fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের অভিযোগ, বুদবুদে করোনা স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ীতে হামলা গ্রামবাসীদের, আতঙ্কে ঘরছাড়া নার্স

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের অভিযোগ। আর তার জেরে গ্রামে করোনা যোদ্ধা নার্স, স্বাস্থ্য সম্পদকর্মী, আশাকর্মীর বাড়ীতে হামলার অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত থেকে দফায় দফায় হামলার ঘটনায় উত্তাল বুদবুদের ভরতপুর গ্রাম। নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কে ঘরছাড়া আক্রান্ত তুলিকা ব্যানার্জী নামে এক ফাস্ট এএনএম নার্স।

ঘটনায় জানা গেছে, ভরতপুর গ্রামে বাউরী পাড়ায় গত ২৯ জুলাই এক বাসিন্দার সোয়াব টেস্টে কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসে। সেই মতো ওই ব্যাক্তিকে কোভিড চিকিৎসার জন্য বর্ধমানে নিয়ে যাওয়া হয়। সংক্রামক রুখতে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ী কনেন্টেনমেন্ট জোন করে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করে তাদেরও সোয়াব টেস্টের নমুনা সংগ্রহ হয়। এদিকে সোমবার ওই রোগীর ছুটি হয়ে যায় হাসপাতাল থেকে। আর তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওই পাড়ার বাসিম্দারা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ” পেশায় দিনমজুর। কন্টেমেন্ট জোনে থেকে রুজি রোজগার বন্ধ। সংসারে খাবারের টান পড়েছে। প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাইনি।” বাসিন্দারা আরও বলেন,” ৩-৪ দিনেই করোনা পজেটিভ কিভাবে নেগেটিভ হয়ে গেল। তাই রিপোর্ট বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে।” আর তাতেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা স্থানীয় ভরতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এএনএম নার্স তুলিকা ব্যানার্জির বাড়ীতে চড়াও হয়। আক্রান্ত তুলিকাদেবী জানান,” রাত্রে ওই পাড়ার লোকজন বাড়ীতে ইট, পাথর ছুড়তে থাকে। বাড়ী ভাঙচুর করে। বাড়ীর সামনে থাকা গাড়ীও ভাঙচুর করে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় পুলিশ ও ব্লকে স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি।”

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর প্রথম বৈঠকেই গরহাজির অরূপ রায়

তিনি আরও বলেন,” গত ৩৫ বছর ধরে নার্সের কাজ করছি। করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিজের দায়িত্ব পালন করেছি। তারপরও গ্রামবাসীরা মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা চালালো। নিজে সুগারের রুগী। ঘটনার পর আতঙ্কে অসুস্থবোধ করছি। প্রানভয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে এসেছি।” মঙ্গলবার সকালে আবারও গ্রামবাসীরা গ্রামের সেকেন্ড এএনএম নার্স, এক আশাকর্মী ও গ্রামের সম্পদকর্মীর বাড়ীতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত সম্পদকর্মী অসীম মন্ডল জানান,” সরকারি কাজ করার পরও আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাড়ীতে যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, তাতে আতঙ্কে।

নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের দাবীতে পুলিশের কাছে আবেদন করেছি।” গলসী-১ নং বিএমওএইএচ ডঃ ফারুক হোসেন জানান,” গ্রামবাসীরা যে সমস্ত অভিযোগ তুলছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা। করোনা মোকাবিলায় নার্স, আশাকর্মী, সম্পদকর্মী সকলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। তারপরও এরকম হামলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। পুলিশে মহামারী আইন অনুুযায়ী অভিযোগ দায়ের করেছি।” যদিও এসিপি (কাঁকসা) শ্বাশতী শ্বেতা সামন্ত জানান,” লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close