fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের

মিল্টন পাল, মালদা: মুম্বাই ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু। পরিবারের অভিযোগ শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে ফেরার সময় খাওয়ার না পেয়ে অভুক্ত ছিল তিনদিন। যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হরিশচন্দ্রপুুুর থানার মনোহরপুর গ্রামে। মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে মৃত শ্রমিকের নাম পীযুষ দাস(১৫)। বাড়ি ওই এলাকায়। পীযূষ দাস মুম্বাইয়ের লোহার কারখানায় কর্মরত ছিলেন। করোনা সংক্রমনের জেরে কাজ হারায় সে। লক ডাউনে আটকে পরে। এরপর থেকে বাড়িও ফিরতে পারছিলেন না। ফলে সে সেখানেই ছিলেন। সম্প্রতি শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু হয়। সেই ট্রেনে করে মালদায় ৩১মে ফিরে এসে স্থানীয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ছিল। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পরলে জেলা প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মাশালদহের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপরই তার মৃত্যু হয়। তবে কি কারনে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানানো হয়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে তারা সংগ্রহ করা হয়েছে। খুব শীগ্রই তার রিপোর্ট চলে আসবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কাকা বচ্চন দাস জানান, ভিন রাজ্য থেকে ফেরার সময় সঠিক ভাবে খাওয়ার না পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। সে সরকারী নিয়ম মেনে স্থানীয় কোয়ারেন্টাইনে ছিল। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পরে সে। এরপর সোমবার রাত্রে মালদা মেডিকেল কলেজে ভাইপোর মৃত্যু হয়োছে। ভিন্য রাজ্য থেকে ফেরার পর ওর লালা রস নেওয়া হয়েছে ময়না তদন্ত হবে। আমরা চাই ভাইপোর দেহ আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। আমরা ওর শেষকৃত্য করতে পারি এই গ্রামে নিয়ে এসে।
জেলা পরিষদের শিশু নারী ও ত্রাণ কর্মাদক্ষ মর্জিনা খাতুন জানান বাইরে থেকে যারা বাংলায় ফিরছেন তাদের ব্যাপারে কেন্দ্র সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রেল দপ্তর কেউ এদের খাবার দাবারের ব্যাপারে আরও সচেতন থাকা উচিত ছিল। আজ কেন্দ্র সরকারের উদাসীনতার জন্যই এত শ্রমিকের মৃত্যু ঘটছে। এর দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে। আমি স্থানীয় প্রশাসন পক্ষ থেকে এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়াবো।

ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর মালদার সংসদ খগেন মুর্মু বলেন, যে রাজ্যের সরকার নিজের শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাদের মুখে অন্যের সমালোচনা মানায় না। যেসব শ্রমিকরা এসেছে তাদের সুস্থ পরিবেশের সঠিক ভাবে রাখার ব্যবস্থা আগে করুক। তারপরে না হয় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করবে।

হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নং ব্লকের ব্লক মেডিকেল অফিসার সাগর বসাক জানান সোমবার সকালেই পীযূষ দাস অসুস্থ অবস্থায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে এসেছিল। আমরা খবর পেয়ে তাকে প্রথমে মশালদা হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে অবস্থা খারাপ হলে মালদা মেডিকেল স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে।কিশোরের মৃত্যু সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। ছেলেটির লালা রস সংগ্রহ করা হয়েছে।রিপোর্ট আসলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close