fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ঠাকুরবাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলা, ভাঙা হল গুরুচাঁদ মন্দিরে দরজা-দানবাক্স,চুরি সোনার হার! আমরণ অনশনের হুমকি শান্তনুর

রক্তিম দাশ, কলকাতা: সম্প্রতি বনঁগার বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর রাতের অন্ধকারে মতুয়া তীর্থ ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের প্রাণনাশের আশঙ্কা  করেছিলেন।

 

 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঠাকুরবাড়িতে গুরুচাঁদ ঠাকুরে মন্দিরে দরজা ভেঙে চুরি হল সোনার হার ও দানবাক্সের টাকা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মতুয়া মহামংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে  দোষিদের গ্রেফতার করে টাকা ও সোনার হার উদ্ধার না করলে আমরণ অনশনে বসার হুশিঁয়ারি দিয়েছেন প্রশাসনকে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলার মতুয়াদের মধ্যে।

 

শান্তনু ঠাকুর শুক্রবার বলেন, ‘বার বার নানা অছিলায় আমার ও আমার পরিবারের উপর আক্রমণ হচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে শাসকদলের চক্রান্ত। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে যাওয়ার সময় আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটিয়ে। তার আজ পর্যন্ত কোনও তদন্ত হয়নি। আমফানের পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগ নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে সশ্রস্ত্র দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেই সময় আমি আমার প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলাম। এবার আমার আশঙ্কা সত্যি হল।’

 

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন,‘ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঠাকুরবাড়ির গুরুচাঁদ ঠাকুরে মন্দিরের কাঠের দরজা ভেঙে ঠাকুরের সোনার হার ও দানবাক্স নিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। সকালে আমরা মন্দিরে গিয়ে এই ঘটনা দেখতে পায়। দানবাক্সের তালা ভেঙে সেটিকে মন্দিরের ডানদিকে মাঠের মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দানবাক্সে ৫০ হাজার টাকা ছিল। রীতিমতো এদিন রাতে ঠাকুরবাড়িতে ডাকাতি করা হয়েছে।’
এই ঘটনায় গাইঘাটা থানায় এফআইআর করেছেন বলে জানিয়েছেন শান্তনুবাবু। তিনি বলেন,‘ পুলিশ কি করবে আমার জানা নেই। গুরুচাঁদ মন্দির এই ডাকাতির পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে। শাসক দলের মত না থাকলে ঠাকুরবাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

 

 

 

শান্তনুবাবু এদিন ফের অভিযোগ করে বলেন,‘ গত তিন বছর ধরে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর তা আরো বেড়ে গিয়েছে। কেউ আমার কাছে দেখা করতে এলে পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করছে। সাংসদের বাড়িতে সাধারণ মানুষ আসবে না? ঠাকুরবাড়িতে এসব চললে সাধারণ মতুয়া ভক্তরা ভয়ে আসা বন্ধ করে দেবেন। তারপর এধরণের ডাকাতি ঘটনা ঘটিয়ে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ি থেকে মতুয়াদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এসব ঘটনা আমি রাজ্যপাল জগদীপ ধণকর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার স্পীকার ওমপ্রকাশ বিড়লাকে লিখিত জানাবো। বাংলায় একজন সাংসদের যখন নিরাপত্তা নেই তখন রাজ্যের কি অবস্থা!’

 

 

সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এদিন হুশিঁয়ারি দিয়ে বলেন,‘ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষিদের গ্রেফতার করে টাকা আর সোনার হার উদ্ধার করে মতুয়াদের ফিরিয়ে না দিলে আমি সমগ্র মতুয়া সমাজের পক্ষ থেকে আমরণ অনশনে বসব। এই অত্যাচারের শেষ দেখে ছাড়ব।’ এদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধ্যানেশ নারায়ণ গুহ এই ঘটনায় শাসকদলের যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে পালটা অভিযোগ করে বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর এর অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। তৃণমূল কংগ্রেস চুরির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। শান্তনু ঠাকুর ওই বাড়িতে চোর,ডাকাত, গাজাখোরদের পোষেন চুরি করলে তারাই করেছে।’

Related Articles

Back to top button
Close