fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শ্রমিকদের ৬০০০ টাকা সাহায্যের দাবিতে শ্রমমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কয়েক হাজার হোসিয়ারী শ্রমিক চরম সংকটের সম্মুখীন। রুজিরুটি হারিয়ে বেসামাল তাঁদের অবস্থা। সংসার কিভাবে চলবে তা নিয়ে চরম সংকটে সকলেই। আসলে নোবেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে সরকারের ডাকা লক ডাউনের ফলে এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সারা দেশের মতো এরাজ্যেও হোসিয়ারী শ্রমিকদের ঘাড়ে পড়েছে খাড়ার ঘা।

পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য শ্রমিক এখন কর্মহীন। কবে আবার কাজ জুটবে কেউ জানে না। এমতবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে কারখানার মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে হোসিয়ারী শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করতে হবে।

কিন্তু এই নির্দেশ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোন হোসিয়ারী কারখানার মালিকই শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য করার ক্ষেত্রে বা মজুরি বাবদ টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি কারখানার মালিকরা। নীরব দর্শকের মতো সকলেই।

তাই ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারী মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাজ্যের শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে শ্রমিকদের স্বার্থে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে অবিলম্বে কারখানার মালিকরা যাতে শ্রমিকদের এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সাহায্য করে ও ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পে সমস্ত শ্রমিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অন্তত ছয় হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেয়। যদিও সরকার ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্পের ফর্ম জমা নেওয়া আপাতত স্থগিত রেখেছে।

স্মারকলিপিতে ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মধুসূদন বেরা এবং যুগ্ম সম্পাদক নেপাল বাগ ও তপন কুমার আদক অভিযোগ করেন, এমনিতেই চলতি বছরে হোসিয়ারী শিল্পে মন্দা চলছিল। লাভের ভাঁড়ার ছিলো তলানিতে। তারপর এই লকডাউন পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা তাঁদের সন্তান সন্ততিদের মুখে দুবেলা অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে সরকারি সাহায্য বা মালিকদের দেওয়া বেতন বা আর্থিক সহায়তা না পেলে প্রতিটি হোসিয়ারী শ্রমিককে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়তে হবে। একটা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে চলেছেন সকলেই।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না, নন্দীগ্রাম, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, তমলুক, শহীদ মাতঙ্গিনী, চণ্ডীপুর সহ কয়েকটি ব্লকে ছোট বড় মিলে সহস্রাধিক হোসিয়ারী কারখানা রয়েছে। যেখানে প্রায় পনের থেকে কুড়ি হাজার শিশু, মহিলা সহ শ্রমিকেরা কাজ করে। প্রত্যেকেরই আজ চরম দুর্দিন চলছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়কেই গঠনমূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close