fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানে ইচ্ছামতীর গর্ভে ডুবেছে তিন শতাধিক নৌকা, বিপাকে মৎস্যজীবীরা

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: বসিরহাটে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ইটিন্ডা ফেরিঘাট থেকে পানিতর সীমান্ত পর্যন্ত ইচ্ছামতী নদীর ওপর প্রায় তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ নদীগর্ভে। আমফান ঝড়ে মৎস্যজীবীদের তিন শতাধিক নৌকা ডুবল ইচ্ছামতীর গর্ভে। বিপন্ন ৪০০০, মৎস্যজীবী পরিবার। সব মিলিয়ে কুড়ি হাজার মানুষ আজ সর্বশান্ত। করোনা-লকডাউন এর জন্য খাবার মজুদ করা চালডাল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বইপত্র ও নথিপত্র এছাড়া নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র কেড়ে নিল ইছামতি নদী আমফানের ধ্বংসলীলার মধ্যে। সামনে ৩রা জুন ভরা কোটাল, তার মধ্যেও আতঙ্কের মেঘ দেখছে বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতির তীরের মৎস্যজীবী থেকে মৎস্যজীবী পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। এখনো ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় পাঁচশতাধিক মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিশিষ্ট সমাজসেবী তৃণমূল নেতা শরিফুল মন্ডলের উদ্যোগে চলছে তাদের দু বেলা খাবারের বন্দোবস্ত। সবমিলিয়ে দুর্যোগের থেকে আজ পর্যন্ত আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সংকল্প নিয়েছেন, এই বিপর্যয় থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে যতটুকু প্রয়োজন সেটা করে যাব। এই লড়াইতে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। যতদিন পর্যন্ত মৎস্যজীবী থেকে মৎস্যজীবী পরিবার স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের পাশে দাঁড়াবেন। গত ২০শে মে সেই অভিশপ্ত রাত্রিরের কথা মনে উঠলে শিয়রে উঠশে গ্রামবাসী রাবেয়া বিবি। তিনি বলেন, ওই দুর্যোগের রাতে আমাদের পাড়ার ছোট ছোট শিশু সন্তানদের ত্রাণশিবিরে না যেতে পারলে,আর হয়তো আমাদের সকালের সূর্য ওঠা দেখতে পেতাম না। সামনে ভরা কটাল নদীর দিকে তাকিয়ে বসে আছে, রাত পাহারায় বসেছে ইচ্ছামতী পাড়ের মানুষেরা। নদীগর্ভে চলে যাওয়া তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ অবিলম্বে মেরামতি না হলে আরও বড় বিপদের সামনা সামনি হতে হবে। আমাদের আর কিছু নেই যা দিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করবো, জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে গেছে।

আরও পড়ুন: হোয়াইট হাউস চত্বরে বিক্ষোভ, ভয়ে মাটির তলায় লুকিয়ে থাকলেন ট্রাম্প

ইতিমধ্যে ইছামতি নদীর জলে তিনটি গ্রাম জলবন্দি রয়েছে। নদীতে প্রায় ৩০০ নৌকা ডুবেছে। তেমনি নদীর পাড়ে থাকা নৌকাগুলো ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ করে দিয়েছে। এমনকি আস্ত একটি নৌকা ঝড়ের তাণ্ডবে দু’টুকরো হয়ে গেছে। যেটুকু আছে কঙ্কাল চেহারার রূপ নিয়েছে। সবমিলিয়ে সীমান্তের ইছামতীর পাড়ে ইটিন্ডা পানিতার গ্রাম পঞ্চায়েতের এই তিনটি গ্রাম ইটিন্ডা, পানিতর, নাগরাজ পাড়া,প্রহর গুনছে সামনে ভরা কটাল, আবার কি নতুন করে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হবে।
গত ১২ দিন আগেই আম্ফানের তান্ডব দেখেছে গোটা রাজ্য। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই ঘোজাডাঙ্গা পানিতর সীমান্ত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আমফানের তাণ্ডবে। পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি লেগেই আছে ইছামতি লাগোয়া পানিতার গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম। ওপারে বাংলাদেশ ভারতবর্ষের মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতি। আমফানের সময়ে ভয়ঙ্কর চেহারার নেয় এই ইছামতি। তাই ভরা কটাল এর আগেই কোমর বেঁধেছে গ্রামবাসীরা। যাতে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা ঠেকানো যায় সেজন্যই এই উদ্যোগ।

Related Articles

Back to top button
Close