fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৩০ টাকার টিকিট কেটে কোটিপতি ভাতারের মূক ও বধির জনমজুর

দিব্যেন্দু রায়, ভাতার: “ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন”, সাধারণত আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষদের অলীক কল্পনা থেকে বিরত করতে ব্যবহার করা হয় বাংলার এই প্রবাদটা৷ কিন্তু “ছেড়া কাঁথায় শুয়ে” লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে কখনও ছাড়েননি ভাতারের বামশোর গ্রামের বাসিন্দা মূক ও বধির হতদরিদ্র হরি মাঝি। তাই নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে মাঝে মাঝেই লটারির টিকিট কাটতেন তিনি। অবশেষে এল চূড়ান্ত সাফল্য। মাত্র ৩০ টাকার টিকিট কেটে এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার জিতলেন পেশায় জনমজুর হরি।

সোমবার বিকেলে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরেই তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন প্রতিবেশীরা। বামশোর গ্রামের ঢলদিঘির পাড়ে মাটির দেওয়াল খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে সপরিবারে বসবাস করেন হরি মাঝি। বাড়িতে রয়েছেন বিধবা মা, স্ত্রী পুতুলদেবী ও ছেলে সুজন(১৮)।এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। হরির স্ত্রী ও ছেলেও জনমজুরির কাজ করেন। নুন আনতে পানতা ফুরনো সংসার।

আরও পড়ুন: শুভেন্দু অধিকারী বঙ্গ রাজনীতির সম্পদ, পিকের স্ট্র্যাটেজি বাংলায় যথার্থ নয়: শীলভদ্র দত্ত 

পুতুলদেবী জানিয়েছেন, অভাবের মাঝেও তাঁর স্বামী মাঝে মাঝেই লটারির টিকিট কাটতেন।তবে সেভাবে কখনও কোনও পুরস্কার পাননি। তবু তিনি টিকিট কাটতে ছাড়তেন না। তিনি বলেন, “আজ আমার স্বামীর কাছে বিশেষ টাকা পয়সা ছিল না। তাই সকালে বাজার যাওয়ার আগে ছেলের কাছে ৩০ টাকা চেয়ে নেন। এরপর বিকেলে শুনি আমার স্বামী যে টিকিট কেটেছিল তাতে এক কোটি টাকা পড়েছে।

হরি মাঝির ছেলে সুজন বলেন, “আমাদের জন্য একটা ইঁটের ঘর তৈরি করার খুব ইচ্ছা ছিল বাবার। প্রায়ই ইশারায় সে কথা বলত।কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি। এবার বাবার সেই ইচ্ছা পূর্ণ হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close