fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রান্তিক মানুষের শিক্ষায় নিয়োজিত নিবেদিতা পেলেন ‘মেদিনী আচার্য’

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: ঘাটাল কোর্ট সংলগ্ন পাড়া এবং বস্তিগুলির প্রান্তিক মানুষদের সন্তানদের শিক্ষা প্রদান এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে অবিচল আজও। বলা যায় নিবেদিত প্রাণ। এহেন নিবেদিতা মুখ্যার্জী মজুমদারকে শিক্ষক দিবসের দিন শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২০ সালে ‘মিডনাপুর-ডট-ইন’ কর্তৃক প্রদত্ত “মেদিনী আচার্য” সম্মান দেওয়া হল।

পড়াশোনা চলাকালীনই তাঁকে সংসারের ভার নিতে হয় এবং শুরু করেন চাকুরী জীবন। স্বামী প্রণবানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৩ সাল থেকে ঘাটাল শহরে নিবেদিতা তাঁর সেবাকাজ শুরু করেন। তারপর তিনি ২০০২ সালে চাকুরীসুত্রে বদলী হয়ে আসেন মেদিনীপুর শহরে। এবং ২০০৩ সালেই আবার নতুন ভাবে শুরু করেন সেই সেবাকাজ। যা তিনি ঘাটালে দীর্ঘদিন ধরে করে গেছেন।

দীর্ঘ সতেরো বছরে মেদিনীপুরের ঝর্নাডাঙ্গা বস্তি এবং নিবেদিতা পল্লীর প্রায় শতাধিক শিশু প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং কলেজ স্তরের শিক্ষা তাঁর উদ্যোগে এবং সহায়তায় সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। আজ প্রায় পঞ্চাশটি ছাত্র ছাত্রীর যাবতীয় শিক্ষার দায়িত্ব তাঁর। সেই সাথে তাঁদের মা দেরকে নিয়ে তিনি গঠন করেছেন ‘মাতৃমন্ডলী’। সেখানে তাঁদের মধ্যেও শিক্ষা বিস্তার থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানের নিরলস চেষ্টা তিনি করে চলেছেন। আগামী দিনে নিবেদিতার লক্ষ্য, সমগ্র মেদিনীপুর শহরের অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল, সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। তাঁদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে চিরাচরিত প্রথার রদবদল…

বহু শিশুশ্রমিককেও তিনি শিক্ষার মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। শিক্ষাবিস্তার ছাড়াও তিনি এই দুটি জায়গার ছাত্রছাত্রীদের নানান সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এখনও করেছেন। তাঁর জন্ম ঘাটাল শহরে। শিশু শ্রেণী থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর অবধি ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর অগনিত ছাত্র ছাত্রীরা। তাঁদের শিক্ষার্থে দশজন শিক্ষক শিক্ষিকা নিযুক্ত করেছেন তিনি। সেই সাথে নাচ আঁকা সহ অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের শিক্ষার জন্যও নিযুক্ত করেছেন শিক্ষক।

মিডনাপুর ডট ইনের কর্নধার অরিন্দম ভৌমিক বলেন, খুব সম্প্রতি তাঁর ছাত্র রবি দাস, যাঁর পরিবার একসময় কীর্তনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত, আজ স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রথম শ্রেণীতে। সে বর্তমানে বি এড পড়ছে। এই বিরাট কর্মকান্ড নিবেদিতা করে চলেছেন কোনরকম সরকারী বা বেসরকারী সংস্থার সাহায্য ছাড়াই। মূলতঃ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং কিছু সহৃদয় মানুষের কায়িক এবং অর্থনৈতিক সাহায্যের মাধ্যমে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে এই উদ্যোগ রূপায়নে সাহায্য করেছেন আল্পনা ভট্টাচার্য, রুবি দাস বর্মণ, চৈতালী দাস বর্মণ এবং সবিতা নাগ। স্বভাবতই সবাই খুশি তাঁর এই পুরস্কার পাওয়াতে।

Related Articles

Back to top button
Close