fbpx
কলকাতাহেডলাইন

১লক্ষ কোটির বেশি ক্ষতি রাজ্যে, কেন্দ্রীয় দলকে রিপোর্ট দিল নবান্নের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  আমপান বিধ্বস্ত উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনা গত দু’দিন ধরে সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে। ২ দিনের সেই সফর শেষে শনিবার বিকেলে নবান্নে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করে তারা। সেই বৈঠকেই রাজ্যের তরফে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আম্ফানে ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক তালিকা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা।

নবান্নে এদিন ওই প্রতিনিধি দল মুখ্যসচিবের সঙ্গে যে বৈঠক করেন তাতে অংশ নেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র, অর্থ, কৃষি, বিদ্যুত্‍, সেচ, পূর্ত, বন, শিল্প, পঞ্চায়েত, উদ্যান ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি দফতরের আধিকারিকেরাও। সেখানেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের হাতে রিপোর্ট তুলে দেন রাজীব সিনহা। এই রিপোর্টই জমা পড়বে কেন্দ্র সরকারের কাছে। এর ভিত্তিতেই কেন্দ্র থেকে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করা হলেও হতে পারে। জানা গিয়েছে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে এদিন তাতে ৩০হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হয়েছে বাড়ি ভেঙে যাওয়ার জন্য। কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতির মোট পরিমাণ ১ লক্ষ ২ কোটি টাকা। যদিও এই বিপুল ক্ষতিপূরণের দশ শতাংশও কেন্দ্র বরাদ্দ করবে কিনা সন্দেহ। তবুও রাজ্য সরকার কোনও ত্রুটি রাখেনি হিসাব পেশ করতে।

আরও পড়ুন: আগে নিজে বাঁচুন, পরে মোদিকে হটানোর চিন্তা করবেন: রাহুল সিনহা

নবান্নের পেশ করা রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যে প্রায় ২১ লাখ ২২ হাজার গবাদি পশু মারা গিয়েছে। হয় ঝড়ে বা জলের স্রোতে ভেসে মারা গিয়েছে, নয়তো পরবর্তীতে মারা গিয়েছে। আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪০টি স্কুল এবং ৩০১টি কলেজ-সহ ১২ হাজার ৬৭৮টি আইসিডিএস শিক্ষাকেন্দ্র। নদী বাঁধ ভেঙেছে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার সমুদ্র বাঁধ। নবান্নের পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির বনভূমি ধ্বংস হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়ে। তার বেশিটাই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ। শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, আমপানের তাণ্ডবে শহরাঞ্চলে রাস্তাঘাট, বিদ্যুত্‍ স্তম্ভ, ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থা, জল সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার— দাবি নবান্নের।

নবান্নের তরফে স্পষ্টই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় নগন্য। এর পরেই কেন্দ্রীয় দল আসে রাজ্যে। সাত সদস্যের আন্তঃমন্ত্রক ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অনুজ শর্মা। এ ছাড়াও ছিলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধিকর্তা নরেন্দ্র কুমার। দলে মত্‍স্য চাষ দফতর, শক্তি মন্ত্রক এবং পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

Related Articles

Back to top button
Close