আন্তর্জাতিকহেডলাইন

করোনার খবর করতে গিয়ে নিখোঁজ সাংবাদিক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  করোনার খবর করতে গিয়ে নিখোঁজ সাংবাদিক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে উহানের প্রতি মুহূর্তের খবর, শহরের কোথায় কী ঘটছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চেন ও ফ্যাং তুলে ধরেছিলেন গোটা বিশ্বের কাছে। শুধু তাই নয়, উহানের আক্রান্তদের ভয়াবহ পরিস্থিতি, সেই সঙ্গে বাস্তব চিত্রটাও সামনে এনেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান চেন। চিকিত্সকের ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন চিনের নাগরিকরা। এ বার সাংবাদিকের নিখোঁজ হওয়া সেই ক্ষোভকে আরও বাড়াল।  করোনাভাইরাসের খবর করা এক জন সাংবাদিকের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। ফ্যাং-ই বা কেন চুপ করে গেলেন? উহানেরই খবর করে নিখোঁজ হয়ে গেলেন চেন কুইশি নামে এক সাংবাদিক।

গত ২৪ জানুয়ারি থেকে উহান এবং তার আশেপাশের শহরগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরছিলেন চেন ও ফ্যাং। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও বলেন। তার পর সেই ছবি, ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। এর জন্য তাঁকে প্রশাসনের রোষের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চেন। একটি ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এই প্রথম আমার প্রচণ্ড ভয় করছে। আমার সামনে ভয়ানক রোগ, পিছনে চিন প্রশাসন। কিন্তু যত দিন জীবিত থাকব, যা দেখেছি সেটাই বলব। মরতে ভয় পাই না।” তার পর পরই নিখোঁজ হয়ে যান চেন। আশঙ্কাটা শেষমেশ সত্যিই হল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর চেনের পরিবার ও বন্ধুরা জানতে পারেন, তাঁকে নাকি কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। এমনটাই দাবি চেনের আত্মীয়স্বজনদের। তাঁদের অভিযোগ, কোয়ারেন্টাইনের নামে চেনকে আটক করে রেখেছে প্রশাসন।

গত শুক্রবারই এক চিকিত্সকের মৃত্যু সামনে আসার পর বিক্ষোভ ছড়িয়েছে চিনের অন্দরে। লি ওয়েনলিয়াং নামে ওই চিকিত্সক উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অনেক আগেই। কিন্তু প্রশাসন  বিষয়টি চেপে যায় বলে অভিযো‌গ। ভুয়ো খবর ছ়ড়ানোর অভিযোগ তুলে ওয়েংলিয়াংকে শাস্তিও দেওয়া হয়।  চেন-এর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবরটি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, উহানের বাস্তব চিত্র সামনে আনার জন্যই কি চেন-কে ওয়েনলিয়াংয়ের মতো প্রশাসনের রোষে পড়তে হল?

   আরও পড়ুন: রাশিয়ায় প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে বিমানবন্দরেই ভেঙে পড়ল বিমান

সাংবাদিক কুইউশি তার প্রতিবেদনে উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পরবর্তী শহরের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছিলেন। হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের আর্তচিৎকার, রোগীতে ঠাসাঠাসি হাসপাতালের পরিবেশ ও রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহ নিয়ে তৈরি তার প্রতিবেদনগুলো ছিল অত্যন্ত মানবিক আবেদনে ভরা ও মর্মস্পর্শী। করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যেই চিনে মারা গিয়েছেন ৯০০-র বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার। রবিবারই ৯৭ জনের মৃত্যু হয়। ৩ হাজার জন নতুন করে আক্রান্ত হন। চিনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মৃত ৯৭ জনের মধ্যে ৯১ জনই হুবেই প্রদেশের। বাকি মৃত্যু হয়েছে হাইনান, গানসু, জিয়াংজি, আনহুই প্রদেশে।

Related Articles

Back to top button
Close