fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সোমবার যুগশঙ্খ সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য খবরগুলো পড়ুন (প্রথম অংশ)

রাজ্যগুলিকে আরও বেশি ঋণ দেবে কেন্দ্র

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি, ১৭ মে: রাজ্যগুলিকে আরও বেশি ঋণ দেবে কেন্দ্র। পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। রবিবার পঞ্চম তথা শেষ দিনেরআর্থিক প্যাকেজে এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই সঙ্গে জনধন প্রকল্প ২০ কোটি মানুষের জন্য ১০,০২৫ কোটির বরাদ্দও ঘোষণা করেন তিনি।
বিগত চার দিনের মতই এদিনও আর্থিক সংস্কারের পথে হেঁটেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে করেছেন বিশেষ ঘোষণা ।

রবিবারের ঘোষণা গুলি:-

১| মনরেগা অথাৎ ১০০ দিনের কাজে বাজেটে বরাদ্দ অর্থের বাইরেও অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যাতে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গিয়ে কাজের সুযোগ পান, তাই এই ঘোষণা। এই প্রকল্পে আগে ৬১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কর্মদিবসের পরিমাণ ১০০ দিনের থেকে বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

২| ভবিষ্যতে যাতে সংক্রামক রোগের প্রকল্পে ভারতবাসীর কোনও অসুবিধা না হয় সেজন্য প্রতি জেলা হাসপাতালে একটি করে সংক্রামক রোগের বিভাগ খোলা হবে। এছাড়াও প্রতিটি ব্লকে একটি করে সরকারি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি খোলা হবে। সংক্রামক রোগের সময় ছাড়াও সারাবছর এই ল্যাবরেটরিগুলি পরিষেবা দেবে সাধারণ মানুষকে।

৩| প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানোর জন্য ওয়ান নেশন ওয়ান চ্যানেল প্রকল্প আনা হবে। ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্লাসের জন্য আলাদা আলাদা বারোটি চ্যানেল করা হবে। যার মাধ্যমে পাঠদান করা হবে ছাত্রছাত্রীদের। এছাড়াও ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ই-ক্লাসের অনুমতি দেওয়া হবে।

৪| কোনও সংস্থা করোনা সংকটকালে যদি ঋণ মেটাতে না পারে, তাকে ডিফল্টার অর্থাৎ ঋণখেলাপি  হিসাবে দেখা যাবে না। ছোট, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকে বাঁচানোর জন্য দেউলিয়া ঘোষণার পদ্ধতিতেও বিশেষ পরিবর্তন আনা হবে।

৫| কোম্পানি আইনে ছোট অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধের বাইরে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ যদি কোনও কোম্পানি ট্যাক্স জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বা অ্যানুয়াল রিপোর্টের ক্ষেত্রে কোনও ছোট ভুল করে, তবে সেটি ফৌজদারি অপরাধ বলে  গণ্য করা হবে না।

৬| শেয়ার বাজারে লিফটিং প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে।

৭| সরকারি ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী  সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণ এবং সংযুক্তিকরণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে স্ট্র্যাটেজিক সেক্টরের একটি তালিকা তৈরি করে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে কখনওই চারটি সংস্থার বেশি সংস্থাকে যুক্ত করা হবে না।

৮| করোনা সংকটের সময় রাজ্যগুলির আয় কমেছে। সেই কারণে রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ৪০ হাজার ৩৮ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা ফান্ড থেকে রাজ্যগুলিকে ৪২ হাজার ১৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এবং রাজ্য গুলির দাবি অনুযায়ী জিএসডিপি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুদান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৩.৫ পর্যন্ত অর্থাৎ পয়েন্ট ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও শর্ত থাকছে না। কিন্তু ৩.৫ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত এই আর্থিক প্যাকেজে যে চারটি প্রধান সংস্কার আনা হয়েছে, কতটা ভালোভাবে রাজ্য সরকারগুলি কাজে পরিণত করতে পারছে তার উপর নির্ভর করে তা দেওয়া হবে। সেগুলি হল এক দেশ এক রেশন কার্ড, ব্যবসা বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক পাওয়ার সু-বণ্টন  এবং আয় বাড়ানো। বাকি পয়েন্ট ৫ শতাংশ যে রাজ্য যত ভালো কাজ করবে সেই নিরিখে দেওয়া হবে।

৩১ মে পর্যন্ত বাড়ল লকডাউন, চলবে না বিমান-মেট্রো

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১৭ মে: ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মতোই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র।

চতুর্থ দফার লকডাউনেও বন্ধ থাকছে রেল এবং বিমান পরিষেবা। একই সঙ্গে শপিং মল, সিনেমা হল, জিম, সুইমিং পুল, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ সমস্ত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাজকর্মও বন্ধ থাকছে।
এবারও সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরের দিন সকাল ৭ টা পর্যন্ত  দেশজুড়ো জারি থাকবে নাইট কারফিউ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য পরিষেবা পুলিশ প্রশাসন সংবাদকর্মী সহ অত্যাবশ্যকীয় কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া  কেউ ওই সময় বাইরে থাকতে পারবেন না। রাজ্য হলে চাইলে সেইসময় ১৪৪ জারি করতে পারে । শুধুমাত্র গণপরিবহণ ব্যবস্থা এবং গ্রিন, অরেঞ্জ ও রেড জোনে কীভাবে আর্থিক কাজকর্ম সচল থাকবে, তার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নেবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

এদিন বিকেলে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, লকডাউন তিন-এর মতোই লকডাউন চারেও করোনা সংক্রমণ আটকাতে অধিক মানুষ জমায়েত হতে পারেন এরকম সমস্ত জায়গা বন্ধ রাখা হবে।
শ্রমিক স্পেশাল এবং বিশেষ ট্রেনগুলি ছাড়া সমস্তরকম রেল পরিষেবা ও বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকবে। কিন্তু আন্তঃরাজ্য বাস চলাচলের ক্ষেত্রে যদি দু’টি রাজ্যের সম্মতি পাওয়া যায় তাহলে ছাড় দেওয়া হয়েছে এই পর্যায়ে।

গণপরিবহণ ব্যবস্থা রাজ্যগুলির ওপর ছাড়লেও অতি সংক্রমিত অঞ্চল অর্থাৎ কনটেন্টমেন্ট জোনে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।
তবে রেড এবং অরেঞ্জ জোনের এর মধ্যে কোনটা কনটেনমেন্ট জোন বলে বিবেচিত হবে এবং কোনটা বাফার জোন হবে, সেটা ঠিক করার স্বাধীনতা রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে।

মোদির প্যাকেজে বাংলা স্বনির্ভর হবে: দিলীপ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা, ১৭ মে: মোদিজির আর্থিক সংস্কার বাংলাকে স্বনির্ভরতার রাস্তা দেখাবে। রবিবার এমনটাই দাবি করলেন দিলীপ ঘোষ।
‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পে ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ

ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের ঘোষণায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ৪০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন। তাঁরা আবার কবে কাজে যোগ দিতে পারবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই তাঁরা যাতে রাজ্যে ফিরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পান সেই চেষ্টা করছে কেন্দ্র। আমাদের রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রের আর্থিক সংস্কারকে কাজে লাগাতে পারে তাহলে লাভবান হবে।’

কীভাবে? ব্যাখ্যা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রের প্যাকেজ যদি ঠিকঠাকভাবে রাজ্য কাজে লাগাতে পারে তাহলে রাজ্যের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের পথ সুগম হবে। পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের সুযোগ বেশি, শ্রমিক বেশি, আয়ের সুযোগও বেশি। জিএসপি খাতে রাজ্যের আয়ের সুযোগও বেশি। কেন্দ্র রাজ্যকে জিএসপি খাতে প্রাপ্য টাকা মিটিয়েও দিয়েছে। তাই এখানে যত চেঁচামেচি করুন না কেন, দিদি দিল্লি গিয়ে মুখ খোলেন না।’

বিজেপির মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মোদিজির মতোই আর্থিক সংস্কার করতে চেয়েছিলেন, পারেননি। করোনার ফলে সারা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। ভারত তার বাইরে নয়। বহু মানুষ কর্মহীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আর্থিক সংস্কারের পথে হেঁটেছে সরকার। পরিযায়ী শ্রমিক ছাড়াও পর্যটন, খেলাধুলো, চিকিৎসা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই অর্থের জোগানের সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও দুগ্ধ উৎপাদন, মৎস্যচাষ, মৌমাছি পালন এই ক্ষেত্রগুলিতেও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সবার আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যেই এই সংস্কার। ‘

ট্রেনভাড়া নয়, শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দিন, পরিযায়ী ইস্যুতে দিদিকে কটাক্ষ রাহুলের

রক্তিম দাশ, কলকাতা, ১৭ মে: শনিবারই টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেছিলেন,‘ভিন রাজ্যের আটকে পড়া পরিয়ায়ি শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে আনতে রেলভাঙা রাজ্য সরকার দেবে।’ তাঁর এই টুইটকে কটাক্ষ করে রবিবার বিজেপির কেন্দ্রীয়নেতা রাহুল সিনাহা বললেন,‘ পরিয়ায়ি শ্রমিকদের ট্রেন ভাড়া না দিয়ে ওই ঠাকা ওঁদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি পাঠিয়ে দিন মুখ্যমন্ত্রী।’

এদিন রাহুল সিনাহা বলেন,‘ রেল ভাড়া নিয়ে টুইট করে  মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ভাড়া দিয়ে দেবেন। আমরা প্রশ্ন রাজ্যের কি টাকা বেশি হয়েছে? এতদিন তো দিদি চিৎকার করছিলেন রাজ্যের ভাড়ারে টাকা নেই টাকা নেই বলে। তা এখন উনি এতো টাকা পেলেন কোথায় যে পরিযায়ী শ্রমিকদের সব রেলের ভাড়া একাই মিটিয়ে দেবেন।’

রাহুলবাবু দাবি জানিয়ে বলেন,‘ রেলের ভাড়া ৮৫ শতাংশ কেন্ত্র আর ১৫ শতাংশ রাজ্যকে দিতে হবে। আমি বলছি, পরিযায়ী রেলভাড়ার টাকা দিদির দেওয়ার দরকার নেই উনি ওই টাকাটা শ্রমিকদের দিন। শ্রমিকদের হাতে দিতে বলতে পারছিনা। কারণ দলটার নাম তৃণমূল। টাকা হাতে দিলে তার থেকেও কাটমানি খাবে। টাকাটা শ্রমিকদের ব্যাংকের একাউন্টে পাঠান না। আমরা একটু দেখি।’
রেলের ভাড়া থেকেও এখন গুরুত্বপূর্ণ ভিনরাজ্য থেকে কত দ্রুত বাংলার শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা যায় বলে এদিন মন্তব্য করেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

রাহুলবাবু বলেন,‘পরিযায়ি শ্রমিকদের ভাড়া কে দেবে তা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। কবে তাঁরা ফিরবে তা নিয়ে ওঁনার মাথা ব্যাথা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য ১০৫টি ট্রেনের ব্যবস্থা করেছেন। এমনিতেই লকডাউনের ৫০ দিন অতিক্রান্ত। এতো শ্রমিক বাড়ি ফেরার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবেন? উনি ৭ দিনে ১০০ ট্রেন চান। তার পর ৭ দিন পর আরও একশো ট্রেন চান। এখাবে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দ্রুত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনুন। কেন্দ্র সরকার নিশ্চয় তার ব্যবস্থা করবে। আমরা দরকার হলে বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রীকে বলব। শ্রমিকদের আর যেন পায়ে হেঁটে বাংলায় ফিরতে না হয়।’

এদিন দেশের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হার শতাংশে সবচেয়ে বেশি উল্ল্যেখ করে রাহুলবাবু বলেন, ‘সংক্রমণ গোপন করে, মৃতদেহ লুকিয়েও যে মৃত্যুর হার সামনে এসেছে তাতেও বাংলা একনম্বর। এত মৃতদেহ লোপাটের ঘটনা যদি না হতো তাহলে কত হতো? পুরো স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কি অবস্থা নার্সরা চলে যাচ্ছে? কারণ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নেই। তাঁদের জোর করে দমন-পিড়ন করে কাজ চলছে। রাজ্য সরকার এখনও রাজনীতি বন্ধ না করলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হবে। বেসরকারি পরিষেবা অচল হলে  সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাও অচল হবে। কারণ  বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্টাগুলো আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।’

মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন! তোপ বাসমালিকদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৭ মে: মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন। রাজ্য সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ার পর রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই অভিযোগে সরব হলেন বেসরকারি বাস মালিকরা। জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার। ভাড়া বাড়ানো না হলে রাস্তায় বাস নামবে না।’

করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে বাস চালাতে হবে। এই অবস্থায় লোকসান থেকে বাঁচতে বাসভাড়া তিনগুণ করার প্রস্তাব দেয় বেসরকারি বাস মালিক সংগঠন। যার ফলে ন্যূনতম ভাড়া দাঁড়ায় ২০ টাকা। কিন্তু এরপরই শনিবার পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বেসরকারি বাস মালিকদের দাবি অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানো হবে না। করোনা পরিস্থিতিতে ভাড়া বাড়িয়ে মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে রাজি নয় সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে হতাশ বাস মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখেননি।

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, বেসরকারি বাসের ভাড়ার ব্যাপারটা মালিকদের উপর ছেড়ে দিচ্ছি। যাঁরা পারবেন বাসে উঠবেন, যাঁরা পারবেন না উঠবেন না। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে কী এমন ঘটল যে, পরিবহণমন্ত্রী ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন?  জানিয়ে দিলেন মানবিক সরকার ভাড়া বাড়াতে পারবেন না? আমাদের প্রশ্ন, সরকার কি আমাদের প্রতি একটু মানবিক হতে পারেন না?’

তপনবাবু বলেন, ‘সরকার তো  ডিজেলের উপর ১৮ টাকা সেস তুলে নিতে পারেন। ডিজেলের উপর জিএসটি বসাতে পারেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছিলাম। এতদিন বাসগুলো পড়ে রয়েছে। রাস্তায় নামানোর আগে কিছু মেরামতি দরকার। তাছাড়া এতদিন বাস বন্ধ, শ্রমিকদের যতটা পেরেছি সহায়তা করেছি। কিন্তু বাসমালিকদের রোজগারও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে সরকার আর্থিক প্যাকেজ দিলে আমরা উপকৃত হতাম। কিন্তু সে ব্যাপারেও সরকার নীরব।’

সারা বাংলা বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা জানতাম কোন কোন রুটে বাস চলতে পারে, সে বিষয়ে সরকারি তরফে একটা নির্দেশিকা আসবে। সেইমতো একটা পরিকল্পনার পরে ভাড়ার বিষয়ে সরকার নির্দেশিকা জারি করবে। তাছাড়া সোমবার থেকে বেসরকারি বাস পরিষেবা সম্বন্ধে যা বলা হচ্ছিল তাও ঠিক নয়। সরকারের তরফে একবারও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু যেভাবে ভাড়ার ব্যাপারে পরিবহণমন্ত্রী ঘোষণা করলেন তাতে আমরা হতাশ। তাছাড়া ২০ জন যাত্রী নিয়ে যে ভাড়াই ঠিক হোক আমরা চালাতে পারবো কি না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সরকারি বাস যেমন পুলিশ পাহারায় চালাতে হচ্ছে। বেসরকারি বাস চালাতে আমরা তো আর পুলিশি পাহারা পাব না। নিশ্চিত ভাবেই আমরা নিজেদের আরও ক্ষতি করে বাস পথে নামাব না।’

পুরো সংবাদপত্র পড়তে সাবস্ক্রাইব করুন epaper.jugasankha.in

Related Articles

Back to top button
Close