fbpx
দেশহেডলাইন

লকডাউনে তীব্র অর্থাভাব, ১৫ দিনের শিশুকে ৪৫ হাজারে বেচে দিলেন পরিযায়ী শ্রমিক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউনের কারণে একরকম ঘরবন্দি সবাই। কাজ হারিয়েছেন পরিযায়ীরা। যার ফলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে অর্থাভাব। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ীদের অসহায়ত্বের ছবি উঠে আসছে। কাজ হারিয়ে সংসার চালানো বড় কঠিন হয়ে উঠেছে। তীব্র অর্থাভাবের কারণে বাধ্য হয়ে নিজের মাত্র ১৫ দিনের মেয়েকে বিক্রি করে দিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে অসমে। শিশুপাচারের অভিযোগে গ্ৰেফতার করা হয়েছে দুই মহিলা এবং শিশুর বাবাকে। পুলিশ সন্তানটিকে উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, গুজরাতে কাজ করতে গিয়েছিলেন অসমের ধানতোলা মান্দারিয়া এলাকা বাসিন্দা দীপক ব্রহ্ম ও তাঁর স্ত্রী। সেখানে তাঁরা শ্রমিকের কাজ করতেন। করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁরা কর্মহীন হন। এই আবহে কাজ যোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাচুগাঁও পাতাগ্রামে নিজেদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তারা থাকতে শুরু করে। তীব্র অনটনের মধ্যেই দীপকের স্ত্রী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এটি তাঁদের দ্বিতীয় কন্যা। প্রথমটির বয়স মাত্র এক বছর। অনেক কাজ খুঁজেও কোনও কিছু না পেয়ে কন্যাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন দীপক। দুই মহিলাকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বাচ্চা বিক্রি করে দেন। কোচিগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করে দীপকের স্ত্রী ও গ্রামবাসীরা।

এই ঘটনা জানতে পেরে শিশুটিকে উদ্ধারের কাজে নেমে পড়ে যে সমাজেসেবী সংগঠন নিদান ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনের দিগম্বর নারজারির ততপরতাই শিশু উদ্ধার হয়। তারপর তিনি শিশু কন‍্যাটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এবং তার মা বাবার নামে অভিযোগ দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীতে গোটা বিশ্ব ঘর বন্দি। অর্থনীতিও ঠেকেছে তলানিতে। নেই রোজগার। গরিব মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গীন দশার খবর ক্রমেই বাড়ছে। স্রেফ কিছু পেটে দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কত মানুষ কত রকমের বেপরোয়া পদক্ষেপ করছে। তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ অসমের পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতির ১৫ দিনের শিশুসন্তানকে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রির ঘটনা।

Related Articles

Back to top button
Close