fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহের মধ্যে মনসা প্রতিমা বিক্রি না হওয়ায় মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদের 

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা আবহের মধ্যেও  মনসা প্রতিমা বানালেও অধিকাংশ বিক্রী না হওয়ায় মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদের। দিনহাটা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মৃৎশিল্পালয় রয়েছে। লকডাউন এর ফলে এই শিল্পীদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সোমবার মনসা পুজো থাকায় মৃৎশিল্পীরা নিজেদের মতো করে প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পুজোর দিন অধিকাংশ মৃৎশিল্পীর তৈরি করা প্রতিমা বিক্রি হয়নি। অধিকাংশ প্রতিমা বিক্রি না হওয়ায়  মৃৎশিল্পীদের মাথায় হাত পড়েছে। সামনেই বিশ্বকর্মা পুজো। কিভাবে প্রতিমা বানাবেন সেই খরচ বা কোথা থেকে জোগাড় করবেন তা নিয়েও চিন্তিত তাঁরা।

গত কয়েক মাস ধরে করোনা সংক্রমনের ফলে সব ধরনের অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন রকম পুজো প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সেভাবে প্রতিমা তৈরি না করতে পারায় মৃৎশিল্পীদের রুটি-রুজিতে আঘাত নেমে এসেছে। এবছর করোনা আবহে গৃহস্থের ঘরে ঘরে মনসা পুজো হলেও অধিকাংশ প্রতিমা  পুজো না হওয়ায় তাদের আর্থিক সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিমা বিক্রি হলেও তারা যে পরিমাণ প্রতিমা তৈরি করেছিলেন সবই ঘরে রয়েছে।

[আরও পড়ুন- রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত গাফিলতি, আমফানে তছনছ পানিহাটি শ্মশান ঘাট চেনা ছন্দে ফিরল না]

মৃৎশিল্পীদের প্রদীপ পাল, বঙ্কিম পাল, বাবু পাল প্রমুখ  বলেন, প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে গণেশ প্রতিমা তাঁরা তৈরি করে থাকেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় তাদের বিভিন্ন রকম প্রতিমা তৈরীর কাজ। এবছর বৈশাখ মাসের শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি গণেশ প্রতিমা তৈরি করলেও তা বিক্রি হয়নি। এছাড়াও পরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সবরকম প্রতিমা  সামান্য সংখ্যক তৈরি করলেও বিক্রি না হাওয়ায় ঘরে রাখতে হয়েছে। এছাড়াও মনসা পুজোয় তারা একটি বড় অংশের আয় দিয়ে প্রতিবছর বিশ্বকর্মা প্রতিমা ও দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে থাকেন। এবছর ছোট বড় সব মিলিয়ে ৮০ টি প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। এরমধ্যে ২০ টির মত  প্রতিমা বিক্রি হলেও আর সব ঘরেই পড়ে রয়েছে।

অন্যান্য শিল্পীরা বলেন তারা কেউ ২০ টি আবার কেউ ১৫ টি প্রতিমা তৈরি করলেও অধিকাংশই ঘরে পড়ে রয়েছে। এভাবে চললে কিভাবে বিশ্বকর্মা প্রতিমা কিংবা দুর্গা প্রতিমা কিভাবে গড়বেন তা নিয়েও তাঁরা সন্দিহান।  সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে তাদের এইকাজ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন, মৃৎশিল্পীরা যদি তাঁদের সমস্যার কথা জানান তবে তিনি অবশ্যই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close