fbpx
আন্তর্জাতিকএকনজরে আজকের যুগশঙ্খদেশ

সন্ত্রাস রোধ নিয়ে কথা বলবেন মোদি-বাইডেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আফগানিস্তানের পট পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন ভারত। একইভাবে নিজেদের দেশের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আমেরিকাও। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে। আগামী শুক্রবার প্রথমবার শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। আর ওই একই দিনে রয়েছে ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের চতুর্দেশীয় অক্ষ কোয়াড-এর বৈঠক। কোয়াড এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনেও বক্তৃতা দেবেন মোদি।
যে সময় মোদি-বাইডেনের বৈঠক হতে চলেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ কাবুল তালিবানের দখলে চলে যাওয়ায় ভারত এবং প্রতিবেশী বলয়ে সন্ত্রাসবাদ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। অন্য দিকে চিনের সঙ্গে সংঘাতের পরিবেশ অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা।  অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরমাণু চালিত ডুবোজাহাজ ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি করেছে ব্রিটেন ও আমেরিকা। যা ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সঙ্গে টক্কর দিতে অনেকটাই শক্তিশালী করল অস্ট্রেলিয়াকে। এই বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ করছে বেজিং। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।
আফগানিস্তানের দখল তালিবানের হাতে যাওয়ার পরেই খোলাখুলি ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা এবং চিন। তাই ভারতের আশঙ্কা আগামীদিনে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস বাড়াবে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। তাই এই সন্ত্রাস রোধের বিষয়টি মোদি- বাইডেনের বৈঠকের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে বলে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর। সেখানে অবধারিতভাবে উঠে আসবে চিন এবং পাকিস্তানের প্রসঙ্গ।
উল্লেখ্য, কোভিড আবহের  মধ্যে এই প্রথম এশিয়ার বাইরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে কোভিড প্রতিষেধকের যৌথ উৎপাদন, পরিবেশ উষ্ণায়নের মতো বিষয়গুলিও উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার উপস্থিতি, প্রভাব এবং কার্যকারিতা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু সার্বিক ভাবে পাকিস্তান-চিন অক্ষকে প্রশমিত করতে আমেরিকার এখনও ভূমিকা রয়েছে বলেই মনে করে সাউথ ব্লক। বাইডেনের ভবিষ্যৎ পাক-নীতি কী হবে তা নিয়েও যথেষ্ট কৌতূহল এবং উদ্বেগ রয়েছে মোদি সরকারের। সে দেশকে এবং তাদের সামরিক বাহিনীকে পুঁজি জোগানোর বিষয়টি নিয়ে আমেরিকা ও আমেরিকার প্রভাবযুক্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলি কী ভাবছে, সেদিকেও চোখ রয়েছে ভারতের। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী যখন আমেরিকায় থাকবেন, সেই একই সময়ে সে দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য হাজির থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। বাইডেনের সঙ্গে ইমরানও বৈঠক করতে পারেন।
পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারত এবং আমেরিকার যৌথ উদ্বেগের জায়গা চিন।  তাই সন্ত্রাস রোখার পাশাপাশি চিনকে কীভাবে চাপে রাখা যায়, সেই বিষয়টি মোদি-বাইডেনের বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles

Back to top button
Close