fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি দখল করছে দুষ্কৃতীরা, থানা ঘেরাও করলেন নেতা-কর্মীরা

মিল্টন পাল, মালদা:  ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি দখল করছে বিরোধী দলের দুষ্কৃতীরা। থানায় জানিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে থানা ঘেরাও শাসক দলের নেতাকর্মীদের। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার মালদার রতুয়া থানা এলাকায়।কেটে নেওয়া হয়েছে আম গাছ।সম্পত্তি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সিপিএম,কংগ্রেস বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার বিরোধী দলগুলির।

জানা গিয়েছে, রতুয়া থানা এলাকার রুকুন্দ্বীপুর গ্রামে ৩৬ বিঘা ওয়াকাফ বোর্ডের জায়গা রয়েছে।কয়েক মাস আগে সেই জায়গা দখলের চেষ্টা করছিল বিরোধী দলের দুষ্কৃতীরা। সেই সময় সেই জায়গা নিয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল।সম্প্রতি গত দুমাস ধরে দেখা যাচ্ছে ওয়াকফ বোর্ডের ওই জায়গা বিরোধী দলের দুষ্কৃতীরা দখল করছে। এমনকি ওই জায়গার উপরে থাকা বেশ কিছু আম গাছ রাতের অন্ধকারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।এমনকি ঘর বাড়ি তৈরী করে জায়গা দখল করছে। ঘটনা নিয়ে লিখিত ভাবে রতুয়া থানায় অভিযোগ জানালেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন। এদিন বাধ্য হয়ে মালদা জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পায়েল খাতুনের নেতৃত্বে সকাল থেকে রতুয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে শাসক দলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি অবিলম্বে ওই জায়গা দখল মুক্ত করতে হবে।

         আরও পড়ুন: সঙ্গীতশিল্পী শিবানী দাস আন্তর্জাতিক সন্মানের ইতিহাস গড়লেন

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন,আমরা দেখছি বিগত কয়েক মাস ধরে এই ওয়াকফ বোর্ডের জায়গার উপরে থাকা বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। এই নিয়ে জেলা শাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গাছ কাটা বন্ধ করেছিল। হঠাৎ করে দেখতে পেলাম বেশ কিছুদিন ধরেই ওই জায়গার উপরে দখল করে বাড়ি ঘর তৈরি হচ্ছে। এদিন আমরা বাধ্য হয়ে থানা ঘেরাও করেছে।আমাদের দাবি অতিসত্বর ওই জায়গা থেকে বাড়ি ঘর তুলে দখলমুক্ত করতে হবে।

     আরও পড়ুন:  কুমারী পুজোয় এবছর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে বেলুড় মঠের দরজা!

মালদা জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মদক্ষ পায়েল খাতুন বলেন, ওয়াকফ বোর্ডের জায়গা দখল করছে সিপিএম ও কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাই এদিন বাধ্য হয়ে আমরা থানা ঘেরাও করেছি। অবিলম্বে ওয়াকফ বোর্ডের জায়গা দখল মুক্ত করতে হবে। না হলে আমরা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের নামবো। মালদা জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, বিজেপি প্রথম থেকেই বলে আসছে পশ্চিমবঙ্গে কেউ সুরক্ষিত নয়। আজকে ওয়াকাফ বোর্ডের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে মস্তান এলাকার মাফিয়া ও সন্ত্রাসবাদীরা। পুলিশ প্রশাসন সেখানে নির্বিকার হয়ে আছে। এক সময় মমতা ব্যানার্জি বলছিলেন আমরা সংখ্যালঘুদের পক্ষে। আজকে সমস্ত জায়গাতে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করে শাসক দলের নেতাকর্মীরা করে খাচ্ছে। প্রশাসন যুক্ত রয়েছে। যার ফলে প্রশাসনের মদতে এই ঘটনা ঘটছে। তার উদাহরণ আজকে মালদার রতুয়া থেকে ঘটেছে।

রতুয়া কেন্দ্রের বিধায়ক মুখোপাধ্যায় বলেন, এর আগেও ওয়াকাফ স্টেটের জায়গার উপরে গাছ কাটা হয়েছিল।সেই গাছ কাটার দুষ্কৃতীদের এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এদিনও ওই দুষ্কৃতীরা ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। যার ফলে জায়গা বেদখল হতে চলেছে। পুলিশকে জানিয়েছে।যদি এর সুরাহা না হয় তাহলে আমি রতুয়া থানার সামনে আমরণ অনশনে বসবো।
মালদা জেলা সিপিএমের সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, সিপিএম কোথাও কোন গাছ কেটে বিক্রি করে না অন্যায় ভাবে।এইসব কাজের সঙ্গে আমাদের দলের নেতাকর্মী যুক্ত নয়। আমরা অবাক হলাম রাজ্যের শাসক দল থানায় গিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। যাদের হুকুমে দিনকে রাত হয়ে যায়। তাদের দলদাস পুলিশ। আজকে কি তাদের কথা পুলিশ প্রশাসন শুনছে না। আসলে এই ঘটনা প্রমাণ করে তৃণমূলের শেষের দিন। তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না। আর এই সব ভুয়া অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।

মালদা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কালীর সাধন রায় বলেন, ওখানে গাছ কেটেছে তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা প্রশাসনের মদতে এই কাজ করেছে। কিন্তু প্রশাসনের হিম্মত হয়নি ওদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবে। তারাই অভিযোগ করেছে যারা এর ভাগ পাইনি। আর যার ফলে শাসক দলের নেতাদের এখন থানা ঘেরাও করতে হচ্ছে যে দপ্তরের মন্ত্রী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের শেষের দিন শুরু হয়ে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close