fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আর্তজনের জিওনকাঠি ‘মেদিনীপুর ছাত্র সমাজ’

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : যেখানে কেউ যায়না, সেখানে মেদিনীপুর ছাত্র সমাজের আনাগোনা। চূড়ান্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান কিডনীর সমস্যায় আক্রান্ত অমিত দাস। তাঁর দুটি কিডনীই প্রায় বিকল। নিয়মিত ডায়ালিসিস, চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন অর্থের। সদ্য পিতৃহারা ভাই-এর পরিবারে রয়েছেন মা এবং ঠাকুমা। পরিবারের একমাত্র সম্বল এই অমিত। তাই ওকে লড়তেই হবে, বাঁচতেই হবে। কিন্তু অন্তরায় সেই অর্থ। তাঁর পাশেই দাঁড়ালো এঁরা।

 

অর্থের অভাবে শিক্ষালাভের সুযোগটুকুও বন্ধের মুখে। অর্থের অভাবে জীবনটাও কি তাহলে চলে যাবে? এত সহজে কি প্রিয় অমিতের লড়াই থেমে যাবে? আসলে তখন কেউই যখন পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করে নি, তখন ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ’ আবেদন রেখেছিল শুভানুধ্যায়ী সহৃদয় মানুষজনের কাছে সুস্মিতা লোহার এবং অমিত দাসের জন্য। বহু মানুষ সরাসরি ওঁদের অ্যাকাউন্ট মারফৎ সহায়তা করেন।

 

প্রাণোচ্ছল সুস্মিতার গত ৯ ই জুলাই প্রথম অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই সুস্মিতার জন্য সংগৃহীত অর্থের অর্ধেক নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলো ওঁর বাড়ি। মেদিনীপুর ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিরা। তুলে দেওয়া হোলো সেই অর্থ ওঁর হাতে। ক্যান্সারের সাথে লড়াই, তাও মুখে হাসি। প্রাণচঞ্চল কথাবার্তা। নার্সিং এর পড়াশোনা, পরীক্ষার কথাবার্তা, স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে, আরো কতো স্বপ্ন নিয়ে কথা। তাঁর সেইসব স্বপ্ন‌ পূরনের প্রকৃত  জিওনকাঠি হয়ে হাজির অচেনা অজানা দাদারা।

 

এবারে পথে নামা সম্ভব হয়নি করোনা আবহে। তাই এটাই একমাত্র পথ ছিল অর্থ সংগ্রহের। সংগৃহীত অর্থের অর্ধেক সুস্মিতার হাতে তুলে দেওয়া হয় অস্ত্রোপচারের আগেই। সেই অস্ত্রোপচার সফল ভাবেই হয়েছে। বাকি অর্ধেক অর্থ আবারও অমিতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

মা ঠাকুমার চোখের জল সামলেও এই অল্প বয়সেও বেঁচে থাকার লড়াই করার, শিক্ষালাভের লড়াই করার, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হ‌ওয়ার লড়াই করার ইচ্ছেকে কুর্নিশ জানালো মেদিনীপুর ছাত্র সমাজ।

তবে এখনো অর্থের প্রয়োজন। তাই লড়াই ছাড়ছেনা এই অজেয় দাদারা।

 

কিছুদিন পূর্বেই রাজ্যের বেশ কিছু জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়ংকর দুর্যোগ আমফান। বহু মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সংকট দেখা দেয়। এর সাথেই বহু মানুষ দূর্ঘটনাগ্রস্ত হোন। মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ আমফানপর্বে সুন্দরবন সংলগ্ন কৌতলা গ্রামে গিয়ে জানতে পারে এমন‌ই এক দূর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর পুরকায়েত আমফান ঝড়ের সময় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে আশ্রয় নিতে দৌড়ে যাওয়ার সময় একটি ইলেকট্রিক পোস্ট পায়ে পড়ে যায়। ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত ডান পা অবশেষে বাদ দিতে হয়। কিন্তু বাকি পায়ের ক্ষত সারিয়ে তোলার প্রত্যেক  মাসের ঔষধ খরচ‌ও অনেক। কিন্তু যে দুর্যোগে মাথার ছাদটুকু উড়ে গেছে, তাঁর পক্ষে ঔষধের খরচ আসবে কোথা থেকে? তাই মেদিনীপুর ছাত্র সমাজের কাছে আবেদন আসে কিছু অর্থ সাহায্যের, যাতে প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনা যায়। মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ তাই সাধ্যমত কিছু অর্থ সাহায্য পাঠায় হাসানুরের জন্যে। ছাত্রসমাজের সদস্য কাশিফুর রহমান ওই অর্থ তুলে দেন তাঁর হাতে। এভাবেই আর্তের আর্তনাদে সহমর্মিতার আতর ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘মেদিনীপুর ছাত্র সমাজ’।

Related Articles

Back to top button
Close