fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জঙ্গলমহলে বড়সড় সাফল্য, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত ধরে কয়েকশো আদিবাসী যোগ দিলেন বিজেপিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আদিবাসীর জঙ্গল জমিতে আদিবাসীদের যে অধিকার তারা পায় নি বিজেপি সেই আধিকার তাদের ফিরিয়ে দেবে। পাশাপাশি আদিবাসীদের মুল স্রোতে ফিরে আসার বার্তা দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

এদিন মঙ্গলবার বেলাপহাড়ির শিলদা ফুটবল মাঠে বিজেপির যোগদান মেলা কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিল তিনি। এছাড়াও এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সহ সভাপতি ভারতী ঘোষ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুকুল রায়। ঝাড়গ্রামে বিধানসভা নির্বাচনে চারটি আসনে সৎ,পরিচ্ছন্ন লোকদের সমর্থন করেবে বিজেপি।

প্রার্থী পদও সেই মতো করে দেবে বিজেপি বলে সভা থেকে জানান বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুকুল রায়। এদিন তাদের হাত ধরে তৃণমূল, ঝাড়খন্ডী এবং আদিবাসী সমাজ থেকে কয়েকশো মানুষ বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিন সভায় এই দুই কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ভারতী ঘোষ সহ আরো অন্যান্য রাজ্য এবং জেলা নেতৃত্ব।

এদিন একটা চল্লিশ নাগাদ কৈলাস বিজয় বর্গীয়,মুকুল রায় সভায় আসেন।তার আগেই ভারতী ঘোষ সভায় উপস্থিত হন। এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্বরা সভায় বক্তব্যের শুরুতেই রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়া করেন।এদিন কেন্দ্রীয় সধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয় বর্গীয় প্রথম থেকেই ঝাড়গ্রাম তথা জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের বঞ্চনা নিয়ে কথা বলেন।আদিবাসীরা আজও বঞ্চিত বলেন ।

তিনি এদিন সভা থেকে সিধু কানহু,বিরসা,তিলকা মাঝি,সাধুরাম চাঁদ মুর্মুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের নামে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেন।“ তিনি বলেন “ আদিবাসী শহিদের যে সম্মান দরকার ছিল তা দেওয়া হয়নি। এর জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।নরেন্দ্র মোদিজি তাদের সবাইকে সম্মান দেবেন।এই সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখানে পৌছাতে দিচ্ছে না।আদিবাসীদের পাট্টা দেওয়া হচ্ছে না। মোদীজি এখানে আদিবাসী পরিবার পিছু পাঁচ কেজি করে সবজি পাঠিয়েছিলেন।আপনারা পেয়েছেন?দিদির চ্যালারা,কাঠমানিবাজরা এই সব পৌছায় নি।সত্তর বছর ধরে আদিবাসীরা যে অধিকার পায় নি।বিজেপি করবে।এই সরকারকে নাস্তানাবুদ করতে হবে।আগের সরকার মাওবাদীদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।এরা আবার কিষেন জিকে হত্যা করেছে।ভরাতী দেবী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের খুব সেবা করেছিলেন।কিন্তু ওনার পেটে ছুড়ি মেরেছে।জঙ্গলমহলে নাকশালদের গতিপ্রকৃতি বাড়ছে।মমতা তাদের সংরক্ষন দিচ্ছেন। আলকায়দা কলকাতায় পৌছে গিয়েছে।এ রাজ্যে কোন উদ্যোগ নেই।চাকরিদের জন্য যুবকদের বাইরে যতে হচ্ছে।বিজেপি ক্ষমতায় এলে তারা এ রজ্যেই কাজ করতে পারবে।পাঁচ লক্ষ কিষান বিমা করেছি।এর জন্য রাজ্যের ভূমিকা থাকতে হয়।অন্য রাজ্য লাভ তুলছে।কৃষানদের জন্য ছয় হাজার টাকা দিয়েছে।৭২ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছে।বাংলায় এই লাভ পৌছায় নি।”

মুকুল রায় বলেন “ এখন আর ভয় দেখানোর মানে হয় না।মানুষ আজ ভয় পায় না।শুধু দান খয়রাতি হচ্ছে। উন্নয়ন হয়নি।চাকরি হয় নি।মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই।যতই ভয় দেখান মানুষ তৈরি হয়ে গিয়েছে।” অন্যদিকে ভারতী ঘোষ বলেন “এই সরকারকে দূর্নীতিশ্রী,নির্লজ্জশ্রী খেতাব দেব।জঙ্গলমহল শান্ত হওয়ার পরে,নিশ্চিন্ত হওয়ার পরেও প্রাক্তন মাওবাদীকে জেল থেকে বার করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট কবজা করতে চাইছে আমাদের মাননীয়া।মানুষ যাতে রাস্তা না পেটায় তার জন্য তাকে পুলিশ পাহারা দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে।ওই মাওবাদীকে দেখলেই দরজা বন্ধ করে দেবেন,কথা বলবেন না। আপনাদের প্রতিবাদই হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ।”

এদিন বিজেপি নেতৃত্বের হাত ধরে আদিবাসী সমাজের গুরুত্বপূর্ন পালান সোরেন সহ অনেকে যোগ দান করেন। জামাবনি ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি সমীর ধল সহ তার অনুগামীরা যোগদান করেন বিজেপিতে।এছাড়া তৃণমূলের সংখ্যলঘু সেল থেকেও অনেকে বিজেপিতে যোগদান করেন।

Related Articles

Back to top button
Close