fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

কাশ্মীরে ফের জঙ্গিদের টার্গেট সাধারণ নাগরিক, কুলগামে নিহত ২ ভিনরাজ্যের শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের রক্ত ঝরল কাশ্মীরে। আবারও সন্ত্রাসবাদীদের নিশানায় ভিনরাজ্যের শ্রমিক। কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে টুইটে জানানো হয়, রবিবার সন্ধ্যায় কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আচমকাই ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে জঙ্গিরা।  তাতেই দু’জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন আরও একজন। এরপরই পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী এবং সেনা জওয়ানরা। জঙ্গিদের খোঁজে চলছে চিরুনি তল্লাশি। কিছুদিন আগেই ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শ্রমিকদের একত্রিত করে সেনা, সিআরপিএফ কিংবা পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি কোনও স্থানে রাখতে হবে সুরক্ষার স্বার্থে।

কিছুদিন আগে  নিখোঁজ থাকার পর পুঞ্চ সেক্টর থেকে দুই সেনার দেহ উদ্ধার হয়। এছাড়া গত শনিবার নিহত হন এক ফুচকা বিক্রেতা। তিনি বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সেই ঘটনার পর এদিন ফের একবার ভিন রাজ্যের শ্রমিকের মৃত্যু হল জঙ্গি হামলায়।

 

বর্তমানে কাশ্মীরের আপাত শান্তি উধাও,  ‘সৌজন্যে’ আফগানিস্তানে তালিবানি উত্থান। আফগানিস্তানের দখল তালিবানের হাতে যাওয়ার পর থেকেই নতুন করে উত্তাপ বেড়েছে কাশ্মীরে। আফগানিস্তানের মাটিকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ইদানিংকালে ধারাবাহিকভাবে নাশকতা ঘটাচ্ছে উপত্যকায়। গত এক মাসে সেনা কর্তার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন জওয়ান ও জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকর্মী- আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে জঙ্গি হামলায়। এমনকী একটি স্কুলে ঢুকে জঙ্গিরা গুলি করে হত্যা করেছে দুই শিক্ষককে।

এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের মানুষ চাইছেন দ্রুত পরিস্থিতির বদল হোক। না হলে তাঁদের পেট চলবে না। কাশ্মীরের অর্থনীতি পুরোপুরি নির্ভর করে থাকে পর্যটনের উপর। তাই অস্থির পরিবেশের জেরে পর্যটকদের উপত্যকায় যাওয়া কমে আসায় ধাক্কা খাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। আফগানিস্তানে তালিবান অভ্যুত্থানের পর একের পর এক জঙ্গি হামলা হয়েছে কাশ্মীরে। উল্টোদিকে ভারতীয় সেনার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বহু জঙ্গির। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরবাসী চাইছেন দ্রুত শান্তি ফিরে আসুক উপত্যকায়। উল্লেখ্য কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর জঙ্গি হামলার ঘটনা অনেকটাই কমে যায়। তার পূর্ণ কৃতিত্ব দাবি করতে পারে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু এখন পরিস্থিতির বদল হয়েছে। সেই কারণেই কাশ্মীরের মানুষের বড় অংশ চাইছেন দ্রুত ফিরে আসুক সুস্থ পরিবেশ।

 

একটা সময় পাকিস্তানের মদতে ড্রোনের মাধ্যমে উপত্যকায় জঙ্গিদের অর্থ সাহায্য করা হতো। কিন্তু ভারতীয় সেনার কঠোর নজরদারিতে অনেকাংশে বন্ধ করা গিয়েছে সেই কার্যকলাপ। তবে নতুন করে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। তাই প্রশ্ন উঠছে, তালিবান জঙ্গিরা কি পাক অধিকৃত কাশ্মীর পেরিয়ে এসে সন্ত্রাস চালাতে পারে কাশ্মীরে? উপত্যকার যুবকদের হাতে নতুন করে অস্ত্র তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা কতটা রয়েছে? এ প্রসঙ্গে কাশ্মীর পুলিশের এক আধিকারিক জানান, এই সম্ভাবনা ততটা নেই। কারণ অক্টোবর থেকেই পাহাড়ে বরফ পড়া শুরু হয়ে যায়। তাই অক্টোবরের পর থেকে সেই বরফ পেরিয়ে ঢোকার চেষ্টা সেভাবে করে না জঙ্গিরা। তাই এ বছর নতুন করে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা খুবই কম। গরমে বরফ গললে অনুপ্রবেশ বাড়বে। আপাতত প্রায় ছয় মাসের জন্য তালিবান কেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কেউই অনুপ্রবেশের চেষ্টা করবে না সেখানে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নব্বইয়ের দশকে সীমান্তে যথেষ্ট নজরদারির অভাবে জঙ্গিরা দলে দলে ঢুকেছিল। এখন সেটা করতে গেলে চার-ছয় জনের ছোট দলে ঢুকতে হবে জঙ্গিদের। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় অনুপ্রবেশকারীদের মৃত্যু হয় ভারতীয় সেনার গুলিতে।

 

পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি ও   আইএসআইয়ের ইন্ধনে একটা সময় কাশ্মীরে আইএসের ফ্ল্যাগ, লিফলেট প্রচার দেখা যেত। কিন্তু এখন কাশ্মীরে আইএসের সামান্যতম প্রভাব নেই বলে দাবি করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সেই জায়গা থেকে সরে এসেছেন কাশ্মীরী যুবকরা। উপত্যকায় আর্থিক উন্নয়ন হোক, লোকে চাকরি পাক, পর্যটন ব্যবসার উন্নতি হোক, এটাই এখন কাশ্মীরের প্রধান চাহিদা। উল্লেখ্য বছরের ছয় মাস রোজগার হয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের।  অক্টোবরে বরফ পড়া শুরু হতেই পর্যটকরা আর সেখানে যেতে পারেন না। তখন কাশ্মীরে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শুরু হয় দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। বছরের পর বছর ধরে এই জীবন সংগ্রাম চলছে কাশ্মীরীদের।

একটা সময় দার্জিলিংয়েও একই অবস্থা দেখা যায়। পাহাড় জুড়ে হিংসা চলতে থাকে মাসের পর মাস ধরে। পর্যটন ব্যবস্থা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুস্থির পরিবেশ ছাড়া আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন কাশ্মীরের মানুষ। তাই আর সেনা-জঙ্গির এনকাউন্টার নয়, পাকিস্তান ও তালিবানের মদতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ নয়, কাশ্মীরবাসী চাইছেন শুধুই পর্যটন। নিরাপত্তার প্রশ্নে এটা নিশ্চিতভাবে ভরসা জোগাচ্ছে দেশবাসীকে।

Related Articles

Back to top button
Close