরফা সমর্থন বিজেপি পেয়েছে। জেলা পরিষদের ভোট।

কৃষকদের আশীর্বাদ বিজেপিই পেয়েছে সেখানে। ওটা শহরের ভোট ছিল না। গ্রামের ভোট ছিল। বাংলাতেও বিজেপি দীর্ঘ লড়াই লড়েছে। ৯ বছর আগে আমাদের ভোট শতাংশ ছিল ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে সেই ভোট শতাংশ পৌঁছে যায় চল্লিশে। আর একুশ সালে বাংলায় দু’শর বেশি আসনে জিতবে বিজেপি। বাংলায় এসে আমার দুঃখও হয়, লজ্জাও লাগে। যে বাংলা সোনার বাংলা ছিল, সেখানে দুর্নীতি, ভাই-ভাতিজাবাদ, রেষারেষি গ্রাস করেছে। আধুনিক অস্ত্র দিয়ে বিজেপি কর্মী মারা হচ্ছে। সরকারের মদতপুষ্ট সন্ত্রাস চলছে। কিন্তু প্রশাসনও হুঁশিয়ার থাকুন। এই সরকার চিরকাল থাকবে না। এখানে তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে। ৩০ জুলাই ইদের ছুটি আর ৫ অগস্ট রাম মন্দিরের শিলান্যাসের দিন লকডাউন ঘোষণা করা হয় এখানে। ইদের ছুটিতে আমাদের আপত্তি নেই। আমরা চাই সবাই ইদে খুশি থাকুন। কিন্তু সবার ভাবাবেগ অক্ষুন্ন রাখতে হবে।বাংলায় আমাদের বিকল্প উন্নয়নের মডেল রাখতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close