fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গরু পাচার করেই হয়ে উঠেছেন কোটিপতি! গোয়েন্দাদের নজরে রাঘব বোয়ালরা

মিল্টন পাল,মালদা: ২০১৬-১৭ সাল মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি,জলঙ্গি, লালগোলা ভগবানগোলা, ডোমকল ও রাণীনগরের মত এলাকায় দশ টাকার নোট গরু পাচারকারীদের সৌজন্যে বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর গরু পাচারের সংকেত ও হিসেব লেখা হতো দশ টাকার নোটের গায়ে। গরু পাচারকারীরা সমস্ত দশ টাকার নোটে বাজার থেকে তুলে নিয়েছিল। যার ফলে বাজারে দশ টাকার নোটের টান পড়েছিল। কিভাবে লেখা হতো এই নোটের হিসাব,কিরকম হবে,তাতে লেখা থাকতো কটা গরু যাবে,গরুর সাইজ কি হবে এবং কোন তারিখে যাবে।প্রতিটি নোটের নাম্বার মূল পাচারকারীদের কাছে রাখা থাকতো। নোট ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে গোয়েন্দারা জানতে পারে এর আগে কাগজের চিরকুটে হিসেবে লেখা থাকতো কিন্তু তাতে যারা গরু নিয়ে যেত তারা হিসেবে গড়মিল করছিল। আর সেই কারণেই মূল পাচারকারীরা একে অপরের সাথে নোটের নাম্বারের মাধ্যমে সঠিক হিসেব রাখছিল। এমনকি ব্যাংক থেকে সব দশ টাকার নোট তুলে নিত গরু সিন্ডিকেটের মাথারা।

২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের ও মালদার একাংশের গরু পাচারের সিন্ডিকেটের চাঁই এনামুল ও আনারুল হকের সাথে বিএসএফের তৎকালীন কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারের বোঝাপড়া ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। সেই সময় কুখ্যাত গরু পাচারকারী তথা হাউলা ট্রেডার্স এনামুল হকের নেতৃত্বে গরু পাচার সংগঠিত কারবারের রূপ নেয়। গরু নিয়ে যারা গঙ্গা নদী টপকে সীমান্তের ওপারে যেত তাদের বলা হতো পাছার। বিএসএফের কাছে এদের নাম ছিল হ্যান্ডেলার। প্রত্যেক পাচারকে দুই থেকে ছটি গুরু দেওয়া হত। একটি ১০ টাকার নোটে লেখা থাকতো কটি গরু যাচ্ছে,তাদের সাইজ কত। কোন তারিখে পাঠানো হলো। আর দিনের শেষে  নোটের নম্বর মিলিয়ে সমস্ত হিসেব রাখা হতো। আর সেই মতো চলত বিলি-বণ্টন।

আরও পড়ুন: জন্মদিনে মনমোহনের দীর্ঘায়ু কামনা মোদির, ‘আপনার প্রধানমন্ত্রিত্বের অভাব বোধ করছে দেশ,’ ট্যুইট রাহুলের

এরপর ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই গরু পাচারের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। সীমান্তে নজরদারি দ্বিগুণ বাড়ানো বাড়ানো হয়। পরিবর্তন হয় বিএসএফের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ানের বিভিন্ন পদমর্যাদার আধিকারিকদের। বর্তমানে পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেই সময় বিশু শেখ ওরুফে এনামুল হকের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট অন্যান্য সব সিন্ডিকেটকে ছাপিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। আর এই উত্থানের পেছনে ছিল প্রভাবশালীদের হাত। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে এই প্রভাবশালীদের খুশি রাখতো এনামুল হক ও তার সিন্ডিকেট। এই ভাবেই মুর্শিদাবাদের অমরপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি হোটেলে বসে কোটিপতি হয়ে ওঠে এই গরু পাচারকারী।

 

Related Articles

Back to top button
Close