fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

পরিযায়ী শ্রমিক এখন আতঙ্ক! এজন্য দায়ী কে?

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস : অবশেষে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঘরে ফিরছে। ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক বাড়ছে জনমনে। কারণ, পরিসংখ্যান যা বলছে তাতে শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ সংক্রমিত এবং এরাই জীবাণুটাকে বয়েনিয়ে আসছে। এদের সংস্পর্শেই এই ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কা কিন্তু প্রতিটি জেলার আক্রান্তের সংখ্যা সহ রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট ই নিশ্চিত করে দিচ্ছে।

 

 

কিন্তু প্রশ্ন, এর জন্য দায়ী কে বা কারা? পরিযায়ী শ্রমিকেরা এই রাজ্যের ই তো ছেলেমেয়ে! এরা এদের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের জেলা সহ নিজ বাসস্থানে ফিরে আসবে এটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা। ওদের নিজভূমিতে ফিরে আসার অধিকার সংবিধান সম্মত এবং জন্মগত।এখানে আমি, আপনি কিংবা কোন রাজনৈতিক দল বাঁধা দেওয়ায় কে? এদের নৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবার স্পর্ধা কেন্দ্র-রাজ্য কোন সরকারের ই নেই ,তাহলে এদের নিয়ে এত নোংরা রাজনীতি কেন? এরা ও তো ভোটের সময় নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে পছন্দের দলকে সমর্থন সহ রাজনৈতিক দল গুলিকে খুশি করতে ভোট দিতে রাজ্যে ফিরে আসে! তখন কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি এদের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে থাকেন।

 

 

 

রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেএই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকেরা। ব্যক্তি কিংবা দলগত স্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্য তখন যদি এদের ব্যবহার করতে ভালো লাগে, তাহলে এই সময়ে এদেরকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এতটা অনীহা এবং তাচ্ছিল্য কেন? এরাওতো আমার আপনারই ঘরের সন্তান।পড়াশোনা শিখে ডিগ্রি নিয়েছে এ রাজ্যেই চাকরি হবে বলে কিন্তু দুর্ভাগ্য এই রাজ্য সরকার এদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেনি এবং কেন পারেনি এ প্রশ্নের উত্তর তো রাজনৈতিক দলগুলিকেই দিতে হবে আর উত্তর শুধু শাসক দল কেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে হবে । কারণ,রাজ্য তথা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দেশ তথা সমাজ গঠনে শাসক দলের ভূমিকার পাশাপাশি বিরোধী দলেরও কিন্তু একটা গঠনমূলক ভূমিকা থাকে; তাহলে সেই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার রাজ্যবাসী নেবে না, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে।

 

 

 

খোঁজখবর নিলেই দেখা যাবে, এই সমস্ত শ্রমিকেরা অধিকাংশই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, কেউবা টেকনিক্যাল কোর্স যেমন আইটিআই, হোটেল ম্যানেজমেন্ট,প্যারামেডিকেল এই ধরনের নানাবিদ্ কোর্স করে নিজের রাজ্যে চাকরির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে, বাধ্য হয়েছে আত্মনির্ভরের লক্ষে ভিন রাজ্যে যেতে। প্রত্যেক সন্তানের ই একটা পবিত্র দায়িত্ব এবং কর্তব্য থাকে, পড়াশোনা শেখার পর আত্মনির্ভর হয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ঘর সংসার সহ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ,ভগ্নির বিবাহ, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব ইত্যাদি। ফলে একজন কর্ম প্রার্থীর সামাজিক দায়িত্ব ভার পালনের ক্ষেত্রে রাজ্য যখন ব্যর্থ তখন বাধ্য হয়ে এদেরকে ভিন রাজ্যে যেতে হয়েছে।এটা কি এইসমস্ত ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের অপরাধ? আসলে এই ব্যর্থতার দায় কার? রাজ্যের না কর্ম প্রার্থীর! এই প্রশ্ন কিন্তু তোলা থাকলো সম্মানীয় পাঠকদের জন্য।

 

 

 

এদের উপার্জিত অর্থ ব্যাঙ্কিং লেনদেনের মাধ্যমে পরিবারে হস্তান্তরের সময় রাজ্য সরকারের কিন্তু একটা রেভিনিউ ইনকাম এখানথেকে পেয়ে থাকে।তাহলে দায়িত্ব ও দায় থেকেএড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ ই নেই রাজ্য সরকারের।আন্তর্জাতিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে লকডাউন প্রেক্ষাপটে ভিন্ রাজ্যে আটকেপড়া শ্রমিকেরা যখন নিজ রাজ্যে ফিরতে চাইছে তখন এদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের এত অনীহা কেন? উত্তর যদি হয় তড়িঘড়ি ফিরিয়ে আনলে সংক্রমণ বেড়ে যাবে , তাহলে আবার প্রশ্ন জাগে, লকডাউন বলবৎ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেকটা সময় তো পাওয়া গেল,তাহলে এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এদের ফেরানোর ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি কেন?যেখানে অন্য রাজ্যগুলি পরিকল্পনা মাফিক খসড়া তৈরি করে তাদের সমস্ত শ্রমিককে ফিরিয়ে নিতে সামর্থ হলেন, তখন একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, পারল না কেন? শূধু তাইই নয়, এখনো প্রচুর শ্রমিক বাইরে আটকে আছে কেন? এর প্রত্যুত্তরে হয়তো রাজ্যের তরফ থেকে বলা হবে, কেন তড়িঘড়ি লকডাউন ডেকে ভূল সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?

 

 

 

লকডাউন ঘোষণা করার আগে প্রধানমন্ত্রী কেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন না। আলোচনায় বসে কোন রাজ্যে কত শ্রমিক আটকে আছে সেই তথ্য নিয়ে তাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করে, তারপর লকডাউন কার্যকর করলে হয়তোএই অবস্থা হোত না।শুনতে কথাগুলি খুব ভালো লাগলেও বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি কিন্তু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার চরম সম্ভাবনা ই ছিল।আর প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের মিটিং করে কোন লাভ ই হোত না।তার কারণ,কত শ্রমিক ভিন রাজ্যে কর্মরত,এ রাজ্যের হাতে তো সে তথ্যই নেই,তাহলে এই ভাবনা টা অবান্তর নয় কি? আচ্ছা বলুন তো,এ রাজ্যের কত শ্রমিক বাইরের রাজ্যে আটকে আছে? এই তথ্য কি রাজ্য সরকারের কাছে আছে বাঐ সময়ে ছিল? এখনো ও পর্যন্ত যখন সব রাজ্য,তাদের শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সামর্থ হল,তখন এরাজ্য কিন্তু পারল না এ রাজ্যের কত শ্রমিক বাইরের রাজ্যে আটকে পড়েছে,তার কোন সঠিক তথ্যই রাজ্য সরকারের হাতে নেই। কোন রাজ্যে কত শ্রমিক আটকে আছে? তাহলে ওই সময় প্রধানমন্ত্রী যদি এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে বলতেন আপনার রাজ্যের কত শ্রমিক কোন রাজ্যে আটকে আছে এবং কোন রাজ্য থেকে কতগুলো ট্রেন আপনার লাগবে তাহলে, কি উত্তর দিতেন মাননীয়া। তিনি কি জানাতে পারতেন, কোন রাজ্যে কত শ্রমিক আটকে আছে এবং এ রাজ্য থেকে কত শ্রমিক কোন রাজ্যে কি কি ধরনের কাজ করতে গিয়েছে, কারণ তার কাছে কোন তথ্যই তখন ছিল না এবং রাজ্য সরকারের হাতে এখন ও নেই এবং তিনি তো বরাবরই দাবি করে আসছেন পশ্চিমবঙ্গ সবদিক থেকেই স্বনির্ভর, এগিয়ে বাংলা।

 

 

 

 

বহু কর্মসংস্থান হয়েছে রাজ্যে । ৭৯ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই তিনি করে ফেলেছেন ।তাহলে প্রশ্ন,এত ই যদি কর্ম সংস্থান হয়ে থাকে রাজ্যে, তাহলেএত কর্মপ্রার্থীর সংখ্যা রাজ্যে আসে কোথা থেকে আর বাইরে কাজ করতে যাবে ই বা কেন? নাকি মাননীয়ার তথ্যে কোন ভূল আছে? ঘটনায় আর কিছু হোক না হোক, এ রাজ্য যে কর্ম সংস্থান এর দিক থেকেএগিয়ে নয়,পিছিয়েই আছে এটা অন্তত প্রমাণ হল। পরিসংখ্যান কিন্তু সেরকম টাই বলছে। এখনো পর্যন্ত রাজ্যে সরকারের কাছে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঠিক তথ্য নেই। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরো একটি দাবি করা হচ্ছে, ভিন রাজ্যে আমাদের শ্রমিকরা যেমন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেয়ে থাকে তেমনি অন্য রাজ্য থেকেও শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে এরাজ্যে আসে, কথাটা একদম ঠিক, তবে সে সংখ্যাটা অত্যন্ত নগন্য,কারণ তা না হলে অন্য রাজ্য সরকার গুলি,তাদের শ্রমিকদের নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কলকাতা বা হাওড়া থেকে কটা ট্রেন এখনো পর্যন্ত চেয়েছে,ঘটনায় ই কিন্তু প্রমাণিত, সংখ্যা টা অত্যন্ত নগণ্য।

 

 

 

যাওবা কিছুসংখ্যক শ্রমিক এরাজ্যে আটকে ছিল, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে, ফলে শাক দিয়ে আর মাছ ঢাকার প্রবণতা না দেখিয়ে প্রকৃত তথ্য এবং সমস্যা উদ্ঘাটন করে তার সমাধানের চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Articles

Back to top button
Close