fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাদেশ

মোদির বিকল্প মুখ মমতাই, জোটের রাস্তা খোলা রেখেও রাহুলকে বিঁধল ‘জাগো বাংলা’

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল গান্ধী নন, বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হয়ে উঠতে পারেন শুধুমাত্র তৃণমূল নেত্রীই, জাতীয় রাজনীতিতে দলনেত্রীকে এভাবেই তুলে ধরল তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’। শুক্রবার তৃণমূলের মুখপত্রে প্রথম পাতায় লেখা হয়েছে,” কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনওই বিজেপি বিরোধী বিকল্প বলছি না। কিন্তু রাহুল গান্ধী এখনও নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি। দেশে বিকল্প মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা বিকল্প হিসেবে জননেত্রীর মুখ সামনে রেখেই গোটা দেশে প্রচার শুরু করব”। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভাতেও এটাই ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থাৎ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নন, বিজেপিকে সরাতে পারবেন একমাত্র মমতাই, এটাই বলা হয়েছে। সেই  বিষয়টি যুক্তির সাহায্যে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন,” তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে কাজটা করে দেখিয়েছে। বিজেপির শোচনীয় পরাজয় হয়েছে বাংলায়। আমরা রাহুল গান্ধীকে অসম্মান করতে চাই না। তিনি অবশ্যই বিরোধী জোটে থাকবেন। টাইম ম্যাগাজিন প্রভাবশালীর একশো জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ভারত থেকে মাত্র দু’জন রাজনীতিক আছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী, অন্যজন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা দেশ মমতাকে বিজেপি বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে দেখতে চাইছে।” যদিও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী মনে করছেন এত আগে এটা বলার সময় আসেনি। তিনি বলেন,” লোকসভা নির্বাচনের এখনও তিন বছর বাকি। তৃণমূল তাদের দলীয় মুখপত্রে এমন দাবি করতেই পারে। তাতে অন্যায়ের কিছু নেই। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতেই পারেন। কিন্তু কিছুদিন আগেই তিনি বলেছিলেন এখনই বিরোধী জোটের প্রধান মুখ কে হবেন, সেটা আলোচনার সময় আসেনি। অথচ এখন সেটাই বলছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এ যেন অনেকটা গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেলের মতো। রাহুল গান্ধী পারবেন না বলা হচ্ছে। সেটা পরে বোঝা যাবে”।

পাঞ্জাব, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, একমাত্র এই তিনটি রাজ্যে একার শক্তিতে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্রে তারা সরকারে রয়েছে শিবসেনা এবং এনসিপি’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ডিএমকে’র শরিক হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছে। বাদবাকি কেন্দ্রশাসিত এবং অন্যান্য রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি বা বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলি। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অনেকটাই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র পারবেন বিজেপিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ঠেলে দিতে, এটাই মনে করছেন‌ তৃণমূল নেতৃত্ব। উল্লেখ্য তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আগামীদিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতার নাম উঠে এসেছে নেট দুনিয়ায়। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর এখন থেকেই পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে স্পষ্ট বার্তা দিল জোড়াফুল শিবির। জাতীয় রাজনীতিতে মোদি বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার যোগ্যতা একমাত্র মমতার আছে, একথা স্পষ্ট করা হল দলীয় মুখপত্রে প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

Related Articles

Back to top button
Close