fbpx
ব্লগহেডলাইন

করোনা সংক্রমণের মধ্যেও বন্ধ নেই জঙ্গি হামলা, পাকিস্তানি সেনার গুলি ছোড়া, দেওয়া হবে যোগ্য জবাব

সুজয় অধিকারী: দুই দেশের আলাদাভাবে জন্মের শুরু থেকেই যেন জম্মু-কাশ্মীরে সুখ-শান্তি চলে গেছে। নামেই ভূস্বর্গ, জঙ্গিদের কার্যকলাপের এলাকা পুরো নরক হয়ে গেছে। কখনো নিয়ম লঙ্ঘন করে পাকিস্তান সেনার আগ্নেয়াস্ত্র ছোড়া, তো কখনো মানুষের মতো দেখতে রক্তে মাংসে গড়া কিছু রোবটকে ভারতের প্রতি লেলিয়ে দেওয়া, এই রোবটের জীবনের একটাই উদ্দেশ্য মারব আর মরবো‌। বাঁচার আশা এরা অনেকদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছে। তাদের রাতদিন একটাই চিন্তা, মানুষের ক্ষতি কিভাবে করা যাবে। জাতপাত ধর্ম কর্ম না, শুধু রক্তের হাত লাল হলেই তাদের ভিতরের পশুটা শান্তি পাবে।

এদিকে গোটা বিশ্ব চীনকে দুষছে‌। তারা নাকি জৈব মারণাস্ত্র তৈরি করে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে। কেউ বলছে জৈব মারনাস্ত্র তৈরীর ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে করোনা রোগের ভাইরাস। আবার কেউ বলছে চীন জেনেশুনেই ভাইরাস ছড়িয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশ করোনা ভাইরাসের মহামারি কে চীনের ব্যবসা করার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করছে যেখানে বিশ্বের সব দেশ আর্থিক মন্দার মধ্যে চলছে, সেখানে চীনের কিছু নামিদামি ব্যবসায়ীরাই করোনা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করে তাদের পকেট ভরছে। আর এই সবের চক্করে পড়ে হেনস্থায় ভুগছে ভারতের মতো কিছু নিরপেক্ষ দেশ। যেখানে আদৌ সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকবে কিনা তার ঠিক নেই। তার উপরে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো করোনা কালেই জঙ্গিদের উৎপাত। এখন সাধারণ মানুষ নিজের পেটের খাবার কীভাবে জোগাড় করবে ভেবে ভেবে দিন কাটাচ্ছে। প্রমাণিত টিকা আবিষ্কার হয়নি। এছাড়া সরকারের তহবিল থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। লক ডাউনের পর কি হবে এর পরিণতি, শেষ পর্যন্ত কতজন মানুষ পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকবে, এসব নিয়ে চিন্তার কুল কিনারা নেই। আর অন্যদিকে, করোনা আতঙ্কের সময়েও জঙ্গিদের উৎপাত শুরু হয়েছে।

বছরের বাকি সময় মাঝে মাঝে তো জঙ্গি হামলায় কিছু ভারতীয় সৈনিকদের শহীদ হওয়ার খবর, কখনো ভারতীয় সেনার এনকাউন্টারে জঙ্গি নিহত, এসব খবর উঠেই আসে। আপদকালীন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাজ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। দেশের একাধিক জায়গাতে লকডাউন সফল করার জন্য ভারতীয় সেনা জওয়ান মোতায়েন করা আছে। সঙ্গে দেশের বর্ডারেও কড়া পাহারা চলছে। করোনা যোদ্ধাদের সঙ্গে সেনা জওয়ানদের উপরে কোথাও পুষ্প বর্ষণ করা হচ্ছে তো জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জওয়ানদের ওপর পাথরের বৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অপরাধ একটাই, তারা দেশকে রক্ষা করার জন্য লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে চাইছে। শুধু জম্মু-কাশ্মীরের এরকম সাধারণ মানুষ নয়, উন্নত দেশের নামিদামি খবরের কাগজ জঙ্গিদের এনকাউন্টারের ঘটনাকে বিকৃত করে বলছে; ভারতীয় সেনার জওয়ানদের হতে অঙ্কের শিক্ষক নিহত।

আরও পড়ুন: সাত দিনেই সুস্থ বীরভূমের প্রথম তিন করোনা আক্রান্ত রোগী‌

দেশের লকডাউন শুরুর দিকেই, ২১এপ্রিল মাঝরাত থেকে ২২এপ্রিল পর্যন্ত সফিয়ায় জঙ্গিদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার লড়াই চলে। সেনা জওয়ানদের এনকাউন্টারে ৪ জঙ্গী নিহতের খবর উঠে আসে। আর কিছুদিন পরেই‌ যানা যায় ২মে নাগাদ ভারতীয় সেনার হাতে জম্মু-কাশ্মীরের লুকিয়ে থাকা আরো দুই জঙ্গী নিহত হল। তারপরই শুরু হয়ে যায় সেনা জওয়ানদের ওপর ইট পাথর ছোড়া। এরপর হিন্দওয়ারাতে সার্চ অপারেশনে ৩ জন ভারতীয় জওয়ান সহ ২জন পুলিশ কর্মী শহীদ হয়। সঙ্গে ২ জঙ্গীও এনকাউন্টারে মারা যায়। এখানেই শেষ নয় তারপরেও কিন্তু জঙ্গি হামলার খবর উঠেছে, যেখানে প্রথমে ৫ তারপর ৩ জাওয়ান শহীদ হয়েছে।

হিন্দ‌ওয়াড়াতে ৫ জনের‌ একসঙ্গে শহীদ হওয়ার ঘটনার বিশ্লেষণ ভারতীয় গণমাধ্যমে উঠে আসায়, অনেকেই দাবি করেছে; যদি ভারতীয় সেনা জওয়ান অন্যান্য দেশের মতো কঠোরভাবে জঙ্গিদের প্রতি হামলা চালাত তাহলে ভারতীয় সেনার ৩ জন সঙ্গে আরো ২ জন প্রশাসন কর্মী শহীদ হতেন না।
পার্থক্য বলতে, যে জায়গায় জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল, অন্য দেশ হলে সেই জায়গাকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাগুলি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করত। কিন্তু ভারতীয় সেনারা ঠিক এরকম নীতি মেনে চলে না। তাই জন্যই হয়তো পাকিস্তানি জঙ্গিরা বারবার জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষকে ঢাল বানিয়ে আড়াল থেকে সেনা জওয়ানদের ওপর আঘাত করার চেষ্টা করে।

মাঝে এমন তথ্যও উঠে এসেছে; কিছু কিছু পাকিস্তানি সেনাদের করোনা সংক্রমণ হয়েছে, আর তাদের সংস্পর্শে এসে জম্মু-কাশ্মীরের লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরাও অনেকে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। তাই জঙ্গিদের শীর্ষ থেকে সরাসরি জানানো হয়েছে; জঙ্গিরা একবার করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে তাদের আর বাঁচার কোনো আশা নেই। তাই এমন সময় আরোও ভালো ভাবে হামলা করার কাজ চালাতে হবে। প্রশাসনের তরফ থেকে এলাকার মানুষদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে; তারা যেন কোনো জঙ্গিদের খাবার না দেয় বা তাদের কাছাকাছি না আসে। এ রকম হলে তারাও করোনায় সংক্রমিত হতে পারে।

সত্যিই জঙ্গিদের কোন ধর্ম হয় না। তাদের একটাই ধর্ম আতংক ছড়ানো, হামলা করা, মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ানো। জম্মু-কাশ্মীরের যত জঙ্গিদের শনাক্তকরণ করা হয়েছে তাদের নাম শুনলেই বোঝা যায় তারা কোন সম্প্রদায়ের মানুষ। আর ইসলামে রমজান মাসকে সব থেকে পবিত্র মাস বলে মানা হয়। এই সময় মারপিট, দাঙ্গা, হিংসা, অন্যকে আঘাত করা যাবে না। কিন্তু রমজানের মাসে তো বটেই সঙ্গে করোনা কালেও জঙ্গিরা তাদের হিংসা মূলক কাজ বন্ধ রাখছে না। জাতপাত না মেনেই সব মানুষের রক্ত পিপাসু হয়ে উঠেছে না।

এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দেশ চলছে। তার উপর জঙ্গি হামলায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদিও সেনা জওয়ানদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে; করোনা আতঙ্ক কালেও সুরক্ষার কোনো খামতি থাকবে না। তবে এই সময় সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অন্যরকম পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।
কিন্তু এখন এটাই দেখার যে; জঙ্গী হামলার জবাব দেওয়ার জন্য ভারতের তরফ থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যান্য বারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে জঙ্গী হামলার ঘটনা চাপা পড়বে, নাকি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন। ভারতের সেনা অধিনায়ক মনোজ মুকুন্দ নারভানে পাকিস্তানকে এরকম আতঙ্কি হামলার জবাব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এর থেকে বোঝা যায়, আর যাই হোক করোনা পরিস্থিতিতে জঙ্গী হামলা আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তান যে ভুল কাজটা করেছে, তা শুধু আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে যাবতীয় ব্যাপারে বরফ জমবে না। এর উত্তর হয়তো অন্য কোন পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই জানা গেছে পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনা ময়দানে নেমে পড়েছে।

গতকালের জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্জ সেক্টরের ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে লাগাতার গুলি ছোড়ার জবাব পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনার তরফ থেকে। ৪ পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এতে তিনজন পাকিস্তান সেনা নিহত আর পাঁচজনের আহতের খবর উঠে এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close