fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সুতাহাটায় ৬৪ পরিবারের পাশে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটা ব্লকের চারটি গ্রাম এরাখালি, নতপাতিয়া, সদারামচক এবং রায়নগর। এখানে বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা মাছধরা। এটাই আয়ের মূল উৎস। কোরোনা আবহে যা পুরোপুরিই তলানিতে এসেছে। বেশিরভাগ ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষজন। বর্তমানে আর্থিকভাবে বিপন্ন। দারিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। আমফানে এখানে বেশিরভাগ বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে এবং অসংখ্য গাছ ভেঙে পুরো নষ্ট গিয়েছে। এলাকার সমস্ত ক্ষেতের ফসল নষ্ট। যার ফলে এখানকার চাষিরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি এখন। সেইসঙ্গে অসংখ্য বিদ্যুতের পোস্ট উপড়ে গিয়ে তার ছিঁড়ে গিয়েছে। আমফানের পরেও কার্যত ১৫ দিন টানা এই এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। পানীয় জলের হাহাকার আর সেই সঙ্গে সরকারিভাবে ত্রাণের অপ্রতুলতা এই উপকূলের মানুষজনের এখন নিত্যসঙ্গী।

 

 

এখানকার সেইসব হতভাগ্য মানুষগুলো সরকারিভাবে কিছু সাহায্য পেলেও তা আশানুরূপ নয়। বিভিন্ন সংস্থা এসে সাহায্য করে গেছে। এমন অবস্থায় হলদিয়া উপকূল এলাকার সুতাহাটা ব্লকের এই চারটি গ্রামে আজকে পৌছে গিয়েছিল অবিভক্ত মেদিনীপুরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। পৌঁছে দিলো যৎসামান্য ত্রাণসামগ্রী।সংগঠনের সাত জন স্বেচ্ছাসেবী সদস্য ও সদস্যা উপস্থিত থেকে এলাকার ৬৪ টি গরিব পরিবারের হাতে নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেয় এদিন। ত্রিপল সহ আলু, পিঁয়াজ, মুসুর ডাল, সোয়াবিন, মুড়ি, সরিষার তেল, চা, গুঁড়ো দুধ, বিস্কুট, সুজি, মশারি ইত্যাদি মোট ১৬ দফা সামগ্রী পৌঁছে দিলেন দুর্দশাগ্রস্ত মানুষজনের হাতে।

 

 

সংগঠনের জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ প্রসাদ ঘড়া বলেন, সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি, দেশ বিদেশে থাকা সংগঠনের বহু শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো আর্থিক সহযোগিতায় এই ত্রাণ তুলে দেওয়া সম্ভব হল। আমফানের পরে প্রায় এ পর্যন্ত দুই মেদিনীপুর জেলার মায়াচর, কাঁথি উপকূলের তিনটি গ্রাম, জঙ্গলমহলের দুটি গ্রাম সহ প্রায় ৪০০ টি পরিবারের হাতে এইরূপ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের টার্গেট, আরও একশত পরিবারের হাতে জিনিসপত্র তুলে দেওয়া। পাশাপাশি আমরা গাছ লাগানোর ও গাছ বাঁচিয়ে রাখার কথাও বলেছি। মৌসম মজুমদার বলেন, সুতাহাটার গ্রামগুলির বেশিরভাগ মানুষ ধীবর সম্প্রদায়ের। কিছু সময় নদীতে মাছ ধরে ও বছরের বাকি সময় ইট ভাটায় ও অন্যান্য কাজে যুক্ত থেকে সংসার চালান। লকডাউনে অনেকের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলনা। তার উপর আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশ কিছু পরিবার। কিছু মানুষ কোম্পানি থেকে লকডাউনে ছাঁটাই হয়েছেন। তাই আমরা এহেন গ্রামকেই বেছে নিয়েছি।

 

 

সংগঠনের এখন লক্ষ্য এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সংগঠনের কাজ, বিপদকালীন অবস্থায় নিজেদের সাধ্যমতো এইসকল মানুষের পাশে থাকা ও তাঁদের মনোবল বাড়িয়ে দেওয়া। যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে ও রোজগার করে নিজের সংসার চালাতে পারে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মৌসম মজুমদার, চন্দন মণ্ডল, সৌমিত্র মান্না, শুভঙ্কর ভূঁইয়া, গৌতম নন্দ, কমলিকা সামন্ত, বিজয় দাস, শ্যামল সেন প্রমুখ।

Related Articles

Back to top button
Close