fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোনও এনআরসি হবে না, কোনও ক্যা হবে না, মতুয়ারা সবাই দেশের নাগরিক, বনগাঁ’র সভায় দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

'মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতেও ছুটি ঘোষণা হবে রাজ্যে'

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  লোকসভা ভোটে যেখানে তৃণমূলের ফলাফল আশানুরূপ ছিল না। একুশের ভোটের আগেই তাই হয়তো বনগাঁয় বিশেষ নজর দিচ্ছেন দিদি। জমি ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যেই বনগাঁর ঠাকুরনগরে জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বড়মা, শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আশ্রমে আমি বহুবার এসেছি। ত্রিশ বছর ধরে বড়মার চিকিত্‍সা আমিই করিয়েছি। বড়মা যখনই অসুস্থ হয়ে পড়তেন আমি বালুকে বলতাম, ওঁকে কলকাতায় নিয়ে এসো। মতুয়াদের এত মানুষ আছে, কেউ জানতই না। আমার কাছে এটা নতুন জায়গা নয়। বনগাঁ, বাগদা, ঠাকুরনগর, হাবড়া, অশোকনগর, স্বরূপনগরে আমি বহুদিন ধরেই আসছি।

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৩০০ ট্রেনে করে নিয়ে আসা হয়েছে রাজ্যে। আর আপনাদের বলি, এলাকায় বহিরাগত এলে ঠেকাতে হবে। আমি সত্যি বলছি, আপনাদের ৪-৫ জনের জন্য আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। যে লোকটা আপনাদের জন্য এত কাজ করে, তাঁর সভা নষ্ট করার চেষ্টা করেন এ ভাবে? আপনি চিঠি লিখে জানান, অন্য কোনও উপায়ে জানান। তাই যে লোকটাকে বললেই হয়, তাঁর সভায় গিয়ে দু’-চারটে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখাবেন, এটা করা যাবে না। স্বাস্থ্যসাথী করিয়ে নিন পরিবারের জন্য। দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চলছে, আপনারা সেখানে যান, সরকার সব কিছু দেবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলুন, জিএসটির টাকা দিতে, জিএসটির টাকা দিচ্ছে না। চার-পাঁচ জন মিলে কেউ যদি আমার সভায় এসে কোনও কিছু দাবি করেন, আমি কিন্তু সেটা করতে পারব না। আমি মা-বোনেদের বলব, একটা রাজ্য দেখান, যেখানে মেয়েরা এত সুযোগ-সুবিধা পায়।

এদিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন,  কোনও এনআরসি হবে না, কোনও ক্যা হবে না। বিজেপির কাজই হল এটা। বাংলা থেকে বাঙালিদের তাড়িয়ে দাও আর বাংলাকে গুজরাত বানিয়ে দাও। আমরা বাংলার মানুষ যে ভাষায় একসঙ্গে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলি, যারা বাংলায় থাকে, তারা বাংলার মানুষ হিসেবে চিহ্নিত। সিপিএমের অত্যাচার দেখেননি ৩৪ বছর! সব ভুলে গেলেন তাড়াতাড়ি। কত মার মেরেছে। কত জমি খেয়েছে, কত পুকুর খেয়েছে। কাউকে এক পয়সার ওষুধ দিয়েছে। তারা রাতারাতি বিজেপি হয়ে গেছে। বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে আসছে, আর আরএসএস নিয়ে আসছে। হিন্দু ধর্ম কী, সেটা স্বামী বিবেকানন্দ শেখাবেন, সেটা কি আরএসএস শেখাবে?কাজ নেই, কর্ম নেই বাইরে থেকে কিছু গুন্ডা চলে আসছে। বাড়ি বাড়ি চলে যাচ্ছে। তাদের গিয়ে বলছে, কত টাকা চাই।

এখানে অনেক উদ্বাস্তু মানুষ রয়েছেন। আমরা আপনাদের সাদরে গ্রহণ করেছি। এটা আপনাদেরও বাড়ি। আপনারা জেনে নিন, আপনারাও নাগরিক। আপনাদের কোনও সার্টিফিকেট দরকার নেই। এখন যদি বলে, ঠাকুমার সার্টিফিকেট দাও, ঠাকুর্দার সার্টিফিকেট দাও, দিতে পারবেন তো! আমি বলে দিচ্ছি, মতুয়ারা সবাই দেশের নাগরিক। আর কারও কোনও সার্টিফিকেট দরকার নেই। কী করে আপনারা নাগরিক, আমি বুঝিয়ে বলছি। নিয়ম কী? উদ্বাস্তুরা এসে এক জায়গায় থাকে। সেটা উদ্বাস্তু কলোনি বলা হয়। রাজ্যে ৯৪টি উদ্বাস্তু বস্তি ছিল। সেগুলি আইনি করে দেওয়া হয়েছে। একটা হচ্ছে রাজ্য সরকারি কলোনি, আবার আর এক রকম হল, কেন্দ্রের কোনও জমিতে বসে রয়েছে। সে রকম আরও আড়াইশো কলোনি রয়েছে, তাদের সবাইকে আমরা উদ্বাস্তু হিসেবে ঘোষণা করে নাগরিক করে দিয়েছি।

বাগদি ভাইবোনদের জন্য আমরা বোর্ড করেছি, বাউড়ি সম্প্রদায়ের জন্যও করেছি। মতুয়া ডেভেলপমেন্ট কমিটি করেছি। ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আপনারা নিজেরা বসে কমিটি ঠিক করে দিন। টাকা ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছি। এটা আপনাদের দাবি ছিল, মেনে নেওয়া হল।মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি। এর কোনও নির্দিষ্ট দিন নেই। বাংলা মতে নেই, ইংরেজি মতেও নেই। যে দিন মেলা হয়, সেদিনই ওই তিথি। আপনারা আমাকে ৬ মাস আগে থেকে জানাবেন, মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করবে। হরিচাঁদ ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: কর্মীখুনে সিবিআই চায় বিজেপি: দিলীপ

এ ছাড়াও আর একটি দাবি ছিল আপনাদের। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠ্যপুস্তকে যাতে হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনী পড়ানো হয়। এই যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটা বই, এখানে ওঁদের কথা বলা হয়েছে। যদি মনে হয়, আর দু-চার কথা জুড়ে দেবেন, তা হলে আমাদের জানান। জাতি শংসাপত্র পেতে গেলে আগে এক বছর, দু’বছর, পাঁচ বছর সময় লাগত। এখন সরকার নিয়ম করে দিয়েছে। বাড়িতে যদি একজন সদস্য থাকেন, যিনি জন্মসূত্রে কোনও নির্দিষ্ট জাতির, তা হলে সাত দিনের মধ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে তো বিনা পয়সায় চিকিত্‍সা হয়। সরকার আপনাদের জন্য এক একটা পরিবারের জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা দেবে। আমরা ১০ কোটি মানুষের জন্য় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করে দিচ্ছি। আপনারা নিজে লিখে জমা দিন, কোথায় কী জমি আছে, মিউটেশন হওয়ার আগেই কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুযোগ পাবেন। সেই ক্যাম্পে আপনারা যাবেন, এখন আমরা সেল্ফ সার্টিফিকেট দিই। আমরা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছি, দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চলছে। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোনও কৃষক মারা গেলে তাঁদের ২ লক্ষ টাকা দিই। আপনারা জানেন, আমরা কৃষকদের জমির কোনও খাজনা নিই না। কিন্তু আমরা চাষিদের থেকে প্রচুর চাল কিনি।কিন্তু কেন্দ্র অন্য রাজ্য থেকে বেশি চাল কেনে, আর আমাদের রাজ্য থেকে কম কেনে। আমার চাষিরা প্রচুর ধান উত্‍পাদন করে।

আপনারা জানেন এরা কী করে? কেন্দ্রের একটা ফুড কর্পোরেশন আছে। এর নাম বিজেপি সরকার। আর আপনারা কেঁদে বেড়াবেন, আলুসিদ্ধ-ভাতও খেতে পাবেন না। আর বিভিন্ন কোম্পানির লোক আসবে, তারা কিনে নিয়ে যাবে আর বেশি দামে বিক্রি করবে। এগুলো কোনওটাই আর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নয়।আজ কী হয়েছে জানেন? আপনার আলু আপনি রাখতে পারবেন না, আপনার চাল আপনি রাখতে পারবেন না। আমরা চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনতাম, যখন আলুর দাম বাড়ত আমরা সাধারণ মানুষকে কম দামে দিতাম। কৃষকের নিরাপত্তা থাকবে না, তাই সারা দেশে আলোচনা চলছে। না হলে কৃৃষকরা যা ফসল ফলায় সব নিয়ে যাবে কালোবাজারি, মুনাফাখোর, মজুতদাররা নিয়ে চলে যাবে। বিজেপিকে বলুন ওই আইন প্রত্যাহার করুন।

 

Related Articles

Back to top button
Close