fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমেরিকা থেকে প্রবাসী বাঙালিদের পাঠানো টাকায় কুলটির যৌনপল্লীর পড়ুয়াদের খাওয়ানো হল খাবার

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: সূদূর আমেরিকায় থাকা প্রবাসী বাঙালিরা এগিয়ে এসেছেন। তাদের পাঠানো আর্থিক অনুদানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটির সীতারামপুরের লছিপুর দিশা জনকল্যাণ কেন্দ্রের পড়ুয়াদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের মধ্যাহ্নভোজন বা দুপুরের খাবার খাওনোর পর্ব শুরু হল। বুধবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা ববিতা দাস মহাশয়া।

দিশায় গত এক মাস ধরে চলে আসা এই প্রয়াসের অন্যতম উদ্যোক্তা আসানসোল ইষ্টার্ন রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র এদিন বলেন, আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় ফেয়ারফাক্স শহরের প্রবাসী বাঙালি প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, সমীর নন্দী ও তরুণ রায় এবার ৪৪,৫৫১ টাকা পাঠিয়েছেন ৷
বিশ্বনাথবাবু ববিতা দাসকে এদিন আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চাই সমাজের সকল স্তরের মানুষ এই মহান কাজে যুক্ত হোক ৷ লছিপুরের যৌনপল্লী ছাড়াও কাঁকড়শোল, নিয়ামতপুরের বহু অভাবী পড়ুয়া এই স্কুলে পড়াশুনা করে ৷ তাদের জন্যেই প্রতিদিন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা চালু থাকবে।

ববিতা দাস এই প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বনাথবাবুদের এই অভাবনীয় উদ্যোগে সামিল হতে পেরে আমি গর্বিত ৷ দিশা জনকল্যাণ কেন্দ্রটি যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে ও নিয়মিত স্যানিটাইজেশন করা হয় তারজন্য আসানসোল পুরনিগমের সুপারভাইজারকে নির্দেশ দিয়েছি। যে কোন প্রয়োজনে বিশ্বনাথবাবুদের পাশে থাকবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
আরো এক প্রবাসী বাঙালি

আসানসোলের বারাবনির বাসিন্দা পল উপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওয়াশিংটন থেকে ফোনে বললেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের জন্য যাবতীয় ব্যয় তাদের তৈরী করা গ্রুপ “হেল্প ফর সীতারামপুর” বহন করবে ৷ দিশার অন্যতম কর্মকর্তা রজনী দাস বলেন, এদিন প্রায় ১০০ জন পড়ুয়া ও বেশ কয়েকজন অভিভাবক খাবার খেয়েছেন ৷ আসানসোলের মহীশিলা কলোনির অ আ ক খ ক্লাবের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস এদিন খিচুড়ি ও ডিমের কারি রান্না করেন। পড়ুয়ারাও তা খেয়ে খুব খুশি ছিলো। এদিন অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটসের তৃপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, প্রথম দিকে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মানুষের আর্থিক সহায়তায় পড়ুয়াদের সপ্তাহে দুদিন করে দুপুরের খাবার খাওয়ানো শুরু হয়েছিলো। পরে, এক প্রবাসী বাঙালি দেবব্রত দাস এই উদ্যোগের কথা জানার পরে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। এবার এগিয়ে এলেন অন্যরাও।

Related Articles

Back to top button
Close