fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্যের সুপরিকল্পিত শোষণের শিকার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য শিক্ষা ও অর্থ দফতরের সুপরিকল্পিত শোষণের শিকার হয়েছে গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরি শিক্ষকরা। চাঞ্চল্যকর আভিযোগ করল বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স এসোসিয়েশন। মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানায়। তাদের মতে, সরকারি আধিকারিকদের চূড়ান্ত উদাসীনতা ও চালাকি জন্য এখন বঞ্চিত এই শ্রেণীর শিক্ষকরা।

ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য রাজ্য পে কমিশনএর চেয়ারম্যানকে রীট অফ ম্যানডামাস জারি করে দায়িত্ব দেওয়া সত্ত্বেও পে কমিশন চূড়ান্ত টাল বাহানা করছে। সরকারের এই ভূমিকায় গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক গন চরম ক্ষুব্ধ। হুশিয়রি দিয়ে শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বল হয় করোনা আবহের একটু উন্নতি হলেই তারা চরম আন্দোলনে নামবেন। এখন প্রশ্ন হল গ্রাজুয়েট শিক্ষকরা সংখ্যায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও কেন দীর্ঘদিন এই বঞ্চনা, শোষন সহ্য করছেন? এবিষয়ে বিজিটিএর রাজ্য সম্পাদক সৌরেন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এস এস সি শুরু হওয়ার আগেও যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তারাও এই বঞ্চনার শিকার। কিন্তু তারা নীরব। যার প্রধান কারণ হল বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন গুলোর গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের প্রতি চরম উদাসীন্য। যদিও ২০০৯ সাল থেকেই তারা এই বেতন বৈষম্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে ওয়াকিবহাল। তবে আমরা থেমে থাকব না। আগামী দিনে আমদের দাবি নিয়ে আমরা সোচ্চার হব।’

মজার বিষয় হলো পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত রাজ্যে সরকারই, সরকার পোষিত স্কুলে পিজি শিক্ষকদের ষোষ্ঠ সিপিসি বা রোপা ২০০৯, অন্যান্য রাজ্য পে কমিশনের সুপারিশ অনুসারে পে স্কেল ছিল ৯০০০-৪০৫০০/৯৩০০-৩৪৮০০, গ্রেড পে ৪৮০০। আর গ্রাজুয়েট শিক্ষক দের পশ্চিমবঙ্গ  ব্যাতিত অন্যান্য রাজ্যে  ৯০০০-৪০৫০০/৯৩০০-৩৪৮০০ গ্রেড পে ৪৬০০। কিন্তু  পশ্চিমবঙ্গে গ্রাজুয়েট শিক্ষক দের দেওয়া হলো ৭১০০-৩৭৬০০ , গ্রেড পে ৪১০০ যা সমগ্র ভূভারতে কোথাও নেই। প্রসঙ্গত বলা ভাল পঞ্চম সিপিসি বা রোপা ৯৮ এর সময়েও এক ঘটনা ঘটেছিল। আর তাই বঞ্চনার আভিযোগে বারে বারে আন্দোলনে সামিল হয়েছে গ্রাজুয়েট শিক্ষকরা।

বিবৃতিতে বিজিটি এ শিক্ষক সংগঠনের পক্ষে থেকে পুরো পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরও বলা হয়, ষষ্ঠ সিপিসি ২০০৬-২০১৬/রোপা ২০০৯ (২০০৬-২০১৬) অনুসরে জাতীয় স্তরে ও অন্যান্য রাজ্যে একজন টি জিটি ও পিজিটি এর  পে ব্যান্ড ও গ্রেড পে মিলিয়ে ফিক্সেশনের এর পর  বেসিক পে তে পার্থক্য ছিল ১০১০ টাকা‌। আর পশ্চিমবঙ্গে সেটা ছিল ৩২১০ টাকা। শুধু তাই নয় রোপা২০০৯ এর আগে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাজুয়েট শিক্ষক গন ১১ নম্বর স্কেল এ বেতন পেতেন আর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রী ধারী সাব এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার বা পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়ক গন ১০ নম্বর স্কেল এ বেতন পেতেন। কিন্তু রোপা ২০০৯ এ সাব এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দের ১০ নম্বর স্কেল এর পরিবর্তন করে ১২ নম্বর স্কেল দেওয়া হয় এবং তারা ৪৪০০ টাকা গ্রেড পে পান। তখন সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রেও  সাব এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দের গ্রেড পে ৪৪০০ টাকা ছিলো। অথচ হতভাগ্য গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক গন সেই তিমিরেই রয়ে গেলেন। ভাবুন কোন ধরণের বৈমাত্রেয় আচরণের শিকার  গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক গন। অর্থাৎ রোপা ২০০৯ এ গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরি শিক্ষকদের প্রকারন্তরে অবনমন ঘটে।

কেন্দ্রীয় স্তরে সপ্তম সিপিসি (২০১৬ থেকে চালু) অনুসরে টিজিটি দের প্রাথমিক ইনিশিয়াল স্টার্টিং পে লেভেল ৭–৪৪৯০০ টাকা আর পিজিটিদের পে ম্যাট্রিক্স লেভেল ৮ —৪৭৬০০ টাকা। অর্থাৎ এই পার্থক্য এখন ২৭০০ টাকা। আর রোপা ২০১৯ যা সপ্তম সিপিসি এর  সমসাময়িক সেখানে  একজন পিজিটি  ও একজন টিজিটি এর বেসিক পে শুরুতেই পার্থক্য ৯২০০ টাকা।  বলাবাহুল্য যে কি অপরিসীম বঞ্চনার শিকার পশ্চিম বঙ্গের গ্রাজুয়েট শিক্ষক গন। আর এই বঞ্চনার কথা লিখিত ভাবে স্বীকার করছে খুব কম শিক্ষক সংগঠন। তাও কোনক্রমে দায় সেরেছেন।

অনিদিকে পশ্চিমবঙ্গের বহু পাশ গ্রজুযেট শিক্ষক যাদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন আছে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় বা এমসি-র চাপে পড়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস নিচ্ছেন। তারা না নিলে হয়তো অনেক স্কুল থেকে অনেক বিষয় উঠে যেত বা  নির্দিষ্ট বিষয় পোড়ানোর জন্য অনুমদন মিলত না। কিন্তু কাউন্সীল বা ডিআই অফিস থেকে তাদের এই মর্মে মুচলেকা লিখিয়ে নেয়া হচ্ছে যে তারা উচ্চতর পে স্কেলের দাবি জানাবেন না। আর দাবি জানালেই আইনি মতে অন্যায় দাবি। তারা কন্ট্রোল অফ এক্সপেন্ডিচার এক্ট ২০০৫ এর দোহাই দেবেন। অর্থাৎ পাশ গ্রজুযেট শিক্ষকদের দের বেগার খাটানো অন্যায় নয় , শুধু  অন্যায় হলো উচ্চ তর যোগ্যতা নিয়ে উচ্চ শ্রেনীতে ক্লাস নেওয়ার জন্যে যদি উচ্চ বেতন ক্রম দাবি করা।

Related Articles

Back to top button
Close