fbpx
দেশহেডলাইন

শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের, রিপোর্ট পেশ রেলমন্ত্রকে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশের নজর পরিযায়ী শ্রমিকদের দিকে। প্রায় গত এক মাস ধরে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঘরে ফিরছেন। তার জেরে দেশের করোনা মানচিত্রই বদলে গিয়েছে। এখন সব আলোচনার কেন্দ্রতেই এই শ্রমিকেরা।পরিযায়ী শ্রমিকদের এই বাড়ির ফেরার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কতজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে, এতদিন তার কোনও হিসেব ছিল না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রকের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, ‘সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে লোক তুলে রেলমন্ত্রক কি শ্রমিক এক্সপ্রেসের বদলে করোনা এক্সপ্রেস ঢুকিয়ে দিতে চাইছেন?’ শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে জল, খাবারের কোনও সুষ্ঠু বন্দোবস্ত নেই বলেও অভিযোগ করেন মমতা। মঙ্গলবারই কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মৃত মায়ের শাড়ির আঁচল টেনে ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করছে তিন বছরের সন্তান। সম্প্রতি রেলমন্ত্রক একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে এখনও পর্যন্ত মোট ৮০ জন শ্রমিকের পথেই বিভিন্ন কারণে মৃত্যু হয়েছে।

৯ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। রেলমন্ত্রককে দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছে আরপিএফ। রেলের ডিভিশন উল্লেখ করে কোথায় কত মৃত্যু হয়েছে তার প্রাথমিক তালিকা রেলকে জমা দিয়েছে আরপিএফ। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের তরফে বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। অনেকের বক্তব্য, সম্পূর্ণ রিপোর্ট এলে দেখা যাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ১ মে থেকে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফেরানো শুরু করে কেন্দ্র সরকার। ২৭ মে পর্যন্ত তিন হাজার ৮৪০ টি ট্রেন চলেছে বলে রেলের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কমবেশি ৫০ লক্ষ মানুষ এই সব ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরেছেন। রেলের তরফে বলা হয়েছে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের অধিকাংশই রোগী। তাঁরা চিকিত্‍সা করিয়ে ফিরছিলেন। অনেকের বয়সজনিত অসুস্থতাও ছিল। খাবার, জল না পেয়ে.মৃত্যুর যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাকে নস্যাত্‍ করে দিয়েছে রেলওয়ে বোর্ড।

আরও পড়ুন: ফের দুর্ঘটনার কবলে পরিযায়ীরা, শ্রমিক বোঝাই বাস উল্টে গেল ওড়িশায়, আহত বহু

আরপিএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে পূর্ব-মধ্য, উত্তর-পূর্ব, উত্তর, উত্তর-মধ্য জোনে। মৃতদের বয়স ৪ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে আরপিএফ। একাধিক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সন্তান প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে। এ ব্যাপারে দু’দিন আগেই রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আবেদন করেন, কোনও অসুস্থ এবং অন্তঃসত্ত্বা যেন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে না ওঠেন। তিনি বলেন,১০ বছরের নীচে, ৬৫ বছরের উর্দ্ধে কেউ যেন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে না ওঠেন।

Related Articles

Back to top button
Close