fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ইতিহাসের চোলহ্রদ নির্মাণের পথে ভারত, বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ দিল্লির, স্ট্র্যাটেজি NAVY-র

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কঃ একেই বলে ঘেরা বন্দী হওয়া।পাহাড়ের পর এবার সাগর সামরিকিকরণের দিকে ভারত। অরুনাচল থেকে হিমাচল হয়ে লাদাখ হিমালয়ের  কোলে রণসজ্জার পর এবার বঙ্গোপসাগরের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় সেনা। তৈরি  আগামী ১০ বছরের মাস্টার প্ল্যান। দক্ষিণ এশিয়ায় যখন ভারতের সামরিক ঝঙ্কার ক্রমেই বাড়ছে, তখন  দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। ইতিমধ্যে সেখানে USS Nimitz কে মোতায়েন করেছে আমেরিকা। পাশাপাশি গতকাল আরও দুই যুদ্ধ জাহাজ ওই এলাকায় পাঠিয়ে বেজিংয়ের রক্ত চাপ আরও বাড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস।

অন্যদিকে, পাহাড় থেকে সাগর, তৈরি ইন্ডিয়ান আর্মি ৷ লাদাখে লাল সেনার সামনে ভারতীয় সেনার সিংহের গর্জন। এবার সমুদ্রে বেজিংকে টেক্কা দিতে স্ট্যাটেজি তৈরি করছে নয়াদিল্লি। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্দামান-নিকোবরে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে সেনা।

একদিকে আলোচনার টেবিলে চলছে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা। অন্যদিকে সামরিক শক্তি গুছিয়ে রাখছে ভারত। আন্দামান-নিকোবরের কাছ দিয়েই জ্বালানির তেল আমাদানি করে চিন। এদিকে ভারতের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা চিনের ঋণের বোঝায় বেসামাল ৷ তাই অবস্থানগত দিক থেকেই বঙ্গোপসাগরে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ গুরুত্বর্ণ।সূত্রের খবর, ২০০১-এ তৈরি আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ড প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিরক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে আগামী ১০ বছরের জন্য ৫,৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে দ্বীপপুঞ্জে স্থায়ী যুদ্ধবিমান ঘাঁটি তৈরির সিদ্ধান্ত। এছাড়াও, শিবপুরে নৌসেনার এয়ারস্টেশন INS কোহাসারের রানওয়ের দৈর্ঘ্যও বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর।

PLA -র ঘাম ছোটাতে তৈরি হচ্ছে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সুখোই 30MKI, MI-17 V5 হেলিকপ্টার, ডোরনিয়ার 288 প্লেন সহ একাধিক যুদ্ধ বিমান স্থানীভাবে সেখানে রাখার ভাবনাও করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক৷

বঙ্গোপসাগরে নৌ-শক্তি বৃদ্ধি করলে তা ভারত মহাসাগরের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও সুবিধে জনক জায়গায় চলে যাবে ভারত। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, চোল রাজবংশের শাষণকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বানিজ্যিক ও নৌ-কৌশলগত কারণে বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক নৌ-রণসজ্জায় সজ্জিত হয়েছিল বঙ্গোপ াগর এলাকা। যা পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করত চোলেরা।

তদকালীন চিনের মিং বংশের সঙ্গে সংঘাত ও বানিজ্য অনেককিছুর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই এলাকা। চোলেদের নিয়ন্ত্রণের জন্য  ইতিহাসে এই এলাকা চোলহ্রদ নামেই পরিচিত। ভারতের এই কৌশলগত পরিকল্পণা বাস্তবায়িত হলে আগামীতে চোলহ্রদ পুণরায় গড়ে উঠবে আশা করা যায়।

Related Articles

Back to top button
Close