fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অর্থনীতি চাঙ্গা করতে রেড জোনকে তিন ভাগ করে ব্যবস্থা শিথিলের সিদ্ধান্ত মমতার

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা: ‘দুমাস সব অর্থনৈতিক ইনকাম বন্ধ রয়েছে। তাই বেশকিছু পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।’ মঙ্গলবার নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেডজোন এলাকাকে সংক্রমণের ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ শুরু করতে চান। মূলত রাজ্যের থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে খানিকটা চাঙ্গা করতেই এই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর।
নবান্নে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেড জোনকে এ, বি, সি তিন ভাগে বিভক্ত করা হবে। রেড জোনের এ বিভাগে কোন কিছু ছাড় দেওয়া হবে না। বি বিভাগের ক্ষেত্রে, সামাজিক দূরত্ব মেনে অল্প কিছু দোকান খোলার ছাড় দেওয়া হবে। এবং সি বিভাগে আরও বেশ কিছু দোকান খোলার ছাড় দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান অবশ্যই এই একজন সি বিভাগটি ব্যারিকেডের বাইরে হতে হবে। তবে পুরো বিষয়টি তিনি পুলিশ আধিকারিকদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

১৫ মে কোন এলাকায় কি কি দোকান খোলা যাবে সেই বিষয়ে পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার। কোথাও যদি সামাজিক দূরত্ব বিধিমালা না হয় বা আইন অনুযায়ী কাজ না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে পুলিশ বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিন ভাগে পরিকল্পনা করে কাজ করবে রাজ্য সরকার। তিন মাসের জন্য স্বল্পকালীন পরিকল্পনা করা হবে। এই কাজ শুরু হবে আগামী কাল থেকে। এছাড়া মধ্যমকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হবে ২১ মে থেকে। সে ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সবশেষে দীর্ঘকালীন পরিকল্পনায় কাজ শুরু করতে চায় রাজ্য সরকার। দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আরও বেশি কিছু জিনিসে ছাড় দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল থেকে কিছু এলাকায় জুয়েলারি দোকান, ইলেকট্রনিক দোকান, মোবাইল সার্ভিস খাবারের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে খাবারের দোকানের ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ খোলা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র একক খাবারের দোকান খোলা যাবে যেখান থেকে মানুষ খাবার কিনে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে খাবেন। দোকানে বসে খাবার খাওয়া কোনমতেই মান্যতা পাবেনা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘দুমাস কোনরকম আয় নেই রাজ্যের। এরই মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রেশন দিতে হচ্ছে। দুমাস সব অর্থনৈতিক ইনকাম বন্ধ রয়েছে। তাই বেশকিছু পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। একেবারে অর্থনীতিকে থামিয়ে দিয়ে নয় বা করোনা কেও এগিয়ে দিয়ে নয় জীবনযাত্রাকে অল্প করে সচল করা হচ্ছে।’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করেন, ‘জুয়েলারি দোকান, ইলেকট্রনিক দোকান মোবাইল সার্ভিস খাবারের দোকান খোলা যাবে। এই দোকানগুলি সকাল ছয়টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত খোলা যাবে।’ তবে অবশ্যই কোন এলাকায় দোকান খোলা যাবে সে বিষয়টি ঠিক করবে পুলিশ আধিকারিকরা।
তবে শুধু জুয়েলারি বা ইলেকট্রনিক দোকান নয় একই সঙ্গে আমদানি-রফতানির বিষয়টিকেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিড়ি, চা শিল্প ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়াও গ্রিন জোনে বাস-ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাংলা হাট, খাদি, এগ্রিকালচার, ফিশারি, হর্টিকালচার, সেচের কাজ, পূর্ত ভবন এর কাজ, জঞ্জাল অপসারণ, নির্মাণ কাজ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যারা নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত সে সমস্ত ব্যক্তিরা যাতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারে এবং তাদের যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবহনের বিষয়টিও যাতে অসুবিধার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ক্ষেত্রে পুলিশ বিষয়টি নজরে রাখবে।

নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যাতে সংশ্লিষ্ট দোকানে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে কোন অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে ২১ মের পর থেকে কিছু ক্ষেত্রে ট্যাক্সির ছাড় দেওয়া হবে বলে এদিন উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Related Articles

Back to top button
Close