fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খপশ্চিমবঙ্গ

মশারির মধ্যে মা ও ছেলের দেহ, পাশের ঘরে ঝুলছেন মামা! ব্যাপক চাঞ্চল্য মন্তেশ্বরে

নিজস্ব প্রতিনিধি: একই পরিবারের তিনজনের রহস্য-মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে। বিছানায় মশারির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলা ও তাঁর ছেলের দেহ। অন্যদিকে পাশের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছে মহিলার ভাইকে। মন্তেশ্বরের খান্দরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অশান্তির জেরে  ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিদি এবং ভাগ্নেকে খুন করার পর ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন।

মালবিকা চক্রবর্তী নামে বছর পঞ্চাশের ওই মহিলা খান্দরার বাসিন্দা। প্রায় ১৫ বছর আগে মৃত্যু হয় তাঁর স্বামীর। ছেলে কৌশিককে সঙ্গে নিয়েই বাস করতেন তিনি। তাঁর একটি মেয়েও রয়েছে। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বেশ কয়েকবছর আগে নাদনঘাট থানার দীর্ঘপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহিলার ভাই উৎপল চট্টোপাধ্যায় দিদির বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেন। প্রতিদিনের মত

রবিবার সকালেও বাড়িতে আসেন মালবিকার পরিচারিকা। কিন্তু অনেক ডাকাডাকি করেও তাঁদের সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তখন ওই পরিচারিকা  মহিলার মেয়ে, জামাইকে সেকথা জানান। এরপরই  মালবিকার মেয়ে ও জামাই ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরাও বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন তাঁরা। উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে একটি ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশের ঘরটিতে তালা দেওয়া ছিল। তাই ওই ঘরে আর ঢোকেননি তাঁরা। খবর দেওয়া হয় মন্তেশ্বর থানার পুলিশ।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। দেখা যায় বন্ধ ঘরে মশারি টাঙানো রয়েছে। বিছানায় শুয়ে রয়েছেন মহিলা এবং তাঁর ছেলে। এরপর তিনজনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণ ঘুমের ওষুধ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিদি এবং ভাগ্নেকে খুন করে  আত্মহত্যা করেছেন উৎপল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই দিদি ও ভাগ্নের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল উৎপলের। তবে কি কারণে অশান্তি শুরু হয়েছিল, সে ব্যাপারে তাঁরা কিছু বলতে পারেননি। তবে স্থানীয়দের দাবি অশান্তির কারণেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। মন্তেশ্বর থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মৃতার মেয়ে এবং জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close