fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্যপাল রাজ্যের প্রধান, একজন বিরোধী দলনেতার মতো কথা তাঁকে শোভা পায় না: ফিরহাদ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যপাল পদের অমর্যাদা করছেন। তোপ দাগলেন পুরমন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। শনিবার রাজ্য- রাজ্যপালের টুইট যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে এমনটাই মন্তব্য করলেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘উনি (রাজ্যপাল) রাজ্যের প্রধান। একজন বিরোধী দলনেতার মত কথা তাঁকে শোভা পায় না। কেউ ওনাকে উচিত পরামর্শ দিন।’

 

 

বেওয়ারিশ লাশ বিতর্কে সরগরম রাজ্য- রাজ্যপাল সংঘাত। কখনো বা তৃণমূল মহসচীব, কখনো পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে টুইট যুদ্ধে দেখা গেল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে। শুক্রবার টুইট করে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের কাছে বেওয়ারিশ লাশ প্রসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। যদিও এই বিষয়ে রাজ্যপালকে কোনো রিপোর্টই দেওয়া হবে না বলে সেই দিনই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী। কিন্তু শনিবার একটি টুইট করে রাজ্যপাল বলেন, পুর কমিশনার তাঁকে এই প্রসঙ্গে রিপোর্ট দিয়েছেন। এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও কমিশনারের তরফে দেওয়া হয়েছে টুইট করে জানান রাজ্যপাল।

 

 

এদিকে এর পর ফের একটি টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, ‘কেএমসি চেয়ারপার্সন আমাকে ফোন করতে ভুলে গেছেন। তিনি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। পৌর কমিশনার এর মাধ্যমে তাকে আমার সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছি।’ এদিন রাজ্যপালের এই টুইটের পরেই পাল্টা টুইট করেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যপালের নাম না করে টুইটে তিনি লিখেন, ‘রাজ্য সরকার ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে জনগণের জন্য। যখন কিছু লোক ফেক নিউজ ছড়ানোর জন্য আগ্রহী।’ এই টুইটের সঙ্গেই কর্পোরেশনের দেওয়া একটি অর্ডারের ছবি জুড়ে দিয়েছেন প্রশাসক। তার সঙ্গেই অ্যাটাচ করা হয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের টুইটটি।

 

 

বেওয়ারিশ লাশ প্রসঙ্গে রাজ্যপালের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের একবার সরব হন পুরমন্ত্রী। বলেন, ‘পদের অমর্যাদা করছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল পক্ষপাতিত্ব করছেন। আক্রমণ নয়, রাজ্যপালকে পরামর্শ দিতে হয়।’

 

 

 

অন্যদিকে, বেওয়ারিশ লাশ বিতর্কে রাজ্যবাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেন রাজ্যপাল। সে বিষয়ে ফিরহাদের বক্তব্য, ‘এই ঘটনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই। মৃতদেহ দাহ করার বিষয়টি কলকাতা কর্পোরেশনের কাজ। মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কাজ নয় এটা। উনি মুখ্যমন্ত্রীকে টানছেন মানে রাজনীতি করছেন। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বা সুজন চক্রবর্তীরা মুখ্যমন্ত্রীকে জড়াতে পারেন, কিন্তু উনি(রাজ্যপাল) রাজ্যের প্রধান। একজন বিরোধী দলনেতার মত কথা তাঁকে শোভা পায় না। রাজ্যপালের আচরণ পক্ষপাতমূলক।’

Related Articles

Back to top button
Close