fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিম্ন মানের খাবার, বিক্ষোভ দেখালো ভাতারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা, বিক্ষোভ মঙ্গলকোটেও

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে দেওয়া নিম্ন মানের খাবার খয়ে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এমন অভিযোগ তুলে রবিবার খাবার ছুড়ে ফেলে দিয়ে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন পরিযায়ী শ্রমিকর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের কোয়ারেন্টাই সেন্টারে ।খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ক্ষোভ বিক্ষোভ সামাল দেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়।এরপরেই করোনা টেস্টিং রিপোর্ট ছাড়াই প্রায় শতাধীক পরিযায়ী শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়া হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে।প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন ভাতারের বাসিন্দারা ।

ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া ভাতারের পরিযায়ী শ্রমিকরা লকডাউন চালু হবার পর বিপাকে পড়ে যান। বাধ্য হয়ে দিন ৪-৫ আগে শাতাধীক পরিযায়ী শ্রমিক ভাতারে ফিরে আসেন। তাঁদের সবাইকে রাখা হয় ভাতারের দাশরথী হাজরা মেমোরিয়াল কলেজে চালু হওয়া কোয়ারেন্টিন সেন্টারে।সেখানে থাকা পরিযায়ী  শ্রমিক সেখ মিঠু , সুরাত আলি সেখ প্রমুখরা এদিন বলেন , “কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যে খাবার দেওয়া হচ্ছে তা অতীব নিম্ন মানের ।  ওই খাবার খেয়ে তাঁদের অনেকের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ছে ।শুধু খাবারই নয় পানীয় জলও ঠিকঠাক মিলছে না। সৌচাগারও ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে । ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও যথাযথ হচ্ছে না । কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের জানিয়ে কোনা সুরাহা হয়নি ।পরিযায়ী শ্রমিকরা বলেন এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে এদিন তারা নিম্ন মানের খাবার ছুড়ে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদে সামিল হতে বাধ্য হয়েছেন ।”

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের তোলা অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেননি ভাতার গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান পরেশনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “পরিযায়ী  শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থা করার কথা ব্লক প্রশাসন থেকে তাঁকে জানানো হয়। কিন্তু হয় লক কডাউনে এলাকার সমস্ত হোটেল বন্ধ থাকায়। তবুও শতাধীক শ্রমিকরা এসে পড়ার পর তিনি একজনকে রাজি করিয়ে তাঁর বাড়িতে ভাত,ডাল ,সব্জী এবং ডিম রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। জল খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন । এই খাওয়া দাওয়া খরচ বাবদ প্রতি মিল ১০০ টাকা করে ধার্য করার কথা প্রশাসনিক কর্তাদের তিনি বলেছিলেন । কিন্তু তা কমিয়ে ৮০ টাকার মধ‍্যে করতে বলা হয় । এরুয়ার গ্ৰামের যে মহিলারা রান্নার কাজ করেন তারা ৮৫ টাকা দাবী করেন ।৮৫ টাকায় খাবার নিম্ন মানের হবে কি ভালো হবে সেটাই এখন বোঝার বিষয় । ”তবে কি কারণে দিল্লী ,গুজরাট ,মহারাষ্ট্র সহ অন্য রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের একসঙ্গে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছেড়ে দেওয়া তা নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ভাতারবাসী । এই বিষয়ে ভাতার পঞ্চায়েতের প্রধান কিংবা ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কোন কর্তাই সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চান নি ।

ভাতারের পাশাপাশি এদিন মঙ্গলকোটের কাশেমনগরের কোয়রান্টিন সেন্টারেরও অব্যাবস্থার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান পরিযায়ী শ্রমিকরা।তাঁরা এদিন কোয়ারেন্টাইন  সেন্টারের গেটের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা সেখানে পৌছান । ক্ষোভ বিক্ষোভ সামালদিতে তাঁদের হিমসিম
খেতে হয়। বিক্ষোভে সামিল পরিযায়ী শ্রমিকরা বলেন , “কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে অব্যাবস্থা চরমে । খাবার দেওয়া হচ্ছে নিম্ন মানের। পানীয় জলও ঠিকঠাক মিলছে না । ” পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে মঙ্গলকোটের বিডিও মোস্তাক আহমেদ বলেন , ‘কোয়রেন্টাইন সেন্টারের শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুরই বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তা সত্বেও তারা একের পর এক জিনিসের দাবি করে চলেছে। অনেকে আবার বাড়ির মতো সুবিধা চইছে ।এদিন সেন্টারে গিয়ে সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে । ’

 

Related Articles

Back to top button
Close